গংগাচড়ায় তিস্তার ভাঁঙ্গনের মুখে জুম্মাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাইকান আকবারিয়া মাদ্রাসা

IMG_20180528_193813.png

আব্দুল মুনঈম,রংপুর প্রতিনিধি

তিস্তা ডানতীর বাঁধের কাজ সঠিক সময় না হওয়ায় ভাঁঙ্গন, হুমকির মুখে পাইকান জুম্মাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। আগামী জুনের মধ্যে কাজ হচ্ছে না, এ অবস্থায় ভাঁঙ্গন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, গত তিন বছর আগে ভাঁঙ্গন এসে ঠেকেছে বিদ্যালয়ের একদম কাছে। কোনো রকমে ভাঁঙ্গন ঠেকানো হয়। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তার ডানতীর বাঁধ রক্ষার্থে গত বছর ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২টি প্যাকেজে কাজ শুরু করে। তবে বিভিন্ন প্যাকেজে কাজের গতি ভিন্ন। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের সামনে বাঁধের কাজের অগ্রগতি কম। ইতোমধ্যে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে কাজ শেষ না হলে যে কোনো সময় তিস্তার ভাঁঙ্গনে পাইকান জুম্মাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পাইকান পীরপাড়ার প্রায় ৫০ পরিবার নদীতে বিলীন হতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, ঠিকাদারের কাজে গাফিলতির কারণে বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। হঠাত্ করে পানি বৃদ্ধি পেলে বিদ্যালয়টি এ বছর ভাঁঙ্গন হুমকির মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত বছরের ভাঁঙ্গনে একদম বিদ্যালয়ের কাছে। এ বছর ভাঙন রোধে বিদ্যালয়ের সামনে ব্লক ডাম্পিং করলেও এখনো ব্লক পিচিং এর কাজ বাকি রয়েছে। এলাকার শাহজাদা, রফিকুল, মুকুল, মশিউর, নুর ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সামনে পিছনে কাজ হলেও এই অংশের কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। মূল ঠিকাদার থেকে হাত বদল হওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল আলম বাঁধের কাজ সঠিক সময়ে না হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও কাজ করছে না। তবে এর মধ্যে আর কাজ হওয়ার সুযোগ নেই।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, জুনের মধ্যে আর কাজ হবে না। জুনের পরে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ করা হবে। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের জরিমানা করা হবে। এর মধ্যে যদি ভাঁঙ্গনে শুরু হয় সে ক্ষেত্রে করণীয় কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাঁঙ্গনে রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে।

কিন্তু এলাকাবাসী বলছে বালুর বস্তা ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে কাজ করতে চায় এলাকাবাসী এমন কাজ গ্রহন করবেনা, হারাতে হারাতে তারা নিঃসম্বল হয়ে পরেছে।

উল্লেখ্য যে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ নয় সাথে পাইকান আকবারিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদ্রাসাটিও ভাংগনের কোলেই রয়েছে

Top