বিয়ের দাবিতে সহপাঠীর বাড়িতে স্কুলছাত্রী

31357739_569768463385926_3373435621161828352_n.jpg

আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
বিয়ের দাবিতে মণিরামপুরের মশ্মিমনগরের ভরতপুরে জিসান (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে তারই এক সহপাঠিনী (১৫)। বুধবার সন্ধ্যা থেকে মেয়েটি ওই বাড়িতে অবস্থান করছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ওই বাড়িতে এলাকার লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন। জিসান ভরতপুর গ্রামের প্রবাসী আনারুলের ছোট ছেলে। সে স্থানীয় চাপাতলা হাইস্কুলের ছাত্র। মেয়েটিও একই স্কুলের ছাত্রী। তার বাড়িও ওই গ্রামে। এই ঘটনায় এলাকায় হইচই পড়ে গেছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই বাড়িতে গেলে ছেলের পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে আড়াল করে রাখেন। তারা মেয়েটিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আসতে দেননি।
তবে, মেয়েটির পরিবার তাকে উদ্ধার করতে গেলে ছেলে পক্ষ তাদের পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। মেয়ের বাবা
হতদরিদ্র কৃষক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তিনি এগুতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। ছেলে পক্ষের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় জিসানের সঙ্গে সম্পর্ক হয় মেয়েটির।
গত সোমবার রাতে একবার মেয়েটি জিসানের বাড়িতে এসে ওঠে। পরে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে ওই রাতেই মেয়েকে তার পরিবারের হাতে বুঝিয়ে দেন তারা। বুধবার সন্ধ্যার পরে আবার মেয়েটি সেই বাড়িতে অবস্থান নেয়। জিসানের সঙ্গে তাকে বিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত সে বাড়ি ছাড়তে চাচ্ছে না বলে ছেলে পক্ষ অভিযোগ করছে।
এদিকে মেয়েটির মা বলছেন, ‘আমি সকালে মেয়েকে আনতে ওই বাড়িতে যাই। মেয়ে আমার সাথে আসতে রাজি হচ্ছে না। আমি হাত
ধরে টানাটানি করলে ছেলে পক্ষ পুলিশের ভয় দেখিয়েছে। আমরা গরিব মানুষ। কী করব ভেবে পাচ্ছি না। দৌড়াদৌড়ি করতে তো
টাকা লাগব, পাব কই?’
চাপাতলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, ‘দুজনেই আমার স্কুলের শিক্ষার্থী। বিষয়টি শুনে আমি মেয়ের বাবার কাছে জানতে
চাইলাম। সে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না।’
মশ্মিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ‘শুনেছি, বুধবার সন্ধ্যায় মেয়েটি ওই বাড়িতে এসে উঠেছে। আমাকে কেউ লিখিতভাবে জানায়নি।’
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Top