পৌরবাসীকে টমটমের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিন-জয়

FB_IMG_1526978112716.jpg

জে,জে বিশেষ প্রতিবেদকঃ

দিন দিন পর্যটননগরী কক্সবাজার যেন ভোগান্তির শহরে পরিণত। জনগণের নাভিশ্বাস ওঠেছে চলে ফেরায় প্রতিনিয়ত।

সেবার নামে পৌরসভার টমটম নামক যানটি যেন শহরের বিষফোড়া।
জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় নিজের স্টাটাসে লিখেছেন”যেন দেখার কেহ নাই”।

পৌর ককর্তৃপক্ষ যদিও দাবি করে তারা টমটম অনুমোদন দিয়েছেন কম,চলছে বেশি।
ট্রাফিক বিভাগ কার্যত ভূমিকা রাখছেনা বলে দাবি।

অন্যদিকে ট্রাফিক বিভাগের মন্তব্য পৌরসভা কতৃক লাইসেন্স নিয়ে মাঠে নেমেছে টমটম।
পাল্টাপাল্টা অভিযোগ যেন দুটিই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু নগরীর মানুষ বিতর্ক নয় স্বস্তি চায়। পরিচ্ছন্ন এক নগরী চায় জনগণ।

বিশ্বের অন্যতম পর্যটননগরী এখন যানজটের শহরের তালিকায়। বস্তুত সব খাজনা, ট্যাক্স,হোল্ডিং কর বাড়ে সেবা বাড়ছেনা বলে দাবি অনেকের।

গতকাল ও আজ জয়ের দুটি ফেসবুক স্টাটাসে তুমুল মন্তব্য জমা পড়ে। স্টাটাসটি পাঠকের প্রয়োজনে হুবহু প্রচার করা হল।

“টমটমের (ইজি বাইক) যন্ত্রনায় অস্থির পর্যটন শহর কক্সবাজার বাসী।শহরের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে শহরবাসীর ব্যবহারের দুইলেইন বিশিস্ট একমাত্র চলাচলের রাস্তা..
হরেক রকম যানবাহনের ভার সইতে সইতে অনেক আগ থেকেই জটিল সব দুরোগ্য রোগে আক্রান্ত আমাদের চলাচলের এই সড়কটি।

বাস,ট্রাক,জীপ,পিকআপ,ডাম্পার,সিনজি টেক্সি,রিকশা,ঠেলাগাড়ি,ভ্যানগাড়ি,ঘোড়ার গাড়ি,সাইকেল,মটর বাইক,করিমন,নসিমন সহ কত কিছুই যে চলছে এই রাস্তার উপর দিয়ে তার কোন হিসেব নেই।
অন্য সব ধরনের যানবাহনের সংখ্যা নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও টমটম(ইজিবাইক) নামক আজব এই যানের সংখ্যা নিয়ন্ত্রনে রাখা দু:সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধারনা করতে পারেন ছোট এই পৌর শহরে আনুমানিক কত হাজার টমটম (ইজিবাইক) রয়েছে?

আমাদের দেশে সবধরনের মটর যানের লাইসেন্স দেয় সাধারণত বিআরটিএ।বিআরটিএর ভাষ্য মতে যেকোন মটর যানের লাইসেন্স ইস্যু করার আগে সেই যানের ফিটনেস পরীক্ষা করা হয় এবং ফিটনেস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হলে লাইসেন্স প্রধান করা হয়।

জন্মই যার অশুদ্ধ তার আবার ফিটনেস? টমটম (ইজিবাইক)নামক যানবাহন টির নির্মান ক্রুটির কারনে এর কোন ফিটনেস-ই নেই।

ফিটনেস ই যখন নেই তখন ফিটনেস পরীক্ষার প্রশ্ন ই বা আসবে কেন?

সুতরাং নির্মান ক্রুটির কারনে এই বিশেষ যান বাংলাদেশের রাস্তায় চলাচলের জন্য সম্পূর্ন অযোগ্য। তাই বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এই যানের লাইসেন্স প্রধান থেকে সম্পূর্ন বিরত আছে শুরু থেকে।
যেখানে স্বয়ং বিআরটিএ লাইসেন্স ইস্যু করছেনা সেখানে নিয়মের বাইরে গিয়ে পৌর কতৃপক্ষ লাইসেন্স দেয় কিভাবে তা আমার মাথায় আসছেনা।

কক্সবাজার পৌরসভার ইস্যুকৃত টমটম লাইসেন্সের সংখ্যা বর্তমানে ৩০০০ হাজারের এর ও বেশী।
আর কোন ধরনের লাইসেন্স না নিয়ে শুধু মাত্র পৌরসভা কর্তৃক ইস্যুকৃত বিশেষ এক ধরনের টোকেন ব্যবহার করে এই শহরে চলছে আরো প্রায় ১২০০০ হাজারের বেশী টমটম (ইজিবাইক)।
এই যদি হয় পর্যটন শহরে টমটমের পরিসংখ্যান তাহলে কিভাবে কমবে শহরের যানজট আর কিভাবেই বা থামবে মৃত্যুর মিছিল।

কক্সবাজারে শহরে চলাচল করা এই চৌদ্দ হাজারের ও বেশী টমটমের (ইজিবাইক) ব্যাটারী চার্জ করতে দৈনিক কি পরিমান বিদ্যুৎ লাগে সেই হিসেবটাও নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে আপনাদের।
খুব শীঘ্রই বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সেই হিসেবটাও আপনাদের জানাবো।

আসুন..আমাদের আশপাশের পরিচিত জনদের যারা টমটম থেকে আয় করে নির্ভরশীল তাদের টমটম ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করি। টমটমের পরিবর্তে অন্য কোন মাধ্যম থেকে উপার্জনের পথ খুঁজি।
পর্যটন শহরের যানজট ও দূর্ঘটনা কমাতে ১০০০০ দশ হাজার টমটম অতি শীঘ্রই কক্সবাজার শহরের আশপাশের মফস্বল গুলোতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সময়োচিত পদক্ষেপ কামনা করছি”।

এতে নাজমুল হক কমেন্টসে জানান,পর্যটন শহরের যানজট ও দূর্ঘটনা কমাতে ১০ হাজার টমটম অতি শীঘ্রই কক্সবাজার শহরের আশপাশের মফস্বল গুলোতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি রেখেছেন।

আদৌ কি সে পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। নাহলে একাধিক পৌরবাসীর দাবি, সেবা দিন নাহয় মুক্তি নিন।

Top