মেয়রের মাসিক সম্মানিতে চলে ১১ অটিস্টিক ও মেধাবীর শিক্ষা খরচ।।

FB_IMG_1525621182555.jpg

মোঃশহিদুল ইসলাম সুমন
চট্টগ্রাম।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মাসিক বেতন ও সম্মানি মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পান। তাছাড়া একজন মেয়র হিসেবে সরকারি গাড়ি,জ্বালানি,আবাসন সুবিধাসহ নানা সুযোগ সুবিধাও রয়েছে তার। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে নিজের প্রাপ্ত এই সম্মানি বা সুযোগ-সুবিধা হাসিমুখেই তিনি বর্জন করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সিটি মেয়র তার প্রাপ্য এই মাসিক সম্মানি কখনো ধরে দেখেননি।
নিজে ব্যবহার করেন নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি। গাড়ির জ্বালানিও নিজের। থাকেন নিজের পৈত্রিক বাড়ি আন্দরকিল্লা মোহাদ্দেছ ভিলায়।
আর প্রাপ্ত সম্মানি? এক পয়সাও তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ভোগ করেন না।সব টাকাই তিনি বিলিয়ে দেন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, অটিজম সেবা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে। মেয়র এই টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে একটি তালিকাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। প্রতি মাসে সরকারি বেতন-ভাতার পুরোটাই নির্ধারিতরা এসে মেয়রের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হিসাব রক্ষণ শাখা থেকে তা নিয়ে যান।
তালিকাভুক্তদের মধ্যে অটিজম সেবা প্রতিষ্ঠান কনসার্ন সার্ভিস ফর ডিসএ্যাবলড ( সিএসডি)কে মাসিক ২০ হাজার টাকা, নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশন’কে মাসিক ৩০ হাজার টাকা, প্রেরণা অটিজম’কে মাসিক ২০ হাজার টাকা, গৌরি ললিতকলা একাডেমী’কে মাসিক১০ হাজার টাকা দেয়া হয়।
সুমি আকতারকে মাসিক ৫ হাজার টাকা, আবদুল মোমেন পাটোয়ারিকে তার ছেলের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা, হাফেজ ওমর ফারুককে ৫ হাজার টাকা,সুদীপ্ত ঘোষকে ৫ হাজার টাকা, আনওয়ার হোসাইনকে ১০ হাজার টাকা, হাফসা আকতারকে ৫ হাজার টাকা এবং মোশরেকা আকতারকে মাসিক ২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মেয়রের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমার সম্মানির টাকা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি এদেরকে দিয়ে আসছি। প্রতি মাসে এরা এসে তা নিয়ে যায়। আমার সম্মানির টাকায় যদি কেউ লেখাপড়া শিখে বড় হতে পারে,যদি কারো অন্নসংস্থান হয় তার থেকে আনন্দের আর কি হতে পারে? তাছাড়া এর বাইরেও আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে প্রতি মাসে সহায়তা করে থাকি। এটা ছদকায়ে জারিয়া। দানের মধ্য দিয়ে কিছু কমে না বরং বাড়ে।

Top