কক্সবাজারে বন বিভাগের পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ ; ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বনভূমি, হুমকির মুখে পরিবেশ।

IMG20180417172802.jpg

দিদারুল আলম জিসান,কক্সবাজার।

কক্সবাজার সদর ভারুয়াখালী এবং রামু উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড় অঞ্চলে চলছে অভিরাম পাহাড় নিধন ৤ জ্যান্ত পাহাড় কেটে তৈরী করা হচ্ছে দিনের পর দিন বিলাশ বহুল দালান-বাড়িঘর। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে মেহেরগুনা রেঞ্জের অধীনে থাকা ধলিরছড়ার অসাধু ও ঘুষখার বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম। তার উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিয়ে তার কর্মরত এলাকা ভারুয়াখালীসহ রশিদনগর, ধলিরছড়া একাধিক এলাকায় টাকার মাধ্যমে বিক্রি করে যাচ্ছে বনভূমি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সামান্য কিছু সামাজিক বনায়ন ছাড়া একাধিক বনভূমি ভূমি দস্যুদের দখলে চলে গেছে। আর বনাঞ্চল প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত গ্রামাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। যা একমাত্র অসৎ বিট কর্মকর্তা আবুল কালামের কারণেই হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। রোহিঙ্গা মৌলভী ইয়াহিয়া ভারুয়াখালীর শেষ প্রান্তে গুচ্চ গ্রাম এলাকায় তৈরী করছেন পাঁচতলা বিশিষ্ট বিলাশ বহুল বাড়ী। বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম থেকে মৌলভী ইয়াহিয়া কিভাবে পাহাড় কেটে বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছে জানতে চাইলে, তিনি তার উর্দ্বতন কর্মকর্তাগণ বিষয়টি জানেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান। অন্যদিকে মৌলভী ইয়াহিয়া থেকে বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে সে কক্সবাজারের বিভিন্ন সন্ত্রাসীর মাধ্যমে ধমকি এবং হুমকি দেন এবং বাড়ী করলে কী হবে? উপরের নেতাদের সাথে আমার সম্পর্ক আছে বলে জানান। রশিদনগর এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে বনভূমি কেটে তৈরী করতে যাচ্ছে দালান বাড়ি ঘর। এবং ধলিরছড়া বিটের নিচে মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে নুরুল আলম পাহাড় কেটে তৈরী করতেছে দালান বাড়ী। রশিদনগর কারিগরী কলেজ সংলগ্ন লম্বা ঘোনা সরকারী বন বিভাগ সেটিও বর্তমানে গ্রামে পরিণত হয়ে গেছে। ভারুয়াখালী থেকে আসা শামশুল আলম নামক এক ব্যক্তি তৈরী করেছে পাঁচ রুম বিশিষ্ট বিশাল মার্কেট। রশিদনগর লম্বা ঘোনা পাহাড়ের উপর আবু শামার ছেলে আবুল কাশেম তৈরী করেছে বিশাল বাড়ী এবং বনভূমি কেটে তৈরী করতে যাচ্ছে দোকান। আবুল কাশেম থেকে সরকারী বনভূমি কেটে বাড়ীÑঘর এবং দোকান তৈরী করার কারণ জানতে চাইলে, সে প্রতিবেদককে বলেন, বিট কর্মকর্তা আবুল কালামকে প্রতিটি বাড়ী তৈরীর করার জন্য বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিমাসে তাকে মাসিক একটা এমাউন্ট দেওয়া হয় যেন এখানে এসে সমস্যা সৃষ্টি না করাসহ তার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য। ২১/০৪/২০১৮ইং বিকাল ৪ টায় বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম থেকে পাহাড় কাটা ও বাড়ী নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে তার মোবাইল বার বার কেটে দেন এবং রশিদনরের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। অন্যদিকে মেহেরগুনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনকে বিষয়টি অবগত করা হলে সে বিট কর্মকর্তা আবুল কালামকে ফোন দিতে বলে, যদি সে স্পটে না আসেন তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লিখতে বলেন। ভারুয়াখালী ঘোনার পাড়া এলাকায় পাহাড় কেটে বাড়ী তৈরী করতেছে নজির আহম্মদের ছেলে প্রবাসী মোক্তার আহম্মদ। একই ইউনিয়নের ছোট চৌধুরী পাড়া এলাকায় পাহাড় কেটে বাড়ী তৈরী করতেছে মৃত আব্দু সালামের তিন ছেলে- মঞ্জুর আলম, জাগির হোসেন, কামাল হোসেন। বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলমের বাড়ীর সামনে গাছ ও পাহাড় কেটে বাড়ী তৈরী করতেছে সাবেক মেম্বার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে কবির আহম্মদ। ভারুয়াখালী, রশিদনগর, কালিরছড়া, ধলিরছাড়া, গুচ্চ গ্রাম, আদর্শ গ্রাম, লম্বাঘোনা এলাকায় সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হলে মনে হবে যেন বন বিভাগের কোন জমি নেই। পুরো বনভূমি গ্রামে পরিণত হয়ে গেছে। আবুল কালামের মত অসৎ ও ঘুষখোর বিট কর্মকর্তা যেখানে থাকবে সেখানে বন বিভাগের কোন অস্থিত্ব থাকবে না। কক্সাবাজার জেলা উত্তর বন বিভাগের ডিপো হক মাহবুব মুর্শেদের সাথে বার বার যোগাযোগ করতে চাইলে সে ফোন রিসিভ না করার কারণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হই নাই। আবুল কালামের মত দূর্ণীতিবাজ বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক বিবেচনা আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান পরিবেশবাদীরা।

Top