দোয়ারায় উরুরগাও নিবাসী শহিদের মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্য

images-7.jpg

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ::
শহিদ মিয়া (১৮) টগবগে উঠতি বয়সের পরিশ্রমি এক যুবক। পরিবারের দারিদ্রতার করাল গ্রাসে লেখাপড়া করা হয়নি তার। শিশু থাকা কালে পরিবারের অস্বচ্ছলতার মধ্যে নানাবিধ কারণে হতভাগিনী মা আম্বিয়াও তাদের ছেড়ে চলে যায়। কষ্ঠ ও পরিশ্রমের মধ্যে বেড়ে উঠে শহিদ। সে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উরুরগাঁও গ্রামের মোস্তফা মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র। স্থানীয় বাংলাবাজারে বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করতো শহিদ। সহপাটি হিসেবে সবসময় উঠাবসা ছিল একই ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের হাছেন আলীর পুত্র বাবুল মিয়ার সঙ্গে। বন্ধু বাবুল ছিল ট্রলির ড্রাইভার। সারা দিন কাজ শেষে এক সঙ্গেই দু‘জন মিলে মিষে থাকতো। বাবুল ছিল বখাটে প্রকৃতির যুবক। হঠাৎ দু‘জনে প্ল্যান করে পরিবারের কাউকে কিছু না বলে পাড়ি জমাবে অজানা উদ্দেশ্যে। রাজধানী ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টেস এ চাকুরী নিবে। বন্ধু বাবুলের প্ল্যান মোতাবেক শহিদ তার সঙ্গে পাড়ি জমায় অজানা গন্তব্যে। ৪ মাস পূর্বে কাউকে কিছু না বলে দু‘জনই ঢাকায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে দুজনই চাকুরী করতে না পেরে বিহঙ্গ পরিবহন নামের একটি পরিবহন বাসে বাবুল ড্রাইভার ও শহিদ হেল্পার হিসেবে হিসেবে কাজ করতে থাকে। দীর্ঘ দিন পর শহিদ পরিবার কে জানায় সে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করে। গত ২১ মার্চ ঢাকা থেকে ফোন আসে শহিদ আর নেই। সে দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ওই ঘটনায় স্থানীয় বাড্ডা থানা পুলিশ দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে মর্মে শহিদের লাশ তার পিতার কাছে হস্তান্তর করে। কিন্ত এর পরেই শহিদের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর থেকে সহপাটি বাবুল পলাতক রয়েছে। তারও কোনো খোঁজ মিলছেনা।
এ থেকে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন উঠেছে শহিদের মৃত্যুর ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকান্ড। এ নিয়ে পরিবারের লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। অজোপাড়া গাঁয়ের দিন মজুর মোস্তফা এখন পুত্র শোকে কাতর হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। শহিদের পরিবারের দাবি, সে দুর্ঘটনায় নয় সহপাটি বাবুল তাকে চাকুরীর প্ররোচনায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্ত এর পেছনে কোনো প্রমাণাদি নেই হতভাগা পিতার কাছে। তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, বাড্ডা থানা পুলিশ ওই দিন আমাকে ছেলের লাশ তুলে দেওয়ার সময় বলেছেন সে চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছে। তাই তিনি বিশ্বাস করে লাশ নিয়ে বাড়ী ফিরেন। কিন্ত এর পর থেকে সহপাটি বখাটে বাবুলের কোনো সন্ধান না পেয়ে আমার ধারণা সে আমার ছেলেকে উদ্দোশ্য প্রণোদিত ভাবে হত্যা করেছে। তার পরিবারের লোকজনও রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। মাঝে মধ্যে আসলেও তাদের দেখা পাওয়া যায়না। এখন পর্যন্ত বাবুল আমার সঙ্গে ছেলের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানায়নি।

Top