দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সেতু নির্মাণে কোন বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি, পরিদর্শনে সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি

f5889a5daf6f709d3776f915d5a629c1-5ae57621b0161.jpg

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের গ্রামীণ সড়কের একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অভিযোগের প্রেক্ষিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কোন সত্যতা পায়নি ।

তদন্ত কমিটির সদস্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন-আরসিসি কাস্টিংয়ের ভিতরে কোন বাঁশ পাওয়া যায়নি। সেতুর মূলস্ট্রাক্টচারেও কোন বাঁশ পাওয়া যায়নি। সেতুর ভার্টিকাল ওয়ালে পানি নিষ্কাশনের জন্যছিদ্র রাখার জন্য পাইপ ও বাঁশের টুকরো দেয়া হয়েছিলো। তা না হলে সেতুটিতে পানি জমে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। তবে বন্যার পানি এসে যাওয়ায় এগুলো সরাতে পারেনি ঠিকাদার। তাই দূর থেকে দেখে লোকজন মনে করেছে সেতুটিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. এমরান হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অতিদপ্তরের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হারুন অর রশিদ এর নেতৃত্বে রবিবার বিকালে সেতুটি পরিদর্শন করেন। সেতুর অভিযুক্ত অংশগুলো হ্যামার দিয়ে ভেঙে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন তদন্ত কমিটি।

এসময় তারা সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশে কোন বাঁশ পাওয়া যায়নি বলে জানান। শুধুমাত্র সেতুর উপরিভাগে ও এপ্রোচে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য ছিদ্র তৈরি করতে প্লাস্টিকের পাইপ ও দুটো বাঁশের টুকরো সনাক্ত করেন। এতে সেতুটির কোন ক্ষতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তদন্ত কমিটি।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও-হাসকুঁড়ি গ্রামের রাস্তায় ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৬ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সেতুর এপ্রোচে দুটো বাশের টুকরো দেখা গেলে এলাকাবাসী সন্দেহ করেন পুরো সেতু বাঁশ দিয়ে তৈরি করেছেন ঠিকাদার। এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করতে যায় তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। বিষয়টি বেশ কিছু গণমাধ্যমে গুরুত্বসহারে প্রকাশ পায়।

Top