শিশুদের প্রতি সুন্দর অাচরণ বদলে দিতে পারে দূষণে ভরা সমাজকে

IMG_20180520_131002.jpg

মো: তানভীর অাহম্মেদ রনি

রমজান মাসে এবং অন্যান্য মাসের শুক্রবারে মসজিদে ছোট বাচ্চাদের অাগমন একটু বেশী লক্ষ্য করা যায় । আর বয়সের কারণে এই সময় বাচ্চারা সাধারণত একটু দুষ্টামি বেশিই করে।

অজু করতে যেয়ে পানি ছিটানো কিংবা মসজিদে লুকোচুরি খেলা,টুপি কাড়াকাড়ি খেলা,দৌঁড় প্রতিযোগিতা এসবে তারা খুব মজা পায়। মসজিদের ইফতারির প্রোগ্রামে তাদের উপস্থিতি দেখার মতো।

মসজিদে যাওয়ার পর তাড়া খাওয়া, কিংবা বাঁকা দৃষ্টিতে তাদের দেখার মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সেই শিশুটার মনোজগতে কিন্তু মারাত্মক দীর্ঘস্থায়ী খারাপ প্রভাব তৈরি করে।

মুহাম্মাদ সঃ নিজে বাচ্চাদেরকে কোলে রেখে নামায পড়িয়েছেন। আর আমাদের বুজুর্গ-মুসল্লিরা মসজিদেই তাদের উপস্থিতি সহ্য করতে পারেন না।

রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন,যে আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করতে জানে না সে আমার দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ,তিরমীজি,মুসনাদে আহমদ)

আমার প্রশ্ন বাচ্চার বয়স ৭ বছর হয়ে গেলে তাকে মসজিদে নিয়ে পাশে দাড় করালে কি কোন সমস্যা হবে? ৭ বছর বয়সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাচ্চাদেরকে নামাজের তাকিদ দিতে বলেছেন, ১০ বছর বয়সে না পড়লে শাসন করতে বলেছেন। তাই ৭ বছর বয়স থেকেই নামাজ শিখানোর জন্য বাচ্চাদেরকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া কি উচিত নয় যদিও তারা কিছু দুষ্টামি করে বা নামাজের মধ্য দিয়ে হেঁটে যায়?

উত্তর:
কে কি বলল, কে অনুমতি দিল আর কে দিল না? এর উপর ইসলামী বিধান নির্ভর নয়। বরং ইসলামের বিধান নির্ভর করে কুরআন সুন্নাহ এবং কুর্‌আন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত ইসলামী ফিক্বহ।

হাদীসের মাঝে যেমন নাবালেগ শিশুদের মসজিদে নিয়ে আসার কথা এসেছে, তেমনি কুরআন ও হাদীসের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা ও সুবিন্যস্ত রূপ ইসলামী ফিক্বহের কিতাবেও তা এসেছে।

হাদীসের আলোকে , নামাযের কাতারে প্রথমে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষরা থাকবে। আর পিছনে থাকবে শিশুরা। কিন্তু তারা একসাথে থেকে দুষ্টুমি করার সম্ভাবনা থাকলে তাদের বড়দের কাতারের মাঝখানে মাঝখানে দাঁড় করাবে।

শিশুদের নামাযের প্রশিক্ষণের জন্য মসজিদে নিয়ে আসা উচিত। তবে খেয়াল রাখা উচিত দুষ্টুমি করে যেন অন্যদের নামাযের বিঘ্ন না ঘটায়।

আপনার-আমার শিশুদের প্রতি সুন্দর আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গিই পারে বদলে দিতে পারে দূষণে ভরা সমাজকে। আগামী প্রজন্মকে আলোর পথে এনে গড়ে তোলার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই।

Top