দোয়ারায় আটক মাদ্রাসা ছাত্র শামীম জেলে বসেই পরীক্ষা দিলো

images-1-5.jpg

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বরইউড়ি বহুমুখী আলিম মাদরাসা হতে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছে শামীম আহমদ। গত মঙ্গলবার বিকালে একই উপজলোর পেশকারগাঁও দাখিল মাদরাসায় গিয়েছিল সাংগঠনিক কাজে। সঙ্গে ছিল আলিম ১ম বর্ষের অপর এক শিক্ষার্থী মাসুম আল মোজাহিদ। দু’জনেই সে দিন মাদরাসা মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করে বের হতেই এলাকার কিছুসংখ্যক লোকজনের চোখে পড়ে। অপরিচিত মনে হলে সন্দেহজনক ভাবে তাদের ওই এলাকায় যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করে। তারা তখন বলে দাখিল পরীক্ষার্থীদের তালিকা করতে এসেছে। কিছুসংখ্যক লোকজন তাদের শিবিরকর্মী সন্দেহে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওইদিন তাদের সঙ্গে পাওয়া যায় কয়েকটি মাসিক ‘কিশোর কণ্ঠ’ মাসিক পাথেয়সহ মাদরাসা কল্যাণ পরিষদের সদস্য ফরম ও ব্যক্তিগত রিপোর্ট বইসহ কিছু কাগজ-কলম। দু’জনকেই রাতভর থানায় আটকে রাখার পর বুধবার তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে চালান দেয়া হয় সুনামগঞ্জ কোর্টে। ওইদিন তাদের জামিন আবেদন করা হলে আদালত আটকাদেশ বহাল রেখে জেলে বসেই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার ছিল ‘হাদীস ও উসুলে হাদীস পরীক্ষা। আদালতের নির্দেশে জেলখানায় বসেই পরীক্ষা দেয় শামীম।

জেলে থাকা দুই শিবিরকর্মীর অভিভাবকরা বলেন, তাদের অপরাধ সাংগঠনিক কাজ করা। মাসিক কিশোর কণ্ঠ পত্রিকাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি তাদের ছাড়িয়ে আনতে। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তাদের ছাড়া হয়নি। আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছি। বৃহস্পতিবার জেলখানায় বসেই শামীম তার পরীক্ষা দিয়েছে।

জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেছেন, বুধবার দুই শিবিরকর্মীকে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ ধারায় মামলা নিয়ে বুধবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে

Top