দোয়ারাবাজারে আসামী পক্ষের পুকুরের মাছ লুট ও মারপিটের অভিযোগ,সাংবাদিকের উপড় চড়াও

duara-bazar-1.jpg

আব্দুল মুতালিব ভুইয়া,সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খুনের মামলার আসামীর মাছ লুট করে বাদী পক্ষের পুকুরে ছাড়ার অভিযোগ ওঠেছে। শুক্রবার দুপুরে ঘটনা সরেজমিনে দেখতে গেলে সাংবাদিকের উপরও চড়াও হন বাদী পক্ষের লোকজন। উপজেলার সদর ইউনিয়নের টেবলাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
গত ২০ এপ্রিল টেবলাই গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক এবং সিরাজ মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বুরহান উদ্দিন ২০ দিন পর মারা যান। এ ঘটনায় ৫৫ জনকে আসামী করে খুনের মামলা দায়ের হয়। মামলার আসামীদের সকলেই বাড়ি ছাড়া। এ সুযোগে বৃহস্পতিবার রাতে আসামীপক্ষের পুকুরের মাছ তুলে বাদী পক্ষের লোকজন তাদের পুকুরে ছেড়ে দিয়েছেন বলে আসামী পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেছেন। ঘটনা সরেজমিনে দেখতে গেলে বাদীপক্ষের লোকজন শুক্রবার দুপুরে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি,দোয়ারাবাজার প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আশিক মিয়াকেও গালিগালাজ করেন।
খুনের মামলার আসামী খসরু মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন,‘বাদীপক্ষের লোকজন সারা রাত পুকুরে মাছ ধরেছে। এই মাছ তারা আব্দুছ ছোবহানের পুকুরে নিয়ে ফেলেছে, মাছ মারার চিহ্ন রয়েছে, আশপাশের লোকজনও দেখেছেন, তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।’ তিনি জানান, শুক্রবার দুপুরে পুকুর দেখাতে সাংবাদিক আশিক মিয়ার সঙ্গে গিয়েছিলেন তারা। বাদীপক্ষের লোকজন এসময় তার শ্বাশুরি রোকেয়া বেগম, তার জা নুরুন্নাহার, আত্মীয় আল্লাদুন্নেছাকে মাটিতে ফেলে মারধর করেছে।
পুকুরের পাশের বাড়ির শফিকুল ইসলাম ও ফুলবানু বেগম বলেন,‘রাতে পুকুরে মাছ মারা হচ্ছে দেখে তারা এগিয়ে ছিলেন, তাদেরকে দেখে রামদা দিয়ে কোপ দিতে আসে কয়েকজন, পরে তারা ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দেন।’
আব্দুছ ছোবহান মাছ মারার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘আমরা কারো পুকুরে মাছ ধরিনি। কারো পুকুরের মাছও আমার পুকুরে কেউ রাখেনি। চাষ করা মাছই আমার পুকুরে রয়েছে।’
দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন,‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়, বিকালে আমি নিজেও যাই, কেউ মাছ লুট করেছে কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তিনি জানান, সাংবাদিকের উপর আক্রমণের চেষ্টা করা হচ্ছে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’

Top