কালবৈশাখীর ভয়াবহতায় কয়েকশ বাড়ীঘর বিধ্বস্ত, জীবনযাত্রা ব্যাহত

FB_IMG_1525787600379.jpg

নির্মল এস পলাশ, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :
মঙ্গলবার ভোরে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ের পরেই অবিরাম ফোন কলের ঝড় বয়ে যাচ্ছে আমার মোবাইলে। স্বচক্ষে মানুষের দূর্ভোগ প্রত্যক্ষ করা ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ সংগ্রহের স্বার্থে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মাথায় করেই ছুটে চললাম আক্রান্ত এলাকায়। ঝড়ে ঘর হারানো আব্দুল গণির বাড়ীর উঠানেই পেয়ে গেলাম সদাকর্ম তৎপর স্থানীয় ইউপি সদস্য বশির বক্স কে।তিনি খোজ খবর নিচ্ছেন। ছবি তুলছেন, তালিকা করছেন ও যাকে যেভাবে পারেন সান্তনা দিচ্ছেন।পরে বিভিন্ন সূত্রে ও নিজস্ব সোর্সে খবর পেলাম আদমপুর ,ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের কয়েকশ ঘর বিধস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজারো গাছ পালা। ১১ কেভির ৩০টি খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সাথে এ জনপদের লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে।প্রচন্ড কাল বৈশাখী ‘ঝড়ের সাথে সাথে আলোর ঝলকানী নিয়ে প্রচন্ড বজ্রপাতের শব্দে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়ে। এ ৩ ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রচন্ড বেগে কাল বৈশাখী ঝড়ে আদখানি, জালালপুর কাটাবিল উত্তর ভাগ,কানাইদেশী, পাত্রখোলা ও মাধবপুর চা বাগান,হাজারীবাগ, সহ ১২/১৩ গ্রামে ব্যাপক বাড়ি ঘর ক্ষতিগস্থ হয়। রাস্তার গাছপালা উপড়ে পড়ে।থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আদমপুরের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুত এর ১১ কেভি ৫টি খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া উত্তরভাগ গ্রামের আব্দুল গনি,শামু মিয়া,গোলজান বেগম, মধ্যভাগ গ্রামের আলীবুন বেগম ,জালালপুর গ্রামের খালিক মিয়া ও আদকানি গ্রামের সুরজান বিবি’র ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। অপর দিকে একই সময় মাধবপুর ইউনিয়নে ঝড়ে প্রায় ৩০ টি ঘর সম্পূর্ন সহ শতাধিক বাড়ি ঘর বিধস্ত হয়। চা বাগান এলাকায় টিনের ঘরে চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। কয়েক শতাধিক গাছ পালা উপড়ে পড়েছে। মাধবপুর চা বাগান, মাঝের ছড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে ২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। মাধবপুরে দুহারিকা বট,গোপালবট,শ্রী নারায়ন দাশ,আজগর আলী, ধলাইপাড় গ্রামের হেলিমা বেগম.,বাঘবাড়ী গ্রামে সুরেন্ড কুমার সিংহের , দক্ষিণ মাঝেরগাঁও গ্রামের রতিকান্ত সিংহ, লক্ষী দেবী , গোবিন্দবাড়ি গ্রামে নীলু কুমার সিংহ তাদের ঘর সম্পূর্ন বিধস্ত হয়। এছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ১১ টি ঘর সম্পূর্ন ও আদমপুর বি.এন.ভূইঁয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পরিবার কল্যান কেন্দ্র, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হেরেংগাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকশ ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ শতাধিক স্থানে বিদ্যুৎ লাইনে তার ছিড়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির ডিজিএম মোবারক হোসেন জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে প্রায় ৩০টি খুঁটি ও ২ শতাধিক স্থানে তার ছিড়ে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ২ দিন লেগে যাবে। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমর্কতা মোঃ আছাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের তালিকা দেয়ার জন্য চেয়ারম্যান দের বলা হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত তিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান, আবদাল হোসেন ও পুষ্পকুমার কানু জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও অব্যাহত ভারী বর্ষণে এসব ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Top