সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষকরা ন্যয্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে,

IMG_20180531_035832.jpg

মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান,নরসিংদী প্রতিনিধি : সবজিবান্ধব জেলা হিসেবে পরিচিত নরসিংদী। এ জেলায় প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সারা বছর সবজি চাষ করা হয়। নানা জাতের সবজির ব্যাপক ফলন হলেও হিমাগার না থাকায় তা সংরক্ষণ করতে পারছেন না চাষিরা। এ কারণে কম দামেই সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। নয়তো খেতের সবজি খেতেই নষ্ট করছেন বা গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। আর এসব সবজি রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সিলেটে সরবরাহ করা হয়। কৃষকের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ, ‘জমির ফসল সংরক্ষিত হবে হিমাগারে, ন্যায্য মূল্য পেয়ে কষ্ট ঘুচবে কৃষকের।’ তা পূরণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় হিমাগার স্থাপনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবেও এ পর্যন্ত কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সম্প্রতি রায়পুরা উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পাইকারি সবজির হাট জঙ্গি শিবপুর, বেলাব উপজেলার বারৈচা পাইকারী সবজি হাট ও শিবপুর উপজেলার যশোর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজি চাষিরা ভ্যান, রিকশা ও মাথায় করে বিভিন্ন স্থান থেকে নানা প্রকারের শাকসবজি নিয়ে বাজারে নিয়ে আসছে। বাজারের সীমানা ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একপাশ অনেকাংশে দখল করে রেখেছে বিক্রেতারা। পাইকারি ক্রেতারা সবজি কিনে পাশে দাঁড়ানো ট্রাকভর্তি করছে। শত শত পাইকারি ক্রেতা আর সবজি নিয়ে আসা কয়েক হাজার কৃষকের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে সবজি বাজার।

কৃষকেরা বলছেন, হিমাগার না থাকায় সবজি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কম দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সারা বছর বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাইরে থেকে তা আনতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতাকেও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।

জঙ্গি শিবপুর সবজি হাটের পাইকারি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফসল কম হলেও কৃষকের মরা, বেশি হইলেও মরা। কম হইলে খরচ ওঠে না। আর বেশি হইলেও পাইকাররা দাম দেখায়, কিনতে চায় না আর আমরাও মাল (সবজি) বেঁচতে পারি না। পরে কম দামে ধর্ণা দিয়া সবজি বেচতে হয়। কিন্তু আমগো খরচা তো আর কম হয় না। এলাকায় যদি একটা সবজি না পচনের ঘর থাকত (হিমাগার) তা হইলে একটু বাঁচা হইত।’

বারৈচা গ্রামের সবজি চাষি মোতালেব মিয়া বলেন, ‘সবজি চাষ করতে এখন সার-কীটনাশক দিতে যে টাকা খরচ হয়, সেই টাকা উঠানো কষ্ট। কারণ পাইকারি হাটে সব সময় তো আর দাম এক রকম থাকে না। অনেক ওঠানামা করে। যদি সবজিগুলো রাইখা (সংরক্ষণ) বেচার সুযোগ থাকত, তাহলে একটু লাভের মুখ দেখতাম।’

চর উজিলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বারৈচা পাইকারি সবজি বাজার কমিটির সভাপতি আকতারুজ্জামান বলেন, ‘আশপাশের ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার চাষি রয়েছে। আমরা কৃষক, তাই আমাদের ভালো-মন্দের দিকে নজর দেওয়ার কেউ নেই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক লতাফত হোসেন বলেন, ‘নরসিংদীতে সারা বছরই বাণিজ্যিকভাবে সবজি উৎপন্ন করা হয়। জেলায় বার্ষিক দুই লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিন টন সবজি চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। তাই বেসরকারিভাবে একটি হিমাগার স্থাপন অতি জরুরি। এতে কৃষকরা পুরো মৌসুমে সবজির জোগান দিয়ে লাভবান হতে পারত।’

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘জেলার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখানকার সবজি এলে পরে থাকে না। এই কারণে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কেউ হিমাগার করতে উদ্যোগী হয় না।’

Top