গৃহবধু সুপর্ণা শীলকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ; ৮ই মে রায়

download-6-4.jpg

মানবাধিকার সংবাদ প্রতিবেদন ঃ-
চাঞ্চল্যকর গৃহবধু সুপর্ণা শীল (২০)কে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানী আজ মঙ্গলবার শেষ হয়। বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইবুনাল-০১ বেগম রোখসানা পারভীনের আদালতে এ গত ২৩ ও ২৪শে এপ্রিল ২ দিন ব্যাপি বাদী ও আসামী পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানী হয় । রাষ্ট্র পক্ষে বিশেষ পি.পি জেসমিন আক্তার ও মানবাধিকার আইনজীবীগণ বাদী পক্ষে মামলার যুক্তি তর্ক শুনানী শুরু করেন । উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত ১নং আসামী কৃষ্ণপদ শীলের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরনের আদেশ দেন এবং অপর ৩জন আসামীকে রায়ের তারিখ পর্যন্ত জামিন বর্ধিত করেন । একই সাথে আগামী ৮ই মে মামলা রায়ের জন্য দিন ধার্য্য করেন । মামলার অপর ৩ আসামীদের রায়ের দিন বিজ্ঞ আদালতে স্বশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ দেন । যুক্তি তর্কের সময় বাদী পক্ষে মানবাধিকার আইনজীবীগণ বলেন, এটা একটা সুপরিকল্পিত বর্বর নৃশংস হত্যাকান্ড । যৌতুকের দাবীতে নারী নির্যাতনের ও নির্মম নিষ্ঠুরতার এ এক করুন চিত্র । আসামীগণ ময়না তদন্ত পূর্বক ভিকটিমের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে বাঁধা সৃষ্টির জন্য আলামত (লাশ) নষ্ট করতে তড়িঘড়ি করে পুড়িয়ে ফেলে । এ সময় ভিকটিমের মা মামলার সংবাদদাতাকে আটক রেখে অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয় ।মেয়ের মৃত্যুতে ভিকটিমের পিতা মধ্য প্রাচ্যের কর্মস্থলে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন । বাদী পক্ষ নিরপেক্ষ সাক্ষ্য দ্বারা মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বিধায় আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেন । আসামী পক্ষ তাদের যুক্তি তর্কে বলেন, ‘এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু, ধর্মীয় কারণে ভিকটিমকে তাড়াতাড়ি অন্তষ্টিক্রিয়া সম্পাদন করা হয়’ । উল্লেখ্য যে, গত ৩০/০৫/১৭ ইং তার সাক্ষ্য গ্রহণ ও পরবর্তীতে তাঁর জেরা সমাপ্ত হলে আসামী পক্ষে ১নং আসামী কৃষ্ণশীল ও অনিল ভট্টাচার্য সহ ২ জন সাফাই সাক্ষী প্রদানের পর বিজ্ঞ আদালত ২৩ এপ্রিল (সোমবার)যুক্তি তর্কের জন্য দিন ধার্য্য করেন । চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানাধীন বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের শীল পাড়ায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধু সুপর্ণা শীল (২০) কে গলাটিপে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মামলার আসামী পক্ষের আবেদন ইতিপূর্বে খারিজ করে দিয়েছেন মহামান্য উচ্চ আদালত। ফলে গত ১৪ ই সেপ্টেস্বর’১৫ চট্টগ্রামের বিচারিক আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় । কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা দেশের বাহিরে থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ বিলম্বিত হয় । মামলার বর্ণনায় জানা যায় গত ৪ জানুয়ারী ১২ আনোয়ারা উপজেলা বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের শীল পাড়ায় গৃহবধু সূপর্না শীলকে যৌতুকের জন্য হত্যার পর নিহতের আত্মীয় স্বজনকে জিম্মি করে পোষ্টমর্টেম ছাড়া তড়িগড়ি করে লাশ দাহ করে ফেলে। নিহতের মা রমা শীল, স্বামী- পোপন শীল, সাং- বড়লিয়া, শীলপাড়া, যোগেশ শীলের বাড়ী, পোঃ মৌলভীর হাট, থানা- পটিয়া, চট্টগ্রাম আনোয়ারা থানায় নিহত ভিকটিমের স্বামী কৃষ্ণপদ শীল, পিতা- মৃত সাধন শীল, দেবর পলাশ ধর শীল, শাশুড়ী রেনু বালা শীল এবং ভাসুর সুনীল কান্তী শীল, সর্বসাং- বোয়ালীয় শীল পাড়া, ডাঃ সুনীল শীলের বাড়ী, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রামকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভিকটিম পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করছেন । মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-বিএইচআরএফ এর পক্ষে আইনী সহায়তা দেন সিনিয়র এডভোকেট সালেহ উদ্দিন হায়দার সিদ্দিকী, এডভোকেট হুমায়ূন কবির রাসেল, মানবাধিকার আইনজীবীগণ যথাক্রমে এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, এডভোকেট এ.এইচ.এম জসীম উদ্দিন, এডভোকেট দেওয়ান ফিরোজ আহাম্মদ, এডভোকেট মোঃ ফোরকানুল ইসলাম, এডভোকেট মোঃ হাসান আলী প্রমুখ এবং রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন স্পেশাল পি পি এডভোকেট জেসমিন আক্তার । আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র এডভোকেট কাজী সাইফুদ্দিন আহমদ চৌধুরী, এডভোকেট তুষার চন্দ্র, এডভোকেট সাইফুদ্দিন আরিফ ও এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রমুখ।

Top