ক্রসফায়ার আতঙ্কে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে

IMG_20180530_090806.jpg

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম :
মাদক নির্মূলে গত ৪ মে থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে ক্রসফায়ার আতঙ্কে ভুগছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে একের পর এক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা মারা যাওয়ার ঘটনায় এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে ইয়াবা কারবারিরা। মাদক নির্মূলে সরকারের যুদ্ধ ঘোষণার পরও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে থামছে না ইয়াবা পাচার। মহাসড়কের একাধিক স্থানে পুলিশের তল্লাশি চৌকি ফাঁকি দিয়েও সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে ইয়াবার চালান। গত ২৫ মে রাতে উপজেলা পরিষদের সামনে চট্টগ্রামমুখী শ্যামলী পরিবহনে লোহাগাড়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪ হাজার পিস ইয়াবসহ বাসের চালক মাসুদ রানা, হেলপার আবুল কালাম ও জয়নাল আবেদীনকে আটক করে। একটি সূত্রে জানা যায়, এখনো ইয়াবার উৎসপথ সুরক্ষিত থাকা, ইয়াবাচক্রে জড়িত নারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা অধরা থাকায় সীমান্ত থেকে ছড়িয়ে পড়ছে এর চালান। জল ও স্থলপথে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ইয়াবা আসে মিয়ানমার থেকে।

গত কয়েক দিনের অভিযানে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কোথাও তালিকাভুক্ত শীর্ষ কোনো মাদক ব্যবসায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সাতকানিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ১০ দিনে থানায় মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ১০টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। এ সব মাদকের সঙ্গে জড়িত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্রসফায়ার আতঙ্কে খুচরা বিক্রেতাসহ সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তারা মোবাইল নম্বরও পরিবর্তন করেছে। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাঁড়াশি অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীরা একের পর এক মারা যাওয়ার পর থেকে সেবনকারীদেরও দেখা মিলছে না এলাকায়। খুচরা ও তালিকাভুক্তরা মাদক কারবারিরা নম্বর পাল্টে নতুন সিম ব্যবহার করে কেউ কেউ ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। সাতকানিয়ায় পুলিশের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিদের অন্যতম ছদাহার কুতুব উদ্দিন অনেক আগে থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। আবার একাধিক সূত্র বলছে কুতুব ইয়াবা ডন হিসাবে পরিচিতি ছড়িয়ে পড়লে গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক আগেই বিদেশে পালিয়ে গেছে। সাতকানিয়ায় পুলিশের তালিকায় দুই নম্বরে থাকা বাজালিয়ার বড়দুয়ারার জাহেদুল ইসলাম ইয়াবার জগতে পা দিয়ে রিয়াজউদ্দিন বাজারের দোকান কর্মচারী থেকে বনেছেন বিশাল অর্থের মালিক। জাহেদ মাদক নিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। পরে জমিনে বের হয়ে আড়ালে থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জাহেদ।

পটিয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর জানান, আমরা দুধরনের মাদক কারবারিদের তালিকা সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি। মাদক কারবারির যে তালিকা আমাদের কাছে আছে সেখানে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কয়েকজন, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ছাত্ররাজনীতির অনেকে নাম আছে। এসব তালিকা প্রতি মাসে হালনাগাদ করা হয়। আবার কিছু ব্যক্তির নাম তালিকায় গ্রুপিংয়ের কারণে চলে আসে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে মাদকের সঙ্গে জড়িদের হাতেনাতে ধরে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। সাতকানিয়া ছদাহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সারাদেশে বন্দুকযুদ্ধে মাদক কারবারিরা নিহত হওয়ার পর থেকে এখানকার মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। ক্রসফায়ার আতঙ্কে মাদক কারবারিরা এলাকা ছেড়েছে। পুলিশ মাদকের সঙ্গে জড়িতদের ঘরে ঘরে প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ী এলাকায় না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হোসেন বলেন, মাদক কারবারিরা দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় তাদের ধরার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। গত কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Top