উন্নয়নের আরেক নাম, অর্থ ওপরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান

33380499_496959400720310_3666960854470885376_n.jpg
 মোঃ আবু সঈদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
উন্নয়নের মহাসড়কে ভাসছে বাংলাদেশ। সেই উন্নয়নের একটি অংশ সুনামগঞ্জ জেলার উন্নয়ন। স্বাধীনতার পর থেকে যত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা যুদ্ধবিধ্বস্হ দেশ গঠনকালীন সময়ে সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেননি উন্নয়নের। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২য় বারের মত সরকার গঠন করলে দেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়। শিক্ষা, স্বাস্হ্য, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, ব্রীজ, কালর্ভার্ট নির্মাণ, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যাললয় জাতীয়করণ, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সমুহ এম পি ও ভূক্তিকরণ, বহু হাইস্কুল এন্ড কলেজ সরকারি করণ, ডিজিটাল বাংলাদেশে গঠনে পদক্ষেপ গ্রহণ, মাধ্যমা আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, চাঁদে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট রকেট প্রেরণ, মানবতায় বিশেষ অবদান সহ উন্নয়নের প্রতিটি সেক্টরে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের নারী নেত্রীর রাজনৈতিক ইতিহাসে ২য় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্হান করে নিচ্ছেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান এম.এ মান্নান এমপি সুনামগঞ্জ -৩ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর পাল্টে যায় সুনামগঞ্জ জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২য় বারের মত আবারো বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য এম.এ মান্নান এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে ভাটি বাংলা নামে পরিচিত মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্হিত হাওর বেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ প্রতিকুল পরিবেশের পরিবর্তন ঘটিয়ে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে আমেরিকান সাহায্য সংস্হা কেয়ার বাংলাদেশের অফিসার পদে কর্মজীবন শুরু হয়। সরকারি কর্মকর্তা পদে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) থেকে ধাপে ধাপে পদোন্নতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্হ পদে সততা ও দক্ষতার সহিত দায়িত্ব পালন করে কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে উচ্চ বিলাসী জীবন ত্যাগ করে এলাকার মানুষের সেবায়, এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজনৈতিক অঙ্গনে। উনার সততা, নিষ্ঠা, কর্মপ্রচেষ্টায় স্হান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের হৃদয় স্পন্দনে। বিফলে যায়নি বাস্তবতার চিন্তারেখা। মহৎ ভালবাসায় ও সৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্হান করে নিয়েছেন লাখো মানুষের হৃদয়ে। জেলা পরিচিতির আরেক নাম, মৎস্য-পাথর-ধান, সুনামগঞ্জের প্রাণ। সেই উন্নয়নের মহাসড়কে সবচেয়ে বেশী উপকৃত হয়েছে প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ-৩ আসন (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর)। সেটা আজ আর স্বপ্ন নয়। বাস্তবতাই হাতছানি দিয়ে ডাকছে, এসো জনতা গড়ে তোল একতা, এগিয়ে যাচ্ছি মোরা উন্নয়নের পথে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি বিগত ৯ বছরে সেই উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবী এলাকার জনগণের। শিক্ষা, স্বাস্হ্য, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, ব্রীজ, কার্ভার্ট নির্মাণ, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যাললয় জাতীয়করণ, উচ্চ বিদ্যালয় ও নবনির্মিত কলেজ সমুহ এম পি ও ভূক্তিকরণ,পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজ সরকারি করণ, মসজিদ-মাদ্রাসা-মন্দির ও স্কুল কলেজের উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্র স্হাপন কাজ নির্মাণাধীকরণ, জগন্নাথপুরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় হাসপাতালের আসন বৃদ্ধি, দুই উপজেলায় আলাদা আলাদা ফায়ার সার্ভিস & সিভিল ডিফেন্স ষ্টেশন স্থাপন, উপজেলা সড়কে দৃষ্টি নন্দন ব্রীজ-কালভার্ট নির্মান, নবনির্মিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে বন্যাশ্রয় কেন্দ্র স্হাপন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবন নির্মাণ উপজেলার দৃশ্য। পাল্টে দিচ্ছে। জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ কোটি টাকা, ইসলামগঞ্জ কলেজ ৬ কোটি টাকা, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজে ৭ কোটি টাকা, আব্দুল মজিদ কলেজে ৫ কোটি টাকা,সৈয়দপুর আদর্শ কলেজে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণে রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর অনন্য অবদান। শুধু এখানেই শেষ নয়। পাগলা জগন্নাথপুর আউশকান্দি রাস্থায় ৮ টি সেতু অনুমোদন, ডাবর সেতুর পাশে বিশাল মহিষ প্রজনন খামার অর্থাৎ পশুসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, সম্প্রতি পাগলা বড় মসজিদ,রানীনগর মহাশশ্মান সহ অনেক মন্দির,কবরস্থানে ৪ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় উন্নত প্রশাসনিক ভবনসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন নির্মাণাধীন ৫০০ আসন বিশিষ্টি হাওর বিলাস নামে পরিচিত অডিটরিয়াম নির্মাণ, যুবকদের কর্মসংস্হান সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব প্রশিক্ষণ চালুকরণ। মদনপুর- দিরাই রাস্তামোড়ে ৫০০ আসন বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল স্হাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। ভূমি অধি-গ্রহণ হচ্ছে ট্রেক্সটাইলস ইন্সটিটিউট এর যেখানে প্রতি ব্যাচে ২৫০ জন শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। উদ্ভোধনের অপেক্ষায় আছে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দৃষ্টিনন্দন থানা ভবন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্র ভবন, ফায়ার সার্ভিস & সিভিল ডিফেন্স ভবন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উপজেলার রাসেল মিনি স্টেডিয়াম । নিজ গ্রাম ডুংরিয়াতে নির্মিত হয় ৬ তলা বিশিষ্ট অডিটরিয়াম সংযুক্ত সুনামগঞ্জ জেলায় প্রথম স্হাপিত আকাশচুম্বি কলেজ ভবন এবং নিজের প্রতিষ্টিত হাইস্কুলটি সরকারি করণসহ ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আজ শুধু একটি গল্পের মত। জেলা সদরে স্হাপিত হচ্ছে স্বাস্হ্যসেবার অন্যতম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নার্সিং কলেজ। ঘরে ঘরে আজ পল্লী বিদ্যুতের স্বপ্নের বাতি গ্রাম-গ্রামান্তরের আঁধারকে আলোকিত করছে। এ ছাড়া জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক সেতু নির্মান, ৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউসকান্দি সড়কের সংস্কার কাজ, শান্তিগঞ্জ -রজনীগঞ্জ সড়কের সংস্কার কাজ, জামলাবাজ-ফতেপুর হয়ে হয়ে উজানীগাঁও সড়ক ও ব্রীজের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন আন্তরিকতায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। যেভাবে এই এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেছেনে তা সরকারের ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে উজ্জল করেছে। অন্ধকারকে প্রতিহত করে উন্নয়নের ব্রীজ দিয়ে হাটছে পূর্বপাগলা ইউনিয়নের ডিগারকান্দি গ্রামবাসি। তা থেকে বাদ পড়েনি ছিকারকান্দি পঞ্চগ্রাম এলাকা। আজ উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে উপজেলার দৃশ্যপট। মানুষ আজ পায়ে হেটে নয়, যানবাহনে চড়ে ঘুরছে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তরে।কয়েক বছরের মধ্যে গ্রামে গ্রামে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌর বিদ্যুৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মানে পাল্টে গেছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বদলে গেছে এ দুটি উপজেলার মানুষের জীবনচিত্র। প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এর একান্ত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জবাসী আজ স্বপ্ন দেখছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের যাহা একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নোয়াখালিতে কালনী নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত চলছে দ্রুতগতিতে, জগন্নাথপুর ড্রেনের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের সম্প্রতি ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন করা হয়েছে। আশার প্রহর গুনছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব স্থায়ী বিল্ডিং এর প্রকল্প অনুমোদনের। সুনামগঞ্জে সুরমা সেতু নির্মাণেও প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এর অবদান আছে। জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাসহ সুনামগঞ্জ জেলায় বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পাগলা-জগন্নাথপুর আঞ্চলিক মহা-সড়কে ৯টি ব্রীজ নির্মান সেতু নির্মানসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে বর্তমান সরকারের উদ্দ্যোগে ১৪ টি ব্রীজ নির্মাণ যাতাযাত ব্যবস্হাকে সহজতর করে দিয়েছে। সবশেষে উন্নয়নের মহাসড়কে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাস্তব চিত্র।

 

Top