আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯ তম জন্মবার্ষিকী

IMG_20180525_231058.jpg

মোঃ আবু সঈদ,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তিনি ১৮৯৯ সালের ২৫ শে মে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সেদিন বাংলা তারিখ ছিল ১৩০৬ সনের ১১ ই জৈষ্ট। তার বাবার নাম ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন।
নজরুলের মা ছিলেন উঁচু পরিবারের মেয়ে এবং বাবা ছিলেন ধর্মপ্রাণ পরিবারের লোক।
বাবার কাছেই নজরুলের বাল্য শিক্ষা শুরু হয়।বাবার মৃত্যুর পর তিনি ভর্তি হন গ্রামের মক্তবে। ধর্মের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। বাল্যকাল থেকে নজরুল গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে কোরআন পাঠ করে কিছু অর্থ উপার্জন করতেন। হিন্দু শাস্ত্র সম্পর্কে তার বেশ ধারণা ছিল। দশ বছর বয়সে তিনি মক্তবের পড়া শেষ করে ঐ মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। গান ছিল তার প্রাণ। কোথাও গানের আসর শুনলেই তিনি ছুটে যেতেন সেখানে। তিনি অনেক গান ও গজল লিখেছেন। নজরুলের বাল্য নাম ছিল দুঃখু মিয়া।
আরবি, ফার্সি ভাষাও তিনি জানতেন। ছাত্র হিসেবে তিনি মেধাবী ছিলেন কিন্তু লেখাপড়ায় মনোযোগ ছিল কম। লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবার মৃত্যুর পর আর্থিক দুরবস্হা তাকে অস্হির করে তুলেছিল। অবশেষে দুর সম্পর্কীয় আত্মীয়ের সহযোগিতায় ভর্তি হন রাণীগঞ্জের সিয়ারসোল হাইস্কুলে কিন্তু সেখানে তিনি বেশীদিন লেখাপড়া করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি ভর্তি হন মাথরুন হাইস্কুলে। নজরুলের পরিবারের আর্থিক অবস্হা ছিল অত্যন্ত করুণ তাই তিনি ব্যথিত হয়ে লেখাপড়া ছেড়ে আসানসোল গিয়ে সামান্য বেতনে চাকরি নিলেন রুটির দোকানে। সারাদিন অনেক খাটুনি উপেক্ষা করেও তিনি রাতের বেলায় গান লিখতেন ও গাইতেন।এসময় পরিচয় হয় আসানসোলের দারোগা রমিজ উদ্দিনের সাথে। তিনি তার আচার-ব্যবহারে, সুন্দর চেহারা ও সুমিষ্ট কন্ঠস্বরে মুগ্ধ হয়ে নিজগ্রাম ময়মনসিংহ নিয়ে আসেন এবং ৭ম শ্রেণীতে দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি করে দেন। সেখানে ও তিনি রাখাল ছেলেদের সাথে ঘুরতেন, নদীতে মাছ ধরতেন।পরীক্ষার সময় খাতায় প্রশ্নের উত্তর না লিখে তিনি কবিতা লিখে খাতা ভর্তি করে শিক্ষকদের অবাক করে দিতেন। এখানে ও লেখাপড়া জমলো না তাই একদিন তিনি কাউকে না বলে বাড়ি ফিরে গেলেন। গ্রামে ফিরে লেটোর দলে কিছুদিন কাটিয়ে এসে আবার ভর্তি হলেন সিয়ারসোল স্কুলে।এসময় তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্হসমুহ পাঠ করতেন। কথা সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখো পাধ্যায়ের সাথে তার সুসম্পর্ক আজীবন অটুট ছিল। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার অতিপ্রিয় আধুনিক কবি।
১৯১৭ সালে ১০ ম শ্রেণীতে পরীক্ষার শুরুর সময়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি ইউরোপে শুরু হলে এশিয়ায় এর প্রভাব পড়ে।নজরুল ইসলাম লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধবিদ্যা শেখার জন্য বাঙ্গালী পল্টনে যোগদান করে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করলেন করাচি সেনানিবাসে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯২০ সাল পর্যন্ত তিনি করাচিতে সেনাবাহিনীতে ছিলেন। বাঙ্গালী পল্টন ভেঙ্গে দেওয়ার পর সেনাবাহিনী জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে এসে তার লেখা এবং সাংবাদিকতা শুরু হয়। ১৯২১ সালে তার বিদ্রোহী কবিতা মোসলেম ভারত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
বিবাহ জীবনে প্রমীলা দেবীর সাথে যার সাথে তার প্রথমে পরিণয় ও পরে বিয়ে হয়েছিল নার্গিস আসার খানমের সাথে। বিয়ের আখত সম্পন্ন হবার পরে কাবিনেমঃ নজরুলের ঘর জামাই থাকার শর্ত নিয়ে বিরোধ বাধে। নজরুল ঘর জামাই থাকতে অস্বীকার করেন এবং বাসর সম্পন্ন হবার আগেই নার্গিসকে রেখে কুমিল্লা শহরে চলে যান এবং প্রমিলা দেবীর সাথে এক পর্যায়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৪২ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ১৯৫৩ সালের মে মাসে নজরুল ও প্রমীলা দেবীকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানো হয়। অবশেষে ১৯৭৬ সালে নজরুলের স্বাস্থ্যেরও অবনতি হতে শুরু করে। জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তারিখে ৭৭ বছর বয়সে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
কবি তার একটি কবিতায় বলেছিলেন:
“মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই, যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”

এই কবিতায় তার অন্তিম ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। তার এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়।
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়
তিনি ছিলেন সাম্যের কবি। তার রচিত ও প্রকশিত কবিতা, গান, নাটক, ইসলামী সংগীত, উপন্যাস,কাব্যগ্রন্থ বতর্মান শিক্ষা ব্যবস্হাকে সূদুর প্রসারী করে তুলেছে।

Top