সুনামগঞ্জে শীঘ্রই ১৯৭১ এর গণহত্যার বিচার শুরু হবে

download-2-8.jpg

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবু্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেছেন,‘শীঘ্রই সুনামগঞ্জের শ্যামারচর গণহত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। ১৯৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত পেরুয়া-শ্যামারচর হত্যাযজ্ঞে জড়িত অপরাধিদের তথ্য প্রমাণসহ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তৃতীয় দফায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা শেষে তদন্ত রিপোর্ট চীফ প্রসিকিউটরের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। তদন্তে যারা দোষী হবেন তারা কেউই রেহাই পাবেন না।’
রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিরাই-শাল্লার গণহত্যাস্থল সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসে সন্ধ্যা সাড়ে ছয় টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস চত্বরে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।
জেয়াদ আল মালুম বলেন,‘আমরা এখানে এসেছি কোন নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য। কোন অপরাধী যাতে বাদ না পড়ে। ঘটনাস্থলের কোন গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় হত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের ঘটনা যাতে বাদ না পড়ে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কাজ শেষ। কার কার বিরুদ্ধে চার্জ দাখিল হচ্ছে, এখনই বলা যাবে না। অনেক অপরাধীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তথ্য প্রমাণসহ পেয়েছি আমরা।’
এর আগে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও রিজিয়া সুলতানা শ্যামারচর গণহত্যাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন ও ট্রাইব্যুনালের ৯ জন কর্মকর্তা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে সুনামগঞ্জ জেলায় পাকহায়েনা ও তাদের সহযোগী বাঙালি দালালরা যে কয়েকটি বর্বোরোচিত হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করেছিল, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল দিরাই উপজেলার পেরুয়া শ্যামারচর হত্যাযজ্ঞ। এখানে ২০ জন নিরীহ বাঙালি গণহত্যার শিকার হন। কয়েক’শ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার হন অসংখ্য মা- বোনেরা। এই এলাকার কয়েকজন বীরঙ্গনা এখনো জীবিত রয়েছেন বলে দাবি রয়েছে স্থানীয় বিশিষ্টজনদের।
এই ধংসযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবার হিসাবে পরিচিত ‘পেরুয়া বড়বাড়ি’। পেরুয়া বড়বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দেওয়া হয়েছিল। এই বাড়ির হেমচন্দ্র রায় এবং চিত্তরঞ্জন রায় গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। এই গণহত্যা এবং পৈশাচিক নির্যাতনের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী কয়েকজন এখনো জীবিত রয়েছেন। কিন্তু পাকহায়েনাদের দোসরেরা এখনো জীবিত এবং প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খুলতে সাহস পান না এলাকাবাসী। এই ঘটনায় গত বছরের মে মাসে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রম গত বছরের ২ জুন থেকে শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তিন দফা তদন্ত শেষে রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুই প্রসিকিউটর সরেজমিনে এসে দিনভর স্থানীয় লোকজনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

Top