জামালগঞ্জে সুরমা নদী’তে পানি বৃদ্ধি, ফসল ডুবির অাশংকা পাউবো’র।

FB_IMG_1525805402433.jpg

অাখতারুজ্জামান তালুকদার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি::

টানা ভারী বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালগঞ্জের নদ-নদীতে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধির অাশংকায় ফসল ডুবির অাশংকা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

অাগামী দু’একদিনের মধ্যে পানি বিপদ সীমার খুব কাছাকাছি চলে অাসার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।এমনকি কোন কোন হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশও করতে পারে।এজন্য অপেক্ষা না করে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জামালগঞ্জ উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারি প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস গত (৮-মে)তার ফেইসবুক পেজে কৃষকদের বিশেষ সতর্কীকরণ একটি পোষ্ট দিয়েছেন।

তিনি তার পেজে লিখেন,গত ৫-মে থেকে ৮-মে পর্যন্ত প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবের কারনে সুরমা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।এই চার দিনের ব্যাবধানে সুরমা নদীর পানি জকিগঞ্জের অামলশীদে-১৮ ফুট,সিলেটে-১৪ ফুট,এবং সুনামগঞ্জে ৫-ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাছাড়া যেখানে হাওরের ডুবন্ত বাঁধ গুলোর ডিজাইন লেভেল(উচ্চতা)৬.৫০,সেখানে বর্তমানে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি ৪.৬৫।যেখানে বিপদ সীমার ৫.৪৭ ফুটে হিসেব করলে বাকী মাত্র ২.১০ ইঞ্চি।আর এই(৫.৪৭)লেভেল নদীর পানি অতিক্রম করলে হাওরের ডুবন্ত বাঁধ গুলোর ভিত্তি দূর্বল হতে শুরু করবে।এমন কি কোন কোন হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশও করতে পারে।

তিনি বলেন,সিলেট তথা ভারত বেসিনের পানি সুনামগঞ্জের নদী সমুহের এখনও পুরোপুরি ভাবে নেমে আসেনি।যখন নেমে আসবে তখনই বিপদের অশনিসংকেত দেখা দিবে হাওর সমুহে।

কৃষি বিভাগের তথ্য জানিয়ে বলেন,যেহেতু ৮০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে,সেহেতু রোদের অপেক্ষা না করে হাওর সমুহে ধান ফেলে না রেখে দু’একদিনের মধ্যে কেটে ফেলা হবে কৃষকদের জন্য সবচেয়ে উত্তম সিন্ধান্ত।

ধান কাটার শুরু থেকেই শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ায় কারনে কৃষকদের দেরী হচ্ছে।প্রতিদিন টানা বৃষ্টি বজ্রপাত উপেক্ষা করে কৃষকরা জীবনের ঝুকি নিয়ে হাওরে কাজ করে যাচ্ছেন।প্রকৃতির অবস্হা ভাল না হলে কৃষকের দূর্ভোগ আরও বাড়বে বলে অাশংকা সকলের।

উপজেলার হালির হাওরে ধান কাটা শেষ পর্যায়ে থাকলেও পাগনার হাওরে এখনও অনেক ধান কাটার বাকী রয়েছে।

Top