অনলাইনে ও জমজমাট বরিশালের ইফতার বাজার

received_414928388975699.jpeg

তানজীল ইসলাম শুভ

বরিশালে জমে উঠেছে ইফতার বাজার বরিশাল: রমজানের প্রথমদিন গুমোট থাকলেও দ্বিতীয় দিন ঝলমলে আবহাওয়া বরিশাল জুড়ে। আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জমজমাট হয়ে উঠেছে বরিশালের ইফতার বাজার। হোটেল, রেস্তোরাঁর পাশাপাশি এবার ইফতার বাজার জমে উঠেছে অনলাইনেও। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের মতো এবারও ইফতার আয়োজনে থাকছে নতুনত্বের ছোঁয়া। এবার ইফতার বাজার অনেকটাই নামকরা রেষ্টুরেন্ট বা রেস্তোরাঁর দখলে। পাশাপাশি সড়কের পাশে ছোট- খাটো দোকানিরাও ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন। যেখানে রয়েছে ক্রেতাদের চোখে পড়ার মতো ভিড়। আবার মধু মাস হওয়ায় ইফতারের পাশাপাশি ভিড় রয়েছে লিচু, আম, কাঁঠালের বাজারেও।
তবে দু-এক দিনের মধ্যে ইফতার বাজার পুরোটাই জমজমাট হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে রমজান ও ইফতার বাজারকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে তৎপর। বরিশালের বিভিন্ন সড়ক ও অলিতে- গলিতে ঘুরে দেখা গেছে, নগরের নামিদামি রেস্তোরাঁগুলো ইফতার বিক্রির জন্য অনেকটা উৎসবমুখব পরিবেশ তৈরি করেছে। রেস্তোরাঁগুলো বাহারি নকশায় সাজিয়ে তুলেছে ইফতার বিক্রির স্থানটিকে। যেখানে বাহারি ইফতার পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তারা। এর পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন খাবার হোটেল-রেস্টুরেন্ট, সিজোনাল ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও আগে থেকে প্রস্ততি নিয়ে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছেন। বরিশালের ইফতার বাজারে হরেক রকম পসরা ও আর নামিদামি ঐতিহ্যবাহী ইফতারের দোকান রয়েছে অনেক। যার মধ্যে নাজেম’স, রোজ গার্ডেন, গার্ডেন ইন রেস্তোরাঁ, হট প্লেট, তাওয়া, কাজী ফার্মস, রিভার ক্যাফেসহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর গত কয়েক বছরে ইফতারের বাজারে পণ্য নিয়ে এসেছে হোটেল গ্রান্ড পার্ক, হুপার্স, কিচেনসহ বেশকিছু নামিদামি রেস্টুরেন্ট। যদিও এরা খুচরো ইফতার বিক্রির পাশাপাশি বেসিক, প্লাটিনাম, প্রিমিয়ামসহ নানা নামে প্যাকেজ ইফতারও বিক্রি করে। চলতি বছরে বরিশালে অনলাইনেও ইফতার সামগ্রী কেনার সু-ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যেখানে ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী আলাদা সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে বাসায় ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে হোমকিচেন, বরিশাল গেট, ফুড কিং বিডি, দি ডেজার্ট হাউজসহ বেশকিছু অনলাইন সপ রয়েছে। বরিশালের নাজেম’স ইফতারের স্বত্ত্বাধিকারী ফরিদুর রহমান রেজা জানান, বরিশালে নাজেম’স একটি নামকরা, ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বস্ত খাবারের প্রতিষ্ঠান। বৃষ্টি হলেও প্রথমদিন থেকেই ইফতার বিক্রি ভালোই চলছে। প্রতিবারের মতো এবারও ইফতারের সময়ের ঘণ্টাখানেক আগেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইফতারিতে এখানে মুরগি মোসাল্লাম ৩৫০ টাকা, খাসির রান ৪৫০ টাকা, গরুর কালো ভুনা কেজি প্রতি ৭শ’ টাকা দরে পাওয়া যায়। এর বাইরে হাফ তেহেরী ১২০ টাকা, কাচ্চি বিরিয়ানী ১৬০ টাকা, মোরগ পোলাই ১৩০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি শাহি জর্দ্দা, বুরিন্দা, চিকেন ফ্রাই, বোরহানি, ফিরনি, হালিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ২শ’ টাকার মধ্যে। এছাড়া পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, বিভিন্ন ধরনের পিঠা, চিকেন কাবাব, চিকেন পুলি পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে পিস প্রতি হিসেবে। আবার এসব আইটেম অন্য নামিদামি ইফতারের দোকানগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে যার মূল্য ২৫ থেকে ৩শ’ টাকার মধ্যে। সঙ্গে অনেক জায়গায় বাহারি ধরনের ও স্বাদের পিঠা, দই, ফালুদাও বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নামিদামি দোকান ছাড়া পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, মাংসের চপ, সবজির বড়া, ডালের বড়া, জিলাপি পিস প্রতি দোকানভেদে ৩ থেকে ১০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে শাহী জিলাপি আকারভেদে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। আর বুট কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

Top