আনোয়ারায় বাড়ছে বিদ্যুতায়িত দুর্ঘটনা ,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

IMG_20180523_151458.jpg

ডি এইচ মনসুর:
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। সামান্য ঝড়-তুফানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার পড়ে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে ঝরছে প্রাণ,আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। বিদ্যুতের ত্রুটিপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন করে আধুনিকায়ন ও ঝুঁকিমুক্ত করা না গেলে ছোট-বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন গ্রাহকরা।
জানা গেছে,চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন রয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৬০ শতাংশই জরাজীর্ণ। ঠিক সময়ে উন্নয়ন কাজ না হলে বাকি লাইনও জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ আনোয়ারা জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আকতার হোসেন উল্টো গ্রাহকদের দায়ী করে বলছেন,অপরিকল্পিতভাবে গৃহনির্মাণ,গাছের ডালপালা ছাটাই কাজে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎ লাইনে জড়িয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন কিছু কিছু ত্রুটিপূর্ণ থাকবে এটা স্বাভাবিক।
গত ৩ মে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় মোহাম্মদ রাসেল (২০) নামের এক শ্রমিক। ছাদের উপরে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের তারে জড়িয়েই তার মৃত্যু হয়। এরপর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় উপজেলার চর জুঁইদন্ডী গ্রামের বেড়িবাঁধে মাটিতে নুয়ে পড়া বিদ্যুৎ লাইনের তারে জড়িয়ে মারা যায় মাওলানা শাহাবুদ্দিন (৪০) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক। স্থানীয়রা ত্রুটিপূর্ণ এ বিদ্যুৎ লাইনটি সংস্কারের জন্য একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলেও তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় কাজে হাত দেয়নি তারা। যার ফলে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যায় ওই শিক্ষক।
শুধু তাই নয়,এ উপজেলায় বড় ধরনের বেশিরভাগ অগ্নিকান্ডেরই সূত্রপাত হয় শটসার্কিট বা বৈদ্যুতিক সংযোগের গোলযোগ থেকে।
ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণহানির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ বছরে ঘটে যাওয়া বেশিরভাগ অগ্নিকান্ডের কারণ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগকে দায়ী করেন ফায়ার সার্ভিসের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,হাটবাজারে স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটিতে বিভিন্ন সার্ভিস তার জালের মতো পেঁচিয়ে রেখেছে। কোনো এলাকায় বিল্ডিংয়ের কিনারা ঘেঁষে অসংখ্য বিদ্যুতের তার রয়েছে। অনেক জায়গায় এসব তার থেকে ঘরের চালার এক ফুট জায়গাও ফাঁকা নেই। এ ছাড়া মূল লাইনের উম্মুক্ত তারের পাশে কোনো বিল্ডিং থাকলেও তেমন সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়রা জানান,এসব তারে আগুন লেগে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া বাসাবাড়ির সামনে দিয়ে প্রবাহিত তারেও ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের কোনো তৎপরতা নেই। এদিকে,প্রায় প্রতিদিন ৩৩ হাজার ভোল্টেজ লাইনে ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ রাখা হয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন। পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বশীল কর্মীদের অবহেলার কারণেই এসব ত্রুটিপূর্ণ লাইন সহজে ঠিক হয় না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,অসতর্কভাবে বৈদ্যুতিক তার ও মিটার স্থাপন করে সংযোগ দেয়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনে সতর্কতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব। কিন্তু অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়লেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সচেতনতা তৈরি এবং সুরক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক আবু বকর ছিদ্দিকী জানান,৬০ বছরের পুরোনো বিদ্যুৎ লাইন অনেকটা সমস্যা আছে। ত্রুটিপূর্ণ লাইনগুলো পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ করেছে। তাছাড়া এ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে। আশা করি শিগ্রই এসব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

Top