দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয়, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা

received_1521612107967502.jpeg

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া:
দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ১০৩ জনই ফেল করায় এলাকাজাুড়ে এখন উদ্বেগ-উৎকন্ঠা শুরু হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা ফেল করার পেছনে দায়ভার কার?
এমন প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে এখন সর্বত্র। উপজেলা সদরের একমাত্র বিদ্যাপীঠ সদ্য সরকারী করণকৃত ওই মডেল ওই বিদ্যালয়ের এমন ফলাফলে হতাশ সর্বস্তরের সচেতন মানুষ। প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী অভিভাবকরা।
অন্য দিকে উপজেলার একমাত্র সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানের হতাশা জনক এমন ফলাফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও শিক্ষার মান নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
শফিক ইসলাম শফিক বলেছেন, এ দায়ভার ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের। তারা সারা বছর শিক্ষা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দিকে নজর নেই।
নুরুজ্জামান নয়ন বলেছেন, ফলাফল বিপর্যয়ে শিক্ষকদের জবাব দিহিতার আওতায় আনতে হবে।
বিনয় ভুষন পুরকায়স্থ ও খোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নিতে হবে। কেননা তাদের গাফিলতির কারণেই ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে।
জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেছেন, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে সকল শিক্ষক কে নোটিশ করেছি। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে ভাল ফলাফল করার সর্বাতœক প্রচেষ্ঠা চালাবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেছেন, ওই প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল হতাশা ব্যঞ্জক। ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৮ টি বিদ্যালয়ের ২৩শত ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে পাশ করেছে ১৪শত ১জন পাশ করেছে। মোট পাশের হার ৬০.৩৮, তন্মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন পরীক্ষার্থী। এদিকে ১০টি মাদরাসার ৫২৪ জন পরীক্ষার্থী এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৪৫৭ জন পাশ করে। মাদরাসায় মোট পাশের হার ৮৭.২১। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানেই জিপিএ ৫ পায়নি। গড় হিসেবে উপজেলায় স্কুলের চেয়ে মাদরাসা এগিয়ে রয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষায় ১৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শতভাগ পাশ নেই কোনো প্রতিষ্ঠানে। তবে উপজেলার সমুজ আলী স্কুল ও কলেজে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২৯জন তন্মধ্যে পাশ করেছে ১১০জন। ওই প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৮৫ দশমিক ২৭ ভাগ। জিপিএ-৫ নেই। সোনাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ২৭ জন পাশ করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জিপিএ-৫ নেই। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উপজেলার রাগিব-রাবেয়া উচ্চ বিদ্যালয় বালিউরা। ওই প্রতিষ্ঠানের ৬৮ জন অংশ গ্রহণ করে ৫৫ জন পাশ করে। প্রতিষ্ঠানের গড় পাশের হার ৮০.৮৮। জিপিএ-৫ নেই।
অপর দিকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১০টি মাদরাসার মধ্যে নরসিংপুর আদর্শ দাখিল মাদারাসায় শতভাগ পাশ করেছে। ওই প্রতিষ্ঠানে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪৭জন তন্মধ্যে ৪৭ জন পাশ করে। ফলাফলের দিক থেকে দ্বিতীয় হয়েছে উপজেলার কলাউড়া কাছেমিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদরাসা। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯৯ জন তন্মধ্যে ৯৮ জন পাশ করেছে। গড় পাশের হার ৯৮.৯৮। তৃতীয় হয়েছে পেশকারগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা। এবার ৪৩জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে পাশ করে ৪১জন। পাশের হার ৯৫.৩৪।

Top