রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ঈদগাঁওতে তৎপর হুন্ডি চক্র।

IMG_20180513_125949.jpg

মোঃ মিছবাহ উদ্দিন#
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে রমযান ও ঈদকে সামনে রেখে তৎপরতা বেড়েছে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশের বিশাল একটি আয়ের অন্যতম উৎস রেমিট্যান্স থেকে হলেও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত অবৈধ হুন্ডি চক্রের কারণে। ঈদগাঁওর বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী প্রবাসী। তারা বৈধ পথে টাকা না পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত টাকা পাঠাচ্ছে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়ীদের হাতে। আর প্রশাসনের চোখের আড়ালে ব্যাপকহারে চলছে জমজমাট হুন্ডি ব্যবসা। যুগ-যুগ ধরে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। যদিওবা ব্যবসাটি অবৈধ পন্থায় কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এ চক্র বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
বৃহত্তর ঈদগাঁওর সবকটি ইউনিয়নের শ্রমজীবি মানুষ সৌদিআরব, দুবাই, কাতার, বাহরাইন, ওমান, সিঙ্গাপুর ও মালেশিয়া,যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সহ বিভিন্ন দেশে চাকুরীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে প্রবাসে জীবনযাপন অতিবাহিত করছে।

এছাড়াও রয়েছে বিপুল সংখ্যক মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। এসব প্রবাসী সাংসারিক খরচসহ নানা প্রয়োজনে দেশে টাকা পাঠান। নিয়মানুসারে প্রাবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ দেশে পাঠানোর কথা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যেসহ বিভিন্ন দেশে সারাদিন হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে সেখানে দেশে টাকা পাঠাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ড্রাফট বানাতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। ফলে নানামুখী বিড়ম্বনা ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রবাসীরা হুন্ডিকে অর্থ প্রেরণের সহজ মাধ্যম হিসাবে বেছে নেয়।

হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে ঈদগাঁওতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হলেও সরকারের কোষাগারে এক কানাকড়িও রাজস্ব জমা পড়ছেনা। এ ধরণের হুন্ডি ব্যবসা চলতে থাকলে সরকার হারাবে বিপুল পরিমান রাজস্ব আর প্রতারিত হবে প্রবাসী পরিবারের লোকজন। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা ঈদগাওকে হুন্ডির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে।

জানা গেছে,ঈদগাঁওর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক হুন্ডি কারবারী প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো কোটি কোটি টাকার লেনদেন করে যাচ্ছে প্রকাশ্যে। যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

বিশেষ করে ঈদগাঁওর ইসলামপুর ইউনিয়ন, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন, ইদগাঁও ইউনিয়ন, জালাবাদ ইউনিয়ন, পোকখালী ইউনিয়ন, চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন সহ জেলা/উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই, সৌদি আরব, ও মধ্যপ্রাচ্যে থেকে আসা কোটি কোটি টাকা বিলি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব হুন্ডি ব্যবসায়িরা কালো টাকা কামানোর জন্য রাত দিন ঈদগাঁওর বিভিন্ন বসত বাড়ীতে টাকা পৌঁছে দিয়ে তাদের কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই কোটিপতি হয়ে গেছে। যা সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বিষয়টি তদন্ত করলে হুন্ডি ব্যবসার আসল রহস্য ও সন্ধান মিলবে বলে জানান স্থানীয়রা।

এক সময় যারা অত্যন্ত গরীব প্রকৃতির লোক ছিলো তারা আজ হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি কিভাবে কোটিপতি হয়েছে কিংবা তাদের এই অবৈধ টাকার আয়ের উৎস কি। তা অনুসন্ধানে সরকারি কোন নজরদারী না থাকায় এলাকার হুন্ডি গডফাদাররা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠে।

এমনকি তাদের হুন্ডিতে দেয়া টাকা নিতে আসা অনেকেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে সবকিছু হারাচ্ছে। এছাঁড়া তাদের অবৈধ কালো টাকা দিয়ে অনেকেই এলাকায় প্রভাব দেখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।এ অবৈধ টাকা দিয়ে অনেকেই বহুতল ভবণ ও ঘরবাড়ি নিমার্ণ করছে।

এ ব্যাপারে কয়েকটি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য জানান। এ অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা ও আদম পাচারকারীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ প্রচার হওয়ার পরেও তারা রহস্য জনক ভুমিকা পালন করায় উক্ত হুন্ডি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকায়। তারা এতই শক্তিশালী যে তারা প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়াও ছিনতাই কারীদের সাথেও তাদের সম্পর্ক রয়েছে। গ্রাহকের হাতে টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার পরে ছিনতাই চক্রের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় তা আবার হাতিয়ে নিচ্ছে। বনে যাচ্ছে কোটিপতি! তাদের জীবনযাপন অনেক উন্নত মানের, দামি দামি বাইক নিয়েই চলাফেরা তাদের!

এভাবে করে বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের টাকা শতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ীদের এজেন্টের দায়িত্বে নিয়োজিত রেখে একটি চক্র স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকদের টাকায় ভাড়া করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় লোকদের উৎকোচের মাধ্যমে আতাঁত করে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সচেতন মহল সুত্রে জানা গেছে।

এসব হুন্ডি ব্যবসায়িদের গ্রেপ্তার করা না হলে তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। সময়মত তাদের লাগাম টেনে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রতি জোর দাবী জানিয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. ফরিদ উদ্দীন খন্দকার জানান, হুন্ডি ব্যবসায়ীকে ধরার জন্য প্রশাসন সার্বক্ষনিক তৎপর।হুন্ডি ব্যবসার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, যারা হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সে ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

Top