মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে শীঘ্রই পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের

32130784_601079463578224_4368224830885986304_n.jpg

 অাবু বক্কর ছিদ্দিক , মহেশখালী :

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী দ্বীপে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে । মাতারবাড়ীতে দেশের কয়লা ভিত্তিক অন্যতম বৃহৎ বিদুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা বন্দর নির্মাণের জন্য যে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সংযুক্ত চ্যানেল খনন করা হচ্ছে, তারই পাশে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দরটি নির্মিত হবে । বন্দর নির্মাণের জন্য আগামী কিছুদিনের মধ্যেই পরামর্শক নিয়োগ করা হবে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ । চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোঃ জাফর আলম বলেন, মাতারবাড়ীতে দ্রুত গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়েছে । তাই আগামী কিছুদিনের মধ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের নকশা কী রকম হবে তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা চলছে । ইতিমধ্যে এই গভীর সমুদ্র বন্দরের ডিটেইল ডিজাইন আহবান করে বিজ্ঞপ্তিও প্রচার করা হয়েছে । আশা করা যাচ্ছে আগামী ১০ মাসের মধ্যে এই নকশা হাতে এসে যাবে । বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ সবার মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে । আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা দেশে একটি কার্যকর ও লাভজনক গভীর সমুদ্র বন্দর দেখতে চান । এই গভীর সমুদ্র বন্দর ভারত, নেপাল, ভুটান, চীনসহ বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর ল্যান্ডলক এলাকাগুলোর জন্য একটি বিরাট সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। গভীর সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে দেশে এবং দেশের বাইরে পণ্য পরিবহণে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হলে তা প্রতিবেশী দেশগুলোর কাজে সহায়ক হতে পারে। আর তাতে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে লাভবান হবে । প্রতিবেশী দেশগুলোকে বাদ দিয়ে এই সমুদ্র বন্দর লাভজনক হবে বলে মনে হয় না। ইতিপূর্বে দেশের গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ নিয়ে যেসব কথা-বার্তা হয়েছে তাতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ল্যান্ডলক এলাকায় পণ্য সঞ্চালনে সুবিধা প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল । পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (পিআরআই) অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান মনসুর জানান, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ পণ্য হ্যান্ডলিং করছে । এই বন্দরটিকে ঘিরে আমদানি-রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সক্ষমতা হারাবে । তাই জরুরি ভিত্তিতে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা দরকার । একটি সূত্র জানায়, জাপান সরকার নিয়োজিত তিনটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে যে কাজ করছে তাতে সমুদ্র সংযুক্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৫০ মিটার প্রশস্ত এবং ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীর একটি চ্যানেল খনন করছে । এই চ্যানেলটিই মাতারবাড়ীতে বাংলাদেশের প্রত্যাশীত গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে । এদিকে নৌ-বন্দরে যাতায়াতের জন্য অাগাম মাতারবাড়ী টু চকরিয়া ফাঁসিয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট প্রস্থ সড়ক নির্মাণের জন্য সার্ভেয়ার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে । ইতিমধ্যে উক্ত সড়ক নির্মাণের জন্য চকরিয়া বদরখালী ও মহেশখালীতেও সার্ভেয়ার করে গেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা । বন্দর যাতায়াতের সড়কটি চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী হয়ে বদরখালী বাজার ঘেষে মহেশখালী সেতুর উত্তর পাশ দিয়ে পশ্চিমে সরাসরি মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দরে যুক্ত হবে বলে জানান কর্মকর্তারা ।

Top