যশোর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান কামরুল হাসান বারী

33751168_1732236650195718_8838789755954003968_n.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আলহ্জ্বা কামরুল হাসান বারী যশোর-৫ মনিরামপুর আসন থেকে আওয়ামী লীগের এমপি মনোনয়ন পেতে চান। এ লক্ষৈ রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের এই তৃনমূলের রাজনীতিবিদ দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলায় ব্যাপক গন-সংযোগ করছেন। পবিত্র রমজানে ইউনিয়নে ইউনিয়নে ইফতার পার্টিতে শরিক হচ্ছেন। আসছে জাতীয় শোক দিবসে তার ইচ্ছে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করা। এই মুহুর্তে দরিদ্র পরিবারের বিবাহ, অসুস্থ দরিদ্র ব্যক্তির চিকিৎসা, স্কুল-কলেজের শিক্সার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, অগভীর নলকূপ স্থাপন, মসজিদ-মন্দিরে সংস্কার উন্নয়ন এর মত নানাবিধ সামাজিক কাজে তিনি ব্যস্ত। তার ইচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য বা এমপি হিসেবে মনোনয়ন অর্জন। এই আসন থেকে তিনি এমপি হিসেবে বিজয়ী হয়ে জনগনের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এমপি নির্বাচিত হয়ে আধুনিক ডিজিটাল লোডশেডিংমুক্ত আধুনিক কৃষির আধার সতেজ মনিরামপুর গঠন তার একান্ত ইচ্ছে। তিনি মানুষের জন্য, সমাজের অবহেলিত দরিদ্রের
উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন মনিরামপুরের তৃনমূলের প্রতিটি ওয়ার্ড-গ্রামে মাঠে ঘাটে।
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে বিন্যাসকৃত ৩০০ জাতীয় সংসদীয় আসনে যশোর-৫ মনিরামপুর আসনটি জাতীয় সংসদের ৮৯নং আসন হিসেবে চিহ্নিত আছে। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ২,৮৫,৬৯০ জন। ২৪৯টি গ্রাম ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে মনিরামপুর উপজেলা। বর্তমানে জনসংখ্যা ৪,১৭০০০ এর বেশি। যশোর-৫ সংসদীয় অবহেলিত এ জনপদে রয়েছে রাজনৈতিক সংঘাত ও গ্রুপিং। কৃষিনির্ভর এ উপজেলার জনসাধারণের জন্য নেই ভালো কোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র, নেই কোনো শিল্প-কলকারখানা এমনকি ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। রাস্তা-ঘাটের অবস্থা বেহাল। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি জোটের সম্ভাব্য নেতারা এখন নির্বাচনমুখী। তবে উভয় দলেই রয়েছে নেতাদের মধ্যে চরম গ্রুপিং। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য এসব প্রার্থী বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, দোয়া চাচ্ছেন জনসাধারণের কাছে। এদের মধ্যে মানুষের কাছে পৌছাতে বিরামহীন পরিশ্রম করছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আলহাজ্ব কামরুল হাসান বারী। চলতি মাহে রমজানে তিনি ইতোমধ্যে দুটি ইউনিয়ন ৮নং হরিহর নগর এবং ১৭নং মনোহরপুর ইউনিয়নে ইফতারি মাহফিলে অংশ গ্রহন করেছেন।
বাকি ১৫নং ইউনিয়নে তিনি ইফতারিতে সর্বশ্রেনীর মানুষের সাথে মিলিত হবেন। এর আগে বর্নাত্যদের মাঝে ত্রান দিয়েছেন
নিজের টাকায়। প্রকৃতির বিপর্যয়ে বেসামাল মানুষকে দিয়েছেন সামাজিক নিরাপত্তা। ইফতারিতে বঞ্চিত, দরিদ্র,সাধারন মানুষের জন্য তার থাকছে আয়োজন। কামরুল হাসান বারী ইতোমধ্যে মনিরামপুর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০০ টিউবয়েল বা অগভীর নলকুপ স্থাপন করেছেন নিজের টাকায়। বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, মাঠ বা বাজারের গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে তিনি তা বসিয়েছেন। সাধারন মানুষ যাতে খাওয়ার পানি সমস্যায় না পড়ে এজন্য তার এই উদ্যেগ। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আর্থিক অনুদান দিচ্ছেন। সম্প্রতি মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০,০০০ টাকা অনুদান দিয়েছেন। একই ইউনিয়নের নয়টি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে হরিদাসকাঠি ও কুলটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তিনি রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মান করেছেন। আর সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছেন মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে। স্কুল গুলোকে আধুনিক ইন্টারনেট তথা ওয়াইফাই সংযোগ দেবেন বলে উৎযোগী হয়েছেন। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আলহ্জ্বা কামরুল হাসান বারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স ও মাস্টার্স পড়াশুনা সম্পন্ন করেছেন ১৯৯০ সালে। সেখানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রানপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী ছাত্রলীগে রাজনীতির হাতে খড়ি তার। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা হন। এসময় বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল
কাদের সেসময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করে বারী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতের প্রথম, ঐতিহ্যবাহী যশোর জেলার দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলার ১নং রোহিতা ইউনিয়নের পলাশী গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব আলী আকবর পাটোায়ারি। মাতা মরহুমা মজুবা বেগম। তারা পাঁচ ভাইবোন। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের তিনি ছোট। তার পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে নানাবিধ সহায়তা করেছেন আর বড় ভাই হোসেন আলী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব অর্জন করেছেন। একারনে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। বর্তমানে তিনি রাজধানি ঢাকায় ব্যবসা করছেন। তার রয়েছে নিজস্ব ঠিকাদারি ফার্ম। তার নিজের পারিবারিক জীবনে স্ত্রী ছাড়াও আছে দুই কন্যা, আত্মীয় স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্খী। তার থেকেও বড় কথা মনিরামপুরের রাজনীতিতে তিনি ক্লিন ইমেজের মানুষ। সাধারন মানুষের কাছে তিনি একজন সেবক।
যখন যার পুত্র কন্যার বিবাহ আটকে যাচ্ছে বা দরিদ্রদের কেউ অসুস্থ হলেই তিনি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করছেন।

Top