স্বর্নপদক প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রখ্যাত আইনজীবী আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্য়্যা স্যার স্মরণে

1493298492-1.jpg

এ.এইচ.এম জসীম উদ্দিন :

প্রখ্যাত আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক, সমবায় আন্দোলনের পথিকৃত স্বীয় ধর্ম দর্শনের দার্শনিক আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যা স্যার আমাদের ছেড়ে মহান রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন ২০০৭ সনের ৬ই মে আজকের এইদিনে । দীর্ঘ ১২ বৎসর পার হলেও মনে হচ্ছে যেন গেল কিছু দিন হয় মাত্র । এত তাড়াতাড়ি যে সিনিয়রকে হারিয়েছি ১ যুগ হয়ে গেল তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। আমাদের মূল্যবান হায়াত যে কত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে তাহা সহজে অনুমেয় । এই পার্থিব জীবনের মহামূল্যবান সময়টুকুর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে নিজেকে যেমন সর্বস্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তেমনি দেশ, জাতি, সমাজ তথা সর্বোপরি পরিবারকে চরম উন্নতির শিখরে উপনীত করে আমাদেরকে তাঁর জীবন দর্শন লাভে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করার শিক্ষা দিয়েছেন । স্যারের জীবন দর্শন জ্ঞানগর্ভ গবেষণায় আদর্শ নাগরিক, সৎ ও দক্ষ আইনজীবী হওয়ার এক বিরল দৃষ্টান্ত বিদ্যমান । তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সফল চেয়ারম্যান, স্বর্ণপদক প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সমবায়ী ব্যক্তিত্ব, দেশের খ্যাতিমান দেওয়ানী, কোম্পানী ও ব্যাংকিং আইনজ্ঞ । সর্বপরি রত্নগর্ভা পিতা আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যা স্যার ছিলেন সেরা মানুষের প্রতিচ্ছবি । তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন । এডভোকেট আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যা স্যার হলেন সমাজ উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা, ছিলেন দেশ ও জাতির জন্য নিবেদিত প্রাণ । জনসেবাকে তিনি এবাদত হিসেবে নিয়েছিলেন । হাটহাজারী উপজেলার বৃহত্তর গুমানমর্দন (বর্তমানে নাঙ্গলমোড়া, ছিপাতলী ও গুমানমর্দন) ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ১৯৬৪-১৯৭১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । তার আমলে অত্র এলাকায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয় । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা সেতু কালভার্ট নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, নলকূপ স্থাপন, কৃষির আধুনিকায়ণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে এলাকার পুরানো চিত্র পাল্টে যায় । সমবায় ও গ্রামোন্নয়নে তিনি সর্বজন শ্রদ্বেয় অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, নোবেল বিজয়ী ড. মোঃ ইউনুস, মুজিব নগর সরকারের পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব আলম চাষী প্রমুখের সাথে কাজ করেন । সমবায় আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যাপক অবদান রাখেন । তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারী, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক এর পরিচালক, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ জুট মিলস এর পরিচালক, চট্টগ্রাম জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি সহ আরো বহু সামাজিক, শিক্ষা ও সমবায়মূলক সংগঠন পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন । ১৯৭২ সালে তিনি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমবায় কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন । এছাড়া তিনি ভ্রমণ ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে একাধিকবার ভারত, শ্রীলংকা সহ নানা দেশ সফর করেন এবং একাধিকবার মা ও স্ত্রী সহ পবিত্র হজ্ব ওমরাহ্‌ পালন করেন । তিনি জাতীয় রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন । ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে যোগদান করেন । পরবর্তীতে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আদর্শে প্রভাবিত হন । ১৯৬৩ সালে তিনি আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের বিরোধিতা করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বেসিক ডেমোক্রেট নির্বাচিত হন । ১৯৭১ সালে নিজ বুদ্ধিমত্তায় ও সাহসে তিনি গুমানমর্দন ইউনিয়নকে হানাদার বাহিনীর কবল থেকে রক্ষা করে এলাকবাসী হিন্দু-মুসলিম-বড়ুয়া সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন । এ জন্য স্বাধীনতাত্তোর ঐ এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার আশ্রয়প্রাপ্ত হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন তাকে ২টি স্বর্ণের মেডেল ও নগদ অর্থ উপহার দেন । নগদ অর্থের যা তিনি স্থানীয় স্কুলের উন্নয়নে খরচ করেন । এডভোকেট আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যা স্যার ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বুজুর্গ আইনজীবী । সুদর্শন দীর্ঘদেহী এ মহৎপ্রাণ মানুষটির মুখে স্মিত হাসি লেগেই থাকতো । মহানবীর মহান আদর্শের অনুসারী আধুনিক শিক্ষিত এ আইনজীবী ছিলেন ইসলামী দর্শন ইংরেজী, আরবী, বাংলা, সমাজ ও আইনী জ্ঞানে সমৃদ্ধ । ধার্মিকতা ছিল তার পারিবারিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার । প্রায় সবসময় অজু অবস্থায় থাকতেন তিনি । ওয়াক্তের সাথে সাথে নামাজ আদায়ের জন্য চট্টগ্রামের আইনজীবী অঙ্গনে তিনি প্রবাদ পুরুষে পরিগণিত হয়েছিলেন । আজান শুনলেই তিনি কোর্টে দাঁড়িয়ে জোহরের জামাত ধরার জন্য শুনানী মুলতবী চাইতেন এবং নামাজ শেষ করেই অসমাপ্ত শুনানী সমাপ্ত করতেন । তিনি মাঝরাতে তাফসীরসহ্‌ কুরআন হাদিস তেলাওয়াত করতেন । তাহাজ্জুদ নামাজ মিস করতেন না । ফরজের পাশাপাশি নানা নফল এবাদতের ব্যস্ত থাকতেন । সম্পদের হিসাব করে যাকাত দিতেন । ১৯৭৭ সালে মাকে এবং ১৯৮২ সালে সস্ত্রীক পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন । এছাড়া আরো অসংখ্যবার পবিত্র ওমরাহ পালন করেন । প্রচলিত আইন ও সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে মৌলিক চিন্তার অধিকারী আলহাজ্ব এ এম য়্যাহ্‌য়্যা স্যার সমবায় বিষয়ক বেশ কটি সুচিন্তিত প্রবন্ধ নিবন্ধের লেখক । এককালে তাঁর লেখা জাতীয় ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় নিয়মিত দেখা যেতো । তাঁর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিমাত্রই জনাব য়্যাহ্‌য়্যা স্যার এর গভীর জ্ঞান, অনুসন্ধিৎসু মন ও চারিত্রিক সততা সম্পর্কে অবহিত । ইসলামের জীবনবোধের নিবেদিত এই প্রাজ্ঞ ব্যক্তির রচিত একটি বই প্রকাশিত হয়েছে ‘কুরআন ও হাদিসের দুআ’ শিরোনামে । তিনি আইন অঙ্গনে শুধুমাত্র একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ছিলেন তা নয় । তিনি আমাদের জন্য একটি ইন্সটিটিউট বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলেন । ১৯৬১ সালের রাউজনের সুলতানপুর গ্রামে (বর্তমানে পৌরসভা) ঐতিহ্যবাহী উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের মহীয়সী নারী জায়তুন আরা বেগমের সাথে তিনি পরিণয় সুত্রে আবদ্ধ হন । তাঁর শ্বশুর ছিলেন সেকালের নামকরা ব্যক্তিত্ব আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ল’ গ্র্যাজুয়েট আবু মোহাম্মদ এজাহার হোসেন বি.এল । মরহুম জায়তুন-য়্যাহ্‌য়্যা দম্পত্তির একমাত্র পুত্র প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী এ.এম.জিয়া হাবীব আহ্‌সান রাষ্ট্রপতি পদক সহ অসংখ্য পদক প্রাপ্ত খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠক, বিশিষ্ট সমাজসেবী বহু গ্রন্থ প্রনেতা ও লেখক । মরহুম পিতার মহান আদর্শ বুকে ধারণ করে আইন পেশায় নিয়োজিত থেকে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা ও সুখ্যাতি অর্জন করেছেন । ৬ কন্যার সকলেই চট্টগ্রামের মহিলাদের স্বপ্নের স্কুল ডাঃ খাস্তগীর সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন । ৬ কন্যার একজন জান্নাতুল নাঈম রুমানা আইনজীবী, তিনি পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন । ২ কন্যা ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস, বিসিএস ও ডাঃ জান্নাতুল মাওয়া চিকিৎসক উভয়েই পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট হিসেবে মানবতার সেবায় অবদান রেখে চলেছেন । অপর ৩ কন্যার মধ্যে ১ জন আলহাজ্ব কানিজ ফাতেমা মুন্নী এম.এ. ডিগ্রী অর্জনকারী বীমা কর্মকর্তা । ২য় জন তাসনীম আরা বেগম (পান্না) পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিক্রিধারী গৃহবধু, ৩য় জন জান্নাতুল নাবিলা তানিয়া এম.বি.এ ডিগ্রীধারী গৃহবধূ । তাঁর ৩ মেয়ে জামাতাও উচ্চ শিক্ষিত ও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত । বড় জামাতা এডভোকেট সৈয়দ আনোয়ার হোসেন স্যারের সরাসরি জুনিয়র ছিলেন । তিনি স্যারের মত দেওয়ানী, ব্যাংক ও কোম্পানি আইনে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জনে স্যারের যোগ্য শিষ্য হিসেবে আইন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন । মেঝ জামাতা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মার্চেন্ট নেভীর সাবেক ক্যাপ্টেন, সেজ জামাতা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন সি.এ । বার্জার, বি.এন.ও, (বর্তমানে ওয়াস্টার্ণ মেরিন) সহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে যথেষ্ট সুখ্যাতি লাভ করেন । বর্তমানে নিজে Compute নামক অডিট ফার্ম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন । ৪র্থ জামাতা ডাঃ আবদুল কাদের জিলানী এম.ডি, এম.বি.বি.এস, বিসিএস সহকারী অধ্যাপক (ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ) হিসেবে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ঢাকায় কর্মরত আছেন । ৫ম জামাতা সাইয়ান বিন রাহিম এম.বি.এ পাশ করে ঢাকায় ডি.ও.এইচ.এস বারিধারায় স্থায়ী বসবাস করে ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন । ৬ষ্ট জামাতা ইসমাইল ইবনে নুরুল ইসলাম এম.বি.এ (সি.ইউ) গ্রামীণ ফোন কর্মকর্তা হিসেবে কক্সবাজার কর্মরত আছেন । এক কথায় এডভোকেট আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যা স্যার ও তার সৌভাগ্যবান সহধর্মিনী রত্নগর্ভা পিতা-মাতা হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ও প্রশংসিত হয়েছেন । আলহাজ্ব এডভোকেট এ.এম য়্যাহ্‌য়্যা স্যার চট্টগ্রামের প্রবীণ ব্যারিস্টার আলহাজ্ব আমিনুল হক সাহেবের উচ্চ শিক্ষিত গুণধর কন্যা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রবন্ধকার, নারী উন্নয়ন কর্মী চিটাগাং ভিক্টোরী ন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মিসেস আশ্‌ফা খানম (হেলেন) বি.এস.সি (অনার্স) এম.এস.সি (রসায়ন) -এর সাথে একমাত্র পুত্র সন্তানের বিয়ের মাধ্যমে পরম আত্মীয়তার সূচনা করেন । মরহুম সিনিয়র এর আইনজীবী ভবনস্থ ৮০ নং চেম্বার চট্টগ্রামের মানবাধিকার কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয় । হক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হকের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন তিনি । তাঁর ছিল সমৃদ্ধ এক লাইব্রেরী যাতে দেশ-বিদেশের বহু প্রামান্য বই, গবেষণা পত্র ও দুর্লভ জার্নাল রেফারেন্স বই সমূহ রয়েছে । তিনি মানবতার কল্যানে জীবনে অসংখ্য মাদ্রাসা-মসজিদ, স্কুল ও সামাজিক সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করে গেছেন । তিনি পেশায় আইনজীবী হলেও ধর্ম এবং ধর্মীয় অনুশীলন সম্বন্ধে ছিলেন দৃঢ় বিশ্বাসী এবং তা পালন করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন । দুঃখজনক হলেও সত্য, আজকের সমাজে সুন্দর উপদেশ দেয়া বক্তার অভাব নেই । সভা-সম্মেলনে গেলে দেখা যায় ভালো কথা, সৎ উপদেশের ছড়াছড়ি কিন্তু বাস্তবে কি আমরা নিজেরাই তা পালন করি ? তাই যদি হত তাহলে দেশের এ দুরাবস্থা কেন ? এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের বাণী, ‘হে বিশ্বাসীগণ তোমরা যা কর না, তা তোমরা কেন বল ?’ তোমরা যা করনা তা তোমাদের বলা আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত (সুরা সাফফঃ ২-৩) । আজকের সমাজে বিরাজমান সততার মরুভূমিতে য়্যাহ্‌য়্যা স্যার ছিলেন অনুসরণীয় ব্যতিক্রম । সারাজীবন সততার সাথে আইনের জগতে ও সমাজ জীবনে দায়িত্ব পালন করে গেছেন অনেকটা নীরবে । সে জীবন তাকে উপহার দিয়েছে বরণ্য সন্তান-সন্ততি এবং সবসময় তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনায় শোকাহত বন্ধু-বান্ধব, নিকট আত্মীয় স্বজন, গুণগ্রহী ও এলাকাবাসী । আজকের এই দিনে আমাদের প্রাণ প্রিয় সিনিয়র য়্যাহ্‌য়্যা স্যার ২০০৭ সালের ৬ মে বাদ ফজর স্রষ্টার ডাকে সাড়া দিয়েছেন । গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীর গুমাণমর্দন ও সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ মাঠে দু দফার জানাজা শেষে নগরীর কাজেম আলী হাইস্কুলের সম্মুখস্থ হয়রত মোল্লা মিসকিন শাহ্‌ (রহঃ) মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে প্রিয়তমা স্ত্রীর পাশে তাঁকে দাফনের পর চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন । তিনি দুনিয়া থেকে চলে গেছেন সত্যিই তবে আইন পেশা অবলম্বন করে কিভাবে সৎভাবে জীবন যাপন করা যায়, পরহেজগার থাকা যায় সেটা তিনি দেখিয়ে গেছেন । এডভোকেট আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যা স্যার-এর প্রতিষ্ঠিত মানবতার কল্যানের সমৃদ্ধ উপহার ‘জায়তুন য়্যাহ্‌য়্যা ওয়েল ফেয়ার ট্র্যাস্ট’ সম্পূর্ণ জনকল্যাণমূলক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী জনহিতকর একটি প্রতিষ্ঠান । এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বদা মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হউক এবং খালু ও খালাম্মার আত্মায় সবসময় শান্তি জারী থাকুক । এটাই সর্বদা কামনা করি । সাথে সাথে আল্লাহ্‌ পাক আমাদেরকেও কবরের উপযুক্ত বান্দা হিসেবে আমল করে যাওয়ার তৌফিক দান করুন । এই মহান বহুমুখী প্রতিভাধর গুনী ব্যক্তিকে নিয়ে দু কলম লিখার জন্য আমার মত নগণ্য ব্যক্তিকে তৌফিক দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ সুবহান ওয়াতালার শোকরিয়া আদায় করছি । আল্লাহ্‌ আমাদের ঈমান ও ইজ্জত হেফাজত করুন । মরহুম য়্যাহ্‌য়্যা স্যারের মত কথায় ও কাজে, ঈমানে ও আমলে আমাদের মিল দিন । আমিন ।

লেখকঃ আইনজীবী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম শাখা, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-বিএইচআরএফ ।

Top