গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাজপাট কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ

32661372_2126027614295153_1172232497908416512_n.png

প্রসীদ কুমার দাস(গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি)ঃ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষার্থীদের (এইচএসসি) ব্যবহারিক পরীক্ষায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ফেল করার ভয় দেখিয়ে, বেশি নম্বর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষকেরা টাকা আদায় করছেন।

বুধবার (১৬মে) রাজপাট কলেজের কৃষিশিক্ষা ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য তাদের কাছ থেকে ১বিষয়ে ৩০০ টাকা এবং ২ বিষয়ে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় দুই বছর যাবত তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করে আসছি। কিন্তু তাদের আজকের ব্যবহার আমরা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আজ আমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক সুদেব স্যার ও কৃষি শিক্ষা বিষয়ের ইয়াহিয়া স্যার এক হাতে টাকা নিয়ে অন্য হাতে ব্যবহারিক পরিক্ষার খাতা দিয়েছেন। যে টাকা দিতে পারে নাই প্রথম পর্যায়ে তাকে পরিক্ষা দিতে দেওয়া হয় নাই পরবর্তি আমরা অনেকেই টাকা ধার করে এনে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজপাট কলেজের কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষকের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক সুদেব বালার সঙ্গে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ বিষয়ে ৩০০ টাকা এবং ২ বিষয়ে ৫০০ করে টাকা নিয়েছেন। তবে আমি একটা টাকা ও নেই নাই। এ ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

এ বিষয়ে রাজপাট কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান কে মুঠোফোনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যা দিচ্ছে তাই নিচ্ছি। তাকে ৩০০-৫০০ টাকা নেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমরা শিক্ষক ও ম্যাডামদের চা-নাস্তা বাবদ শিক্ষার্থীদের নিকট হতে কিছু টাকা নিয়েছি। পরবর্তিতে তার সঙ্গে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্রই কল কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখেন।

রাজপাট কলেজ কমিটির বিদ্যুৎসাহী মেম্বার সেলিম রেজা বলেন, আমি বর্তমানে খুলনাতে থাকায় উক্ত বিষয়ে অবগত নেই তবে আমি সত্যের ও ন্যায়ের সাথে, ঘটনা যদি সত্য হয় তবে আপনারা সংবাদ প্রকাশ করেন আমি আপনাদের সাথে আছি।

উক্ত বিষয়টি জনার পরে সকল অভিভাবকগন ও স্থানীয়রা শিক্ষকদের এরূপ আচারণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

Top