জেনে নিন রমযানের বিভিন্ন মাসয়ালা।

FB_IMG_1526667645547.jpg

সিফাতুল্লাহ, ছাত্র, ইসলামের ইতিহাস, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
** রমযান একটি আরবি শব্দ। এর শব্দমূল হলো রা-মিম-দোয়াদ । আরবি ভাষায় এর অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত গরম,কঠোর সূর্যতাপ,দহন,জ্বলন,তৃষ্ণা এবং গলে যাওয়া। রমযান মাসে যেহেতু নেক আমলের কারণে বিগত গুনাহ বা পাপগুলো বিমোচিত হয়ে যায় কিংবা গলে গলে নিঃশেষ হয়ে যায় সেজন্যেই এ মাসের নাম হলো রমযান।

**রোজার কতিপয় জরুরি মাসআলা
যেসব কারণে রোজা না রাখার অনুমতি আছে
শরয়ী সফর অর্থাৎ ৭৭ কিলোমিটার ভ্রমন করলে। তবে মুসাফিরের জন্য উত্তম হচ্ছে যদি কষ্ট কম হয়, তাহলে রোজা রেখে নেয়া। [সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪; আলহিদায়া : ১/২২১; জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া : ১/২০] অতিশয় বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে অক্ষম হলে। যে ব্যক্তি বার্ধক্যজনিত কারণে কিংবা কোনো স্থায়ী জটিল রোগের কারণে রোজা রাখতে অক্ষম, ভবিষ্যতেও সুস্থতা লাভের সম্ভাবনা নেই তিনি ফিদিয়া (প্রতি রোজার জন্য পৌঁনে দুই সের গম বা তার মূল্য) আদায় করবেন। কিন্তু যদি পরবর্তীকালে কখনো সুস্থ হয়ে যান, তাহলে এ রোজাগুলোর কাজা করে নেয়া জরুরি।

রোজা রাখার কারণে কোনো জটিল রোগ সৃষ্টি বা পুরাতন রোগ বৃদ্ধির প্রবল ধারণা হলে, তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। সুস্থ হওয়ার পর কাজা করে নেবেন। [সুরা বাকারা : ১৮৪; আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ১/২০৭; আপকা মাসায়েল আওর উনকা হল : ৪/৫৬২] গর্ভবতী মহিলা নিজের বা গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির পূর্ণ আশংকা বোধ করলে তিনি রোজা না রেখে পরবর্তী কোনো সময়ে কাজা করে নেবেন। অনুরূপ রোজার কারণে দুগ্ধপোষ্য সন্তানের ক্ষতির পূর্ণ আশংকা বোধ করলে তিনিও রোজা রাখবেন না।

**যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়
-এমন বস্তু গিলে ফেললে, যা সাধারণত খাদ্য বা ঔষধ হিসাবে ব্যবহার হয় না। যেমনÑ কংকর, পাথর, কাগজ, আঁটি ইত্যাদি।
-কুলি করার সময় কণ্ঠনালীতে পানি ঢুকে গেলে।
-কানে তেল, ঔষধ বা পানি প্রবেশ করালে।
-নাকের ড্রপ ব্যবহার করলে।
-কাউকে আঘাত করার বা অন্য কোনো রকম ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পানাহার করালে।
-ধূমপান করলে বা ইচ্ছাকৃত লোবান-আগরবাতি ইত্যাদির ধোঁয়া গ্রহণ করলে।
-ডুশ গ্রহণ করলে।
-ইনহেলার ব্যবহার করলে ।
-ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে
-যোনী পথের ভেতর কোন ঔষধ ব্যবহার করলে।

**যে সকল কারণে রোজা মাকরূহ হয়
-বিনা প্রয়োজনে কোনো বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করলে বা চাবালে।
-ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে থুথু জমা করে তা গিলে ফেললে।
-স্ত্রীকে চুম্বন করলে বা জড়িয়ে ধরলে (যদি বীর্যপাতের সম্ভাবনা থাকে)।
-টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ব্যবহার করলে।

**যে সকল কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না
-ভুলক্রমে পানাহার কিংবা সহবাস করলে।
-অনিচ্ছায় মশা-মাছি, ধূলিকণা, ধোঁয়া কণ্ঠনালীতে ঢুকে গেলে।
-চোখে সুরমা ও ড্রপ ব্যবহার করলে।
-কোনো ধরনের ইঞ্জেকশান-ইনসুলিন বা টিকা নিলে রোজা ভঙ্গ হয় না, এমনকি গ্লুকোজ ইঞ্জেকশানের দ্বারাও রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।
-কানে পানি প্রবেশ করলে।
-রোগাক্রান্ত ব্যক্তি অক্সিজেন গ্রহণ করলে।
-রক্ত দিলে বা নিলে।
-আতর, গোলাপ ইত্যাদির ঘ্রাণ নিলে।
-রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে।

Top