সাতকানিয়ায় ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

IMG_20180514_174946.jpg

ইফতার সামগ্রী নিতে এসে মহিলাদের মৃত্যুতে আহাজারী করছে স্বজনরা।

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে পদদলিত হয়ে ১০ মহিলা নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো অর্ধশতাধিক। ১৪ মে সোমবার সকল ৮টার সময় উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্বগাটিয়া ডেঙ্গা হাঙ্গরমুখ কাদেরিয়া মুঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ঘটনাটি ঘটে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়া ডেঙ্গা হাঙ্গারমুখ এলাকার কেএসআরএম গ্রুপের মালিক আলহাজ¦ শাহজাহান এলাকার দুস্তদের মাঝে চাউল, শাড়ী, ১ হাজার টাকা সহ ইফতার সামগ্রী বিতরন করে থাকেন। তার ধারাবাহিকতায় আসন্ন রমজান উপলক্ষে গত ১৪ মে সোমবার সকালে এলাকায় ইফতার সামগ্রী বিতরনের দিন ধার্য্য ছিল। ইফতার বিতরনের কথা শুনে মদ্রাসা মাঠে আগের দিন থেকে দুরদুরান্ত এসে মহিলারা জমায়াত হতে থাকেন। সকাল ১০ টায় ইফতার সামগ্রী বিতরন শুরু করা হলে এক সাথে ৩০Ñ৩৫ হাজার মহিলা হুড়–াড়–ড়ি করে মাঠে প্রবেশ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত হয়। এছাড়া অর্ধশতাধিক মহিলা আহত হন। খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

সাতকানিয়ার নলুয়ার পূর্ব গাটিয়া ডেঙ্গায় ইফতার সামগ্রী নেয়ার জন্য হুডুহুডি করে ছোটে যাচ্ছে মহিলারা

নিহতরা হলেন লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের মো. শফির স্ত্রী নুর জাহান(২২), একই এলাকার আবদুস ছালামের মেয়ে ফাতেমা বেগম টুনটুনি (১৫), সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের নুর আহমদের স্ত্রী রশিদা আকতার(৫০), একই উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের মোবারক হোসেনের মেয়ে সাকি আকতার(২৪), একই এলাকার হাসান ড্রাইভারের স্ত্রী রিনা বেগম(৪০), মোহাম্মদ ইসলামের স্ত্রী হাসিনা আকতার(৪০), বান্দরবান জেলার সোয়ালক এলাকার কায়েস আলীর স্ত্রী নুর আয়শা বেগম(৪০), আনোয়ারা বেগম (৬০) ও আবদুল হাফেজের স্ত্রী জোৎ¯œা বেগম(৫৪)। নিহত জো¯œা আকতারের কোন স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পদদলিত হয়ে আহতদের মধ্যে যাদের নাম যাওয়া গেছে তারা হলেন মোস্তফা খাতুন (৬০), নুর আয়শা (৫০), হোসনে আরা বেগম(৪৫), জুনু মিয়া(৪০), রাজিয়া বেগম(৫৫), রোকেয়া বেগম(৩৫), দিরুয়ারা বেগম(৪০) ও মোহাম্মদ সাকিব(১২)।

ইফতার সামগ্রী নিয়ে বের হচ্ছে মহিলা।

ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন, পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম মিনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম এমরান ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) দিপাঙ্কর তঞ্চঙ্গ্যা, সাতকানিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হোসেন ও ইউপি চেয়ারম্যান তসলিমা আকতার প্রমুখ। নিহত সাকি আক্তারের ছোট ভাই তানভির হোসেন জানান, ইফতার সামগ্রী নিতে এসে আমার বড় বোন না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তার ১ ছেলে আছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, ইফতার সামগ্রী নিতে এসে প্রচন্ড চাপে পড়ে বেশ কিছু মহিলা হতাহত হয়েছে। এটি একটি মর্মান্তি ঘটনা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবিরকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দেয়ার নিদের্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ।

ইফতারসামগ্রী দাতা ও কেএসআরএম গ্রুপের মালিক আলহাজ¦ মোঃ শাহজাহান জানান, আজ সকালে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরো দুস্থদের মাঝে সৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে ইফতার সামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। এসময় পর্যাপ্ত নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও নিয়জিত ছিলেন। হঠাৎ অতিরিক্ত চাপে হিটস্ট্রোক করে ১০ জন মহিলা মারা গেছে। মানুষের ধৈর্যহীনতার কারণে এমন একটি দূর্ঘটনা ঘটেছে, যা দুঃখজনক। প্রাথমিক ভাবে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে লাশ দাফনের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা দেয়া হবে। পরবর্তীতে প্রত্যেক পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা করে নগদ অনুদান দেয়া হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ইফতার সামগ্রী বিতরনের বিষয়টি ঘটনার পর জেনেছি। বেশ কিছু মহিলা হতাহত হয়েছে। তবে তাদের সামগ্রী বিতরনে নিরাপত্তার যথেষ্ট ত্রুটি ছিল। ঘটনার করাণ জানার জন্য একটি ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ফেলে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Top