দোয়ারাবাজারে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কথিত ডাঃ সফিক, নির্বিকার প্রশাসন

IMG_20180512_010954.jpg

আশিস রহমান,স্টাফ রিপোর্টার:
দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কথিত ডাঃ সফিকুল ইসলাম। এস.এম. সফিকুল ইসলাম দোহালিয়া উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ সহকারী কমিউনিটি অফিসার থাকাকালীন সময়ে রাতারাতি সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে হাসপাতালের পাশেই নিজ অর্থে অন্য নামে নিবন্ধন বিহীন এস.এম.ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তুলে। সাধারণ মানুষদের সরলতাকে পুজি করে এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। স্বাস্থ্য সেবার নামে কথিত ডাঃ সফিকের এই অবৈধ ব্যবসায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী যুবকরাও জড়িত আছে বলে জানা যায়।
সরজমিনে জানা যায়, এস.এম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোনো দক্ষ ডাক্তার কিংবা প্যাথলজিষ্ট। এস.এম. সফিকুল নিজেই আলট্রাসনোগ্রাফি করেন যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়া প্যাথলজিষ্ট বিহীন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হাসপাতালে আগত রোগীদের কাছ থেকে অনেকটা জোরপূর্বক ভাবেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। যেখানে ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্ট চালানোর বৈধতা রয়েছে সেখানে ডাঃ সফিকের এসব বিষয়ে অবগত থাকা স্বত্তেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের শক্তিশালী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নাকি প্রকাশ্যে এই ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালিয়ে আসছেন ডাঃ সফিক এমনটিই জানা যায় স্থানীয় ভোক্তভোগীদের কাছ থেকে। খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রশাসনকে কোনো ভাবেই পাত্তা দিচ্ছেন না ডাঃ সফিক। এরআগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্তৃক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে ডাঃ সফিককে শোকজ করা হয়। তার বিরুদ্ধে নামেমাত্র শোকজ করেই দায়সারা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। কিন্তু শোকজ পরবর্তী কোনো নোটিশের জবাব না দিয়ে উপরন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সে তার মতো করেই এখনো পর্যন্ত দোহালিয়াতে অবৈধ এস.এম ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালিয়ে আসছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, দোহালিয়া ও এর আশাপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো ভালো ডাক্তার না থাকায় স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা অনেকটা অপারগ হয়ে কথিত ডাঃ এস.এম.সফিকুলের কাছে জিম্মি। যেকারনে এতোদিন পর্যন্ত ডাঃ সফিকের সকল অপকর্ম নীরবে সহ্য করে গেছে স্থানীয়রা। আবার সেবাগ্রহীতা অনেক মহিলা ডাঃ সফিকের ব্লাকমেইল এর শিকার। মান সম্মানের ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না তারা। আর এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার কিছু বখাটে যুবকের যোগসাজশেই চলছে তার রমরমা অবৈধ ব্যবসা এবং যাবতীয় অপকর্ম। তার অপকর্মের কারণে এলাকায় তাকে একাধিক বার পিটুনি দেওয়া হয়েছে। শালিস বিচার পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু কে শুনে কার কথা? দিন শেষে ডাঃ সফিকেরাই বহাল তবিয়তে আছে। চালিয়ে যাচ্ছে সেবার আড়ালে অবৈধ ব্যবসা ও অপকর্ম। এদিকে এস.এম সফিকুলকে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলির পরও তিনি কর্মস্থলে কাজ না করে দোহালিয়া এস.এম. ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই সময় ব্যয় করে আসছেন বলে জানা গেছে। এব্যাপারে মোবাইলে এস.এম সফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, এস.এম. ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমার না। এটির নিবন্ধন না থাকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা রয়েছে। তিনি নিয়মিত কর্মস্থল দিরাই ভাটি পাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন বলা জানিয়েছেন। যদিও ভাটিপাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবাগ্রহীতারা জানিয়েছেন তারা এস.এম সফিকুল ইসলামকে চেনেনইনা এমনকি কোনোদিন দেখেনওনি। যোগাযোগ করা হলে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসিবুর রহমান বলেন, এস.এম.সফিকের সাথে আমার দেখাই হয়নি। তার সাথে মোবাইলে কথা হয়েছে। সে গত মাসের ২৪ তারিখে যোগদান করেছে। তাকে বলেছি নিয়মিত কর্মস্থল ভাটিপাড়ায় সময় দেওয়ার জন্য। দোহালিয়ার নিবন্ধন বিহীন এস.এম ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্পর্কে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ পুলিন বিহারী জানান, বিষয়টি আমি দেখবো। এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাস জানান, তার বিষয়টি আমি দেখছি। তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Top