যশোরের মনিরামপুরে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া: আওয়ামী লীগ বিএনপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী ১৩ জন

images-1-1.jpg

আব্দুর রহিম রানা,যশোর সংবাদদাতা :
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ শুরু হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে যাঁরা মাঠে কাজ করছেন তাঁদের সংখ্যা অন্তত ১৩জন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আছেন।
দেশের অন্যতম বড় উপজেলা মণিরামপুর হলো জাতীয় সংসদের ৮৯ নম্বর এলাকা। এ আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮৫ হাজার ৬৯০ জন।
এ আসনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার থাকায় বলা হয়ে থাকে এটা আওয়ামী লীগের দুর্গ। বর্তমান সংসদ সদস্যও আওয়ামী লীগের। কিন্তু দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কয়েকবারই আসনটি তাদের হাতছাড়া হয়েছে। সে কারণে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য আসনটি ধরে রাখা। আর বিএনপি চাইবে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে।
ভোটের জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে—এমনটা জানলেও ভোটারদের মুখে মুখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে।

তাঁদের নিয়ে চলছে রীতিমতো চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ এলাকায় পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার টানিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। তা ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় মতবিনিময়, সভা-সমাবেশ করার পাশাপাশি গণসংযোগও করে চলেছেন।
আওয়ামী লীগ : এ আসনে আওয়ামী লীগদলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী আটজনের কথা শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, সাবেক সংসদ সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, সদ্য প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের সহধর্মিণী ডা. জেসমিন আরা বেগম, মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন লাভলু, দলের জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান বারী, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও কাস্টমস কর্মকর্তা ইউনুস আকবর।
বর্তমান সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী খান টিপু সুলতানকে ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন। এরই মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছে।
জানতে চাইলে স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় যে সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে তা দেশের জন্য একটি মডেল। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইব। তিনি আমাকে বঞ্চিত করবেন না—সেই দৃঢ় বিশ্বাস আমার আছে। ’
১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন বর্তমান সংসদ সদস্যের জ্যেষ্ঠ সহোদর ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। তিনিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
পীযূষ কান্তি বলেন, ‘মনোনয়ন চাইব, নেত্রী দিলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। ’
পাঁচবার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪) এবং তিনবার (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮) নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা খান টিপু সুলতান সম্প্রতি মারা যান। তাঁর অনুসারীদের আহ্বানে তাঁরই সহধর্মিণী চিকিৎসক জেসমিন আরা বেগম আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তিনি সভা-সমাবেশ করে প্রচার শুরু করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ডা. জেসমিন আরা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী (টিপু সুলতান) দল ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত। তাঁর স্বপ্নসাধ পূরণে আদর্শ মণিরামপুর গড়তে মণিরামপুরবাসী চাইলে দলের প্রধান শেখ হাসিনার কাছে দলীয় মনোনয়ন চাইব। ’
বিএনপি : বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোনয়ন চান—এমন অন্তত পাঁচজন আলোচনায় রয়েছেন। তাঁরা হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস, মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন, দলের জেলা শাখার সহসভাপতি মো. মুছা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম গোলাম মোস্তফা তাজ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি।
মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে দলটির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হন। ওই সংসদে তাঁকে হুইপ করা হয়। পরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীও করা হয় তাঁকে। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুফতি ওয়াক্কাস। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আগামী নির্বাচনে লড়বেন বলে মনোনয়নের আশায় বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। অন্তত ৩৬ মামলার আসামি এ নেতা দলকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। শহীদ ইকবাল তিনবার মণিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং দুবার মণিরামপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।
শহীদ ইকবাল বলেন, ‘আমার চিন্তা-চেতনায় আছে সংগঠন। কর্মী-সমর্থক হলো আমার প্রাণ। সে কারণে দলই আমাকে মনোনীত করবে—এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
মনোনয়নপ্রত্যাশী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করছি জনগণের সেবা করতে। আমি নেতা নয়, সেবক হতে চাই। ’
জামায়াত : বিএনপি জোটের কাছে জামায়াতে ইসলামী এ আসনটি চাইবে বলে দলটির একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানিয়েছেন। সেই হিসেবে জেলা জামায়াতের সুরা সদস্য গাজী এনামুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে।

Top