ডাঃ সফিকের সেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতারা, কর্মস্থল দিরাইয়ে, কাজ করেন দোয়ারায়

FB_IMG_15257658830512118.jpg

আশিষ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার ::
ডাঃ সফিকের সীমাহীন ব্যক্তি সেচ্ছাচারিতায় দীর্ঘদিন অতিষ্ঠ স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবাগ্রহীতারা। নানাবিধ অনিয়ম, দূর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। প্রশাসনের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অদৃশ্য কারণে ডাঃ সফিক দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এব্যাপারে স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দারস্থ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কোনো ভাবেই পাত্তা দিচ্ছেন না ডাঃ সফিক। সর্বশেষ ০৮/০৫/২০১৮ইং তারিখ মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জনের নিকট ডাঃ সফিকের অনিয়ম, দূর্নীতি ও ব্যক্তি সেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকার লোকজন। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এস.এম.সফিকুল ইসলাম দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য সেক্টরের এক কলঙ্কিত নাম। নারী কেলেঙ্কারী থেকে শুরু করে হাসপাতালের হেড কোয়ার্টারে মদ, গাজার আসর সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত। জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরে সরকারি ডিউটিরত অবস্থায় প্রতি রোগীকে সরকারি স্যালাইন দিয়ে গ্রহন করে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে মিনি ক্লিনিকে পরিনত করেছেন ডাঃ সফিক। ডিউটিকালী সময়ে প্রত্যেক রোগীর নিকট থেকে ফি আদায় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরজমিনে জানা যায়, হাসপাতালের পাশে নিজ অর্থে অন্য নামে এস.এম ডায়াগনস্টিক নিবন্ধন বিহীন এস.এম.ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে নিজেই অবৈধভাবে আলট্রাসনোগ্রাফি করছেন। প্যাথলজিষ্ট বিহীন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডাঃ সফিক দীর্ঘ দিন যাবৎ হাসপাতালে আগত সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্তৃক বেশ কয়েক বার হাসপাতাল পরিদর্শন করে তাকে সতর্ক ও শোকজ করা হলেও তিনি কোনো নোটিশের জবাব না দিয়ে তার মত করে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই হাসপাতালে অবৈধভাবে রাম রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন তিনি। তার বেপরোয়া চলন ও ব্যক্তি সেচ্ছাচারিতায় অসন্তুষ্ট হয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গত ০৬/০২/২০১৮ইং তারিখে উপজেলার লক্ষীপুর উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু সে একমাস পরে যোগদান করে প্রভাব খাটিয়ে লক্ষীপুর উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ না করেই আজোবধি পর্যন্ত দোহালিয়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবস্থান করে অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে DGHS থেকে তাকে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ৪৫ দিনের জন্য বদলি করা হয় কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেখানেও সে যোগদান করেনি। পরবর্তীতে তার অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে গত ০৮/০৩/২০১৮ইং তারিখে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক সাধারণ সভায় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আলোচনা করে পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গত ২৪/০৩/২০১৮ইং তারিখে এক আদেশে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বদলিকৃত উপ সহকারী মেডিকেল অফিসারকে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ প্রদান করলেও ডাঃ এস.এম. সফিক তা অগ্রাহ্য করে দোহালিয়াতেই কাজ করে যাচ্ছেন। এভাবেই বার বার নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের মনগড়া নিয়মেই কাজ করছেন তিনি। তার এহেন বেপরোয়া চলাফেরায় তার সহকর্মীরাসহ সাধারণ সেবাগ্রহীতারাও উদ্বিগ্ন। এমতাবস্থায় সর্বশেষ গত ৩১/০৩/২০১৮ইং তারিখে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্তৃক বহুল সমালোচিত ডাঃ এস.এম.সফিকুল ইসলামকে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করলেও সে এখনো পর্যন্ত দোহালিয়া উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্ব হস্তান্তর না করে সম্পূর্ণ সরকারি বিধিবিধান বহির্ভূত ভাবে তার নিবন্ধন বিহীন এস.এম. ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবস্থান করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় এ দিকে সে দোহালিয়া উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোয়ার্টার তালাবদ্ধ রেখে সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। ফলে এক দিকে স্বাস্থ্য সেবার মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে অন্য দিকে বর্তমানে দায়িত্বরত উপ সহকারী মেডিকেল অফিসারের পক্ষে নির্ভিগ্নে দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর হচ্ছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, ডাঃ সফিক তার সদ্য বদলি কৃত কর্মস্থল দিরাইয়ে যোগদান করে ছুটি নিয়ে প্রায় দেড় মাস যাবৎ দোয়ারাবাজারে তার নামসর্বস্ব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবস্থান করে সরকারি বেতন ভাতা ভোগ করছেন। তবে স্থানীয়রা জানান, সে দিরাইয়ের টিএইচও ‘সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মেনেজ করেই এসব করছে।যোগাযোগ করলে এব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ পুলিন বিহারী ধর বলেন, ডাঃ এস.এম সফিকুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ নানান অভিযোগ রয়েছে। তাকে একাধিক বার শোকজ করা হয়েছে। আমি তার অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্টে অভিযান পরিচালনা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান ৭ দিনের সময় চাওয়ায় অভিযান স্থগিত করি। এর আগে উপজেলার মাসিক সভায়ই তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কাউকেই পরোয়া করছেন না। ডিউটিকালীন সময়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সময় দিচ্ছেন। জানতে পারছি তাকে বদলি করার পর দিরাইয়ে কর্মস্থলে তিনি যোগদান করে বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তবে এবিষয়ে দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু বলেন, ডাঃ সফিকের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমিই সর্বপ্রথম উপজেলার মাসিক সভায় আলোচনা উত্থাপন করি। তার অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বাচাঁনোর জন্য ৭ দিনের সময় চাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। যতদূর জেনেছি সে এখন ছুটিতে আছে এবং এই অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্ভিগ্নে চালিয়ে আসছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক জানান, উপজেলার মাসিক সাধারণ সভায় আমরা সর্বসম্মতিক্রমে ডাঃ সফিকুলকে বদলী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে সে আর কর্মস্থলে বদলি না হলে তাকে অনুপস্থিত বলে ধরে নেওয়া হবে। তারস্থলে অন্য আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তার অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্পর্কে কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। আজকে জানতে পারলে। উপজেলার সব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাস জানান, তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। বিষয়টি আমি দেখবো। দিরাইয়ের টিএইচও ‘কে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। তবে ডাঃ এস.এম সফিকুল তার উপর আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তিনি তার কর্মস্থলে দিরাইয়ে নিয়মিত কাজ করছেন। তার নামে কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার নেই।

Top