দারিদ্রতার করাঘাতে থেমে যাবে কি অদম্য মেধাবী রন শব্দকরের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ?

FB_IMG_1526440518636.jpg

নির্মল এস পলাশ কমলগঞ্জ ( মৌলবীবাজার ) প্রতিনিধি :
রণ নামের অর্থের মতোই যুদ্ধ করে করে জীবনের পথে নিঃশব্দে হাঁটছে অদম্য মেধাবী রন শব্দকর। কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যভাগ গ্রামের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী শব্দকর সম্প্রদায়ভূক্ত হতদরিদ্র রিক্সাচালক রসু শব্দকর ও শেফালী শব্দকরের দুই সন্তানের মধ্যে বড় রন শব্দকর ৪র্থ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ১ম স্থান লাভ করলেও এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় এম,এ,ওহাব উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.৬৭ লাভ করেছে। অভাব অনটনের সংসারে দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে যে শিক্ষার্থী পুরো স্কুল জীবনে ঈর্ষনীয় মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। সহপাঠী,শিক্ষক,অভিভাবক ও প্রতিবেশীরা আশা করেছিলো সে এসএসসিতেও আরও ভালো রেজাল্ট করবে। তাই প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় সবাই যেমন হতাশ রন শব্দকরও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকায় হতাশা ও নিরাশার অন্ধকারে দিন গুণছে। নুন আনতে পান্তা ফুরায় সংসারে অদম্য মনোবল আর কঠোর অধ্যাবসায়ে পিএসসিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেছিল রন। তার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে সে চিকিৎসক হবে। দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেবে। কিন্তু তার সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। ছেলের স্বপ্ন পূরণে কলেজে পড়ার সাধ মেটাবেন কীভাবে সে চিন্তায় অস্থির মা বাবা। শতছিন্ন টিনের চালে মাটির দেওয়ারের ছোট্ট একটি ভাঙ্গা ঘরেই পরিবারের ৪ সদস্যের বসবাস। যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলাই ভার, সেখানে আবার লেখাপড়াতো আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ারই মতো।তবুও অদম্য মেধা ও ইচ্ছা শক্তিকে পুঁজি করে দারিদ্রতার কড়াল গ্রাসে নিজেকে ভাসিয়ে না দিয়ে লেখাপড়া চালিয়েছে রন।ছোট ভাই রুফু শব্দকর এবার ৭ম শ্রেনীতে পড়ছে। সেও মেধাবী। এই দুই ভাই যেন গরীবের ঘরে পূর্নিমার চাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাবা রসু শব্দকর জানান, এক টুকরো ভিটে আর ঘাম ঝরিয়ে পরিশ্রম করার শক্তি ছাড়া আমাদের আর কিছুই নেই, দুই পায়ে রিক্সা চালিয়ে সংসারটাই চালাতে পারছি না। ছেলের লেখাপড়া চালাবো কিভাবে কূল পাচ্ছি না। পিএসসিতে বৃত্তি না পেলে হয়তো এসএসসিটাও পড়া হতো না রন’র। সে লেখাপড়া করে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু চরম দারিদ্র্য তার সে স্বপ্ন পূরণে কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেখাপড়ার ফাঁকে টিউশনি করে সে নিজের লেখাপড়া আর সংসারের খরচ জুগিয়েছিল।স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা,প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় এসএসসির গন্ডি পেরোলেও এখন তীরে এসে তার তরী ডুবতে বসেছে। অথচ ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো রন শব্দকর আশায় বুক বেঁধে কত কষ্ট করে প্রতিদিন ৯-১০ ঘণ্টা লেখাপড়া করে এ ফলাফল অর্জন করেছে।আর আজ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী শব্দকর সম্প্রদায়ের স্বপ্নবান রন শব্দকর নিভৃতে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছে। শুধু চরম দারিদ্র্যের কঠোর কষাঘাতে ভেঙে যাচ্ছে তার চিকিৎসক হয়ে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন। মেধাবী রন প্রতি মুহূর্ত দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকলেও মা-বাবা আর শুভানুধ্যায়ীদের প্রেরণায় এতদূর লেখাপড়া চালাতে পিছপা হয়নি। কিন্তু অভাগা বাবা-মায়ের সাধ আছে, সাধ্য নেই অবস্থায় কতদূরইবা যেতে পারবে সিতারা। মেধার আলোয় আলোকিত হবে হয়তো কোনো দোকানঘরের হিসাবের খাতা। অথবা কোনো টিউশনিতে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের স্বরবর্ণ লেখার খাতা। নামতা শিখাতে বা মহাজনের কাছে দোকানের বেচাকেনার হিসাব দিতেই ব্যস্ত থাকবে। ভুলে যাবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। না, তা হতে পারে না। রন’র স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার। হয়তো কেউ পাশে দাঁড়াবে ৤

Top