হাটহাজারীতে ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু :

received_1946524198704741.jpeg

আবদুল্লাহ আল কাফি, (হাটহাজারী প্রতিনিধি):

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নের পূর্ব ধলইয়ে পেটে উপর্যুপরী ৭টি ছুরিকাঘাতে আফছানা পারভীন বুলু(২৩) নামে এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নাছরিন আক্তার টুনটু(৩৬) নামে তার ভাবীও আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটায় চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক এ ঘটনাটি সেকান্দর পাড়া বাকর আলী গোমস্তার বাড়িতে ঘটে। নিহত বুলু ওই বাড়ির জাগির হোসেনের কন্যা ও উপজেলার কাটিরহাট মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিবিএস ২য় বর্ষের ছাত্রী এবং আহত টুনটু বুলুর আপন জ্যাঠাতো ভাই প্রবাসী খোরশেদের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে খোরশেদ পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে খোরশেদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা রুজু করেছে।

সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ আট বছর ধরে বুলু তার ভাবীর সাথে বসবাস করে আসছে। ভাবীর পরিবারের জন্য বাজার থেকে নিত্যপণ্য ক্রয়সহ দুই পুত্র সন্তানকে সে পড়াতো। ননদ ও ভাবীর সম্পর্ক এতই গভীর ছিল যে, তারা একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারতো না। খোরশেদ বৃহস্পতিবার সকালে দুবাই থেকে দেশে আসেন। আবার বুলুর ওই ঘরে থাকা নিয়ে খোরশেদ নারাজ ছিল ও তাকে আসতে নিষেধ করে। শুক্রবার খোরশেদ দিবাগত রাত সাড়ে আটটায় তার ছেলেদের নিয়ে ঘর সংলগ্ন জামে মসজিদে তারাবী নামাজ পড়তে যায়। দুই রাকআত নামাজ পড়া শেষ হতে না হতে ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ পেয়ে মুসল্লী সহকারে সবাই ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে একতলা বিশিষ্ট ভবনের একপাশে খোরশেদের স্ত্রীকে হাতে ও শরীরে ছুরিকাঘাত অবস্থায় পাওয়া যায়। আবার পাশ্ববর্তী অপরস্থানে রক্তাক্ত ও মুমুর্ষাবস্থায় বুলুকে পাওয়া যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে তাদেরতে নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুলুকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে ৬টি ও লজ্জাস্থানে একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। অপরদিকে খোরশেদের স্ত্রীকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করে। শনিবার বিকালে ময়না তদন্ত শেষে বুলুর লাশ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া খোরশেদের স্ত্রী পুলিশ প্রহরায় চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত বুলুর মা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার মেয়ের সাথে খোরশেদের স্ত্রীর অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি খোরশেদ সেটা পছন্দ করেনি। আমার মেয়েকে খোরশেদের স্ত্রী হত্যা করেছে সেটা বিশ্বাস করতে পারছিনা। তবে কে বা কারা হত্যা করেছে তাও জানি না। যে বা যারাই আমার মেয়েকে হত্যা করুক আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও রহস্যময়। মামলার ২নং আসামী খোরশেদের স্ত্রী পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা রহস্য উদঘাটন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ও খোরশেদকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Top