মহেশখালীতে এসএসসি’র ফলাফলে ব্যাপক ধস; প্রশ্ন ফাঁসের অাশায় পড়াশুনা করেনি শিক্ষার্থীরা- দাবী শিক্ষকদের।

IMG_20180507_110656.jpg

এস. এম. রুবেল, মহেশখালীঃ
মহেশখালীতে এসএসসি’র ফলাফলে ব্যাপক ধস নেমেছে। ২০১৮সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষার ফলাফলে উপজেলার স্কুল ও মাদ্রাসায় গতবারের তুলনায় এবারে পাশের হারের পাশাপাশি কমেছে জিপিএ ৫ এর সংখ্যা ৷ সারা মহেশখালীতে স্কুল ও মাদ্রাসায় সর্বমোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩০জন ৷ তৎমধ্যে স্কুলে ২৭ জন, মাদ্রাসায় ৩জন।

এবারের পরীক্ষায় মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৫৭জন, উত্তীর্ণ ২৭৪জন, অকৃতকার্য ১৭৩জন, জিপিএ ফাইভ ৯জন ৷ মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩১জনের মধ্যে পাশ করেছে ২২৪জন , অকৃতকার্য ১০৭জন। কুতুবজোম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪৮জনের মধ্যে পাশের সংখ্যা ৯৯জন, অকৃতকার্য ৪৯জন৷ মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮০জনে পাশ করেছে ৭৫জন, অকৃতকার্য ৫জন, জিপিএ ফাইভ ৬জন ৷ মহেশখালী আইল্যান্ড হাইস্কুলে ১৪৬জনের মধ্যে পাশ করেছে ৭৯জন, অকৃতকার্য ৬৭জন, জিপিএ ফাইভ ৩ জন ৷ ঐ প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শাখায় ৫৯জনের মধ্যে পাশ করেছে ৪৯জন , অকৃতকার্য ১০জন, জিপিএ ফাইভ ৭জন ৷ বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০২জনে পাশ করেছে ৭৭জন, ২৫জন অকৃতকার্য ৷ হোয়ানক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭১জনে পাশ করেছে ১৮১জন, ৯০জন অকৃতকার্য ৷ কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭১জনে পাশ করেছে ১২৬জন, অকৃতকার্য ৪৫জন ৷ আব্দুল মাবুদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫৫জনে পাশ করেছে ৫৮জন, অকৃতকার্য ৯৭জন ৷ শাপলাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২১জনে পাশ করেছে ৭৪জন, অকৃতকার্য ৪৭জন ৷ নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১০জনে পাশ করেছে ৮২জন, অকৃতকার্য ২৮জন, জিপিএ ফাইভ ১জন ৷ পানিরছড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১৫ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৬৪জন, অকৃতকার্য ৫১জন, জিপিএ ফাইভ ১জন৷ হোয়ানক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৯জনে পাশ করেছে ৩৯জন, অকৃতকার্য ২০জন, জিপিএ ফাইভ ১জন ৷ কুতুবজোম অপসোর হাই স্কুলে ৪২জনে পাশ করেছে ২৪জন, অকৃতকার্য ১৮জন। এদিকে মাতারবাড়ী পাব্লিক হাই স্কুলের ৪জন পরিক্ষার্থীর সকলেই অকৃতকার্য হয়েছে।

অপরদিকে মাদ্রাসা সমূহেও তুলনামুলক ফলাফলের বিপর্যয় ঘটেছে। শাপলাপুর ইসলামীয়া আলীম মাদ্রাসায় ৭০জনের মধ্যে ৪৩জন পাশ করেছে এবং অকৃতকার্য হয়েছে ২৭জন শিক্ষার্থী৷ কুতুবজোম জামেয়া সুন্নাহ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ৪৮জনে ২৭জন পাশ এবং অকৃতকার্য ২১জন ৷ তাজিয়াকাটা সুমাইয়া রাঃ বালিকা মাদ্রাসায় ৩২জনে পাশ করেছে ১৭জন, অকৃতকার্য ১৫জন ৷ ধলঘাটা বদরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ১৪জনে পাশ করেছে ১১জন, অকৃতকার্য ৩জন৷ মুহুরিঘোনা ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসায় ৩৬জনে পাশ করেছে ৩৫জন, অকৃতকার্য ১জন৷ হোয়ানক ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৫৮জনে পাশ করেছে ৫৩জন, অকৃতকার্য ৫জন৷ কালারমারছড়া আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় ৪০জনে ৩৭জন পাশ, অকৃতকার্য ৩জন, জিপিএ ফাইভ ৩জন। কালারমারছড়া মঈনুল ইসলাম আলীম মাদ্রাসায় ৬৫জনে পাশ করেছে ৫১জন, অকৃতকার্য ১৪জন ৷ শাহ মজিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫০জনে পাশ করেছে ৩৪জন, অকৃতকার্য ১৬জন ৷ পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৭৩জনে পাশ করেছে ৬৭জন, অকৃতকার্য ৬জন৷ পানিরছড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩৬জনে পাশ করেছে ১৮জন, অকৃতকার্য ১৮জন৷ হোয়ানক রশিদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৬জনে পাশ করেছে ১৩জন, অকৃতকার্য ১৩জন ৷ বড়মহেশখালী বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৩৬জনে পাশ করেছে ২৩জন, অকৃতকার্য ১৩জন ৷ বড়মহেশখালী দারুল কোরআন সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৬২জনে পাশ করেছে ৩৩জন, অকৃতকার্য ২৯জন ৷ আহমদিয়া তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৯৫জনে পাশ করেছে ৬১জন,অকৃতকার্য ৩৪জন ৷ মাতারবাড়ী মজিদিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৯৫জনে পাশ করেছে ৮৫জন, অকৃতকার্য ১০জন ৷ মাতারবাড়ী রাজঘাট দাখিল মাদ্রাসায় ৩৫জনে পাশ করেছে ৩২জন, অকৃতকার্য ৩জন৷ ষাইটমারা মহিউস্সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় ২০জনে পাশ করেছে ১৫জন, অকৃতকার্য ৫জন৷ উঃনলবিলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৩জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২২জন, অকৃতকার্য হয়েছে ১জন৷

অধিক হারে রেজাল্ট বিপর্যয় নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। রেজাল্ট বিপর্যয়কে শিক্ষকের অবহেলা বলে দাবী করছে অভিভাবকগণ। একাধিক অভিভাবক ও সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহেশখালীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মান সম্মত শিক্ষক নেই। যার কারণে প্যারা শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। যেসব বেশির ভাগ শিক্ষকদের যোগ্যতা এইচ এস সি কিংবা অধ্যায়নরত। পাঠদানে যাদের অধিকাংশের প্রশিক্ষণ কিংবা শিক্ষকতা করানোর পর্যাপ্ত যোগ্যতার অভাব রয়েছে। অপরদিকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদকে দায়ী করছেন অনেকে। কেননা, কমিটি কর্তৃক শিক্ষক শূণ্যতা পূরণ করতে অযোগ্য প্যারা শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও পারিপারিক অসচেতনতাও রেজাল্ট বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখছে সচেতন জনসাধারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, রেজাল্ট বিপর্যয়ে প্রশ্ন পত্র ফাঁসের বিষয়টি অধিক প্রভাব ফেলেছে। সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীরা ঠিকমত অধ্যায়ন না করে প্রশ্ন প্রাপ্তির অাশায় বসে ছিল। অনেককে গভীর রাত পর্যন্ত ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে প্রশ্নের জন্য ব্যস্ত দেখা যায়। যার কারণে অনেক ভাল শিক্ষার্থীও রেজাল্ট খারাপ করেছে।

Top