বেপরোয়া গাড়ীর গতিতে বাড়ছে দুর্ঘটনা, মেরিন ড্রাইভ রোড এখন মৃত্যুর নগরী

IMAG0248-01.jpeg

ওয়াহেদ আমির, স্টাফ রিপোর্টার:
পর্যটন নগরী কক্সবাজার ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো মেরিন ড্রাইভ সড়ক। সড়কের একপাশে সমুদ্রসৈকত আর অন্যপাশে পাহাড়ের গা-ঘেঁষে বহমান ঝর্ণাধারা। বালুকাময় বিস্তৃত সৈকত, ইনানী পাথুরে বিচ ও জেলেদের সাগরে মাছ ধরা উপভোগ করা যায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে যেতে যেতে। এজন্য প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজার থেকে খোলা জিপ, মাইক্রোবাস বা অটোরিকশায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে হিমছড়ি, ইনানী, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিন যান।

আবার এই সড়কটির ব্যস্ততা বেড়েছে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়ের পর।রোহিঙ্গাদের ত্রাণদিতে আসা দেশি-বিদেশি এনজিও গুলোর গাড়ী সকালবেলা এই সড়কটি দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যায় আবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার ফিরে। এনজিও সহ বিভিন্ন গাড়ীর বেপরোয়া গতি সড়কটিকে মৃত্যু জোনে পরিণত করেছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দূর্ঘটনার কারণ হিসেবে এনজিও গুলোর গাড়ীর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি রোডে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী কমিশনার আহসান কবির সাগরের স্ত্রী শাম্মি খানম তানিয়া নিহত হওয়ার ঘটনা সহ প্রায় দূর্ঘটনা ঘটছে সড়কটিতে।গত কিছুদিন আগেও এনজিওর গাড়ীর সাথে ধাক্কায় দুই মটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে।

স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানান সড়কটি সোজা এবং পরিবেশ সুন্দর হওয়াতে ড্রাইভাররা খুব জোরে গাড়ী চালিয়ে যায়।এই গাড়ী গুলোতে একটু এদিক ওদিক হলেই ঘটে যায় দূর্ঘটনা। এসব বাস গাড়ী এখন পর্যটকদের জন্য আতঙ্ক।ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটক জানান,”যদি মেরিন ড্রাইভে গাড়ী চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে কক্সবাজার পর্যটন খাত হুমকিতে পড়বে।কারণ কেউ চাইবে না ঘুরতে এসে প্রাণ হুমকিতে পড়ুক। ”

গাড়ীর গতি কমানোর জন্য আগে গতিরোধক থাকলেও এখন আর তা নেই।সেনাবাহিনীর এলাকা আর বিজিবি চেক পোষ্ট ছাড়া সারা রাস্তা জুড়ে তেমন গতি রোধক চোখে পড়ে না। তাই অনিয়ন্ত্রিত ভাবে চলাচল করছে ছোট থেকে বড় সব গাড়ী।যদি এই সব গাড়ীকে প্রশাসনিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় দূর্ঘটনা ঠেকানো যাবে না।তাই এলাকার মানুষের দাবী যদি স্থানীয় প্রশাসন এই রাস্তার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করে দেয় এবং গতিরোধক বৃদ্ধি করা হয়।

Top