বিপর্যস্ত হচ্ছে যুবসমাজ; গ্রামে চায়ের দোকান ও রাস্তার পাশে কেরাম,তাস ও লুডু খেলে নিরবে চলছে জুয়া

4_9532.jpg

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া :
দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় প্রতিটি চায়ের দোকানে রয়েছে কেরাম বোর্ড। রাস্তার পাশে রয়েছে গাফলা, তাশ ও লুডু খেলার আড্ডা। ছাত্র ও যুবকদের বেশিরভাগ অংশই সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা সেই খেলায় সময় দিচ্ছে। বলা যায়, সময়জ্ঞান নেই বলেই তারা সময়কে বিপথে কাজে লাগাচ্ছে। এই কারণে ধ্বস নামছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায়। যুব সমাজ ধীরে ধীরে জুয়ার সাথে মিশে যাচ্ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে তারা। বাক-প্রতিবন্ধি মানুষের মতই সমাজের একটি প্রবীণ শ্রেণি নিজেদেরকে পুরোপুরি সম্পৃক্ত না করলেও বাধা দিচ্ছেন না। অন্যদিকে প্রচলিত আইনেও এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে রাস্তার পাশে দোকানগুলোতে কেরাম, লুডু ও তাশ খেলাতো সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ক্লাবগুলোতে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে খেলতে বাধা নেই প্রচলিত আইনে। তথাপি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এর ভিন্ন চিত্র। ছাত্র ও যুবকরা খেলায় প্রতিযোগীতার পাশাপাশি বাজি ধরে অনেক সময়ই খেলে থাকে। কিছু কিছু সময় বাজি যদি টাকার অংক নাও হয় সেটি দোকানের বিভিন্ন কোমল পানীয়, সাবান,তৈল অথবা ফাস্টফুড আইটেম হয়ে থাকে। এতে করে ছাত্ররা প্রতিদিন ১২০-১২৫ টাকা অনর্থক ব্যয় করে। পাশাপাশি বোর্ড ভাড়া দিয়ে আবার অতিরিক্ত টাকা গচ্ছা দিতে হয়। ছাত্রদের বাবার পকেটের টাকা ব্যাতীত আয়ের তেমন কোন উৎস নেই। প্রতিনিয়ত টাকা বাজে পথে খরচ করতে গিয়ে ঘরে চুরির অভ্যাস গড়ে উঠে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। বাজি ধরা বা জুয়া নামক এই সামাজিক ব্যাধীতে অনেক পরিবার ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। আর সমাজের ছোট-ছোট ব্যাধীই যে এক সময় বড় ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ছাত্র ও যুবসমাজ নেতৃত্ব দেয় সেটি সবারই জানা। খবর নিয়ে জানা গেছে,দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বাজারে কেরামবোর্ড রয়েছে চায়ের দোকানগুলোতে।পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি দোকানেই টেলিভিশন চালিয়ে গভির রাত পর্যন্ত আড্ডার মগ্ন থাকে এলাকা কিছু লোক। তাতে করেও চোর-ডাকাতের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সুশিল সমাজ। এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন, রাস্তার পাশে কেরাম, তাশ ও লুডু খেলার কোন বৈধতা নেই। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি অবগত নয়। খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

Top