তেঁতুলিয়ায় কিস্তি ও সংসার চালাতে শ্রমিকদের খোলা আকাশে নিচে বসবাস।

received_610309292654515.jpeg
এম. এ নাঈম, পঞ্চগড় সংবাদদাতা:
পাথরের জন্য খ্যাত  বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমন্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া  উপজেলা। প্রাকৃতিক সমারোহের সবুজ  চা বাগান  আর প্রাকৃতিক সম্পদ পাথর এই তেঁতুলিয়ার  মানুষের জীবন যাত্রার মান আজ  উন্নত করছে। এই এলাকার মানুষ আজ পাথরের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে। হিমালয়ের সবুজ কন্যা তেঁতুলিয়া উপজেলাটি  পাথরের এলাকা নামে পরিচিত। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মধ্যে ভজনপুর,চুয়ামতি,বাঁশবাড়ি,,শালবাহান,ময়নাগুড়ি,কালিতলা,গনাগছ,ভদ্রেশ্বর,কুকুরমোয়া,কির্তন পাড়া,ঘোগার খাল,দেবনগড়,আতমাগছ,আঠারো খারি,ছরিগছ,ভুসমারী প্রভূতি এলাকায় মাটির নিচে পাথর পাওয়া যায়। আর এই এলাকা সমূহে মাটি কেটে মাটির নিচে পাথর তোলারর কাজে  হাজার হাজার পাথর শ্রমিক। আর এই শ্রমিকরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মাটি কেটে পাথর তোলার কাজে নিয়োজিত থাকে। কাজ করে যা  আয় করে তা দিয়ে তারা সংসার চালিয়ে জীবন যাপন করে। এই এলাকায় শীতকাল থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত পাথর তোলা হয় এবং বর্ষা মৌসুমে পাথর ও মাটি কাটা শ্রমিকদের বেকার বেশে  থাকতে হয়। এবং সেই সময়ে তারা ধান লাগানো কাজে ব্যস্ত সময় পার করে।  পাথর শ্রমিকরা তাদের প্রয়োজনে বিভিন্ন ইএনজিও থেকে কিস্তি সাপেক্ষে ঋন গ্রহন করেন এবং যা আয় করেন  তা দিয়ে প্রতি সপ্তাহে কিস্তি  দিয়ে
 ঋনের টাকা পরিশোধ করে আবার নতুন ভাবে ঋন গ্রহন করে। আর কিস্তির জ্বালা মাথায় নিয়ে শ্রমিকরা কাজে বেড়িয়ে পড়ে। তেঁতুলিয়ায়  পাথরের  কাজে শুধু এলাকার শ্রমিকরা নয় এই  ঠাকুরগাঁও,নীনফামারী,রংপুর  জেলার সহ  পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন  এলাকা হারিভাসা,টুনিরহাট,দেবীগঞ্জ, বোদা,আটোয়ারী,   চাকলার হাট,কাজল দিঘী,চিলাহাটি সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অনেক মানুষ কাজের মৌসুমে পরিবারবর্গ ছাড়ে এই এলাকায় কাজ করতে আসে। ভজনপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় পাথরের সাইডে কাজ করেন এই বিভিন্ন জায়গা থেকে দল বেধে আসা  শ্রমিকরা। সারাদিন কাজ করে তারা পাথরের সাইডের আশপাশের খোলা আকাশের নিচে  ঝর বৃষ্টি  অপেক্ষা করে প্লাস্টিক দিয়ে এভাবেই তাবু টানে তারা রাত যাপন করেন। তারা নিজেরা বাজার করে এবং রান্না করে খায়।
প্রতিবেদক কে জানান,”আমরা কাজ করে সংসার চালাই,পরিবার ছাড়ে আমরা এভাবে সারা দিন কাজ শেষ করে  এই তাবুতে সবাই দলবেধে রাতে ঘুমাই,আর সকাল হলে কাজ শুরু করি । রবিবার ও বৃহস্পতিবার  মহাজনের কাছে বিল পেয়ে বাড়িতে বিকাশে কিস্তির টাকা ও সংসারে টাকা দিয়ে পাঠাই”। পাথর শ্রমিক হরিপদ বলেন”আমরা কাজের মৌসুমে দলবেধে  কাজ করতে আসি, কাজ শেষ করে কয়েক দিন  পর পর বাসায় যাই,যা আয় করি তা দিয়ে কোন রকম খেয়ে পড়ে জীবন যাপন করি।
পাথর ব্যবসায়ী মোঃ আল-আমিন জীবন জানান,”এই পাথর শ্রমিকরা কাজের মৌসুমে তেঁতুলিয়ার ভজনপুরে কাজ করতে আসে, তারা আমাদের সাইডে কাজ করে বলে তারা আমাদের সাইডের পাশে তাবু টানে রাত যাপন করে, এবং কাজ শেষ করে আবার বাসায় চলে যায়,আবার যায়”।
এই পাথর শ্রমিকরা এভাবেই বাবা মা, ছেলে মেয়ে, স্ত্রী, আপনজনের মায়ার বাধন ছাড়ে  জীবিকা নির্বাহ ও সংসার চালানোর জন্য কাজে বের হয়ে পড়েন। কারন তাদের কাজ না করলে যে তাদের মুখে অন্ন জুটবে না,কিস্তির সাহেব যে কিছু বুঝবে না।
Top