পেকুয়ায় জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ;অবুঝ শিশুদের আহাজারি

IMG_20180421_002117.jpg

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার :
কক্সবাজারের পেকুয়া জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসার কারনে আয়েশা বেগম (২৮) নামের ২ সন্তানের জননী এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার( ১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২ ঘটিকার সময় চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত আয়েশা বেগম জেলার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের হাজী পাড়া গ্রামের দিন মজুর ফজল করিমের স্ত্রী। নিহত আয়েশা বেগমের স্বামী ফজল করিম জানান,তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃস্বত্তা হওয়ায় শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে চিকিৎসারর জন্য গত ১৪ এপ্রিল পেকুয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে ভর্তির পর হাসপাতালের এমবিবিএস চিকিৎসক রুবেল সাদাত চৌধূরী বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর পর বলেন, গর্ভের ভিতর বাচ্চার সমস্যা হয়েছে মহিলা গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে ডিএনসি করে তা বের করতে হবে। এদিকে মহিলা গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে ডিএনসি করার কথা থাকলেও ডিএনসি করেন ডাক্তার রুবেল সাদাত চৌধুলী। ডিএনসি করানোর ১ঘন্টার পর থেকে আমার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক রুবেল সাদাত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আয়েশা বেগমকে গত ১৭ এপ্রিল দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হ্সাপাতালে এনে ভর্তি করি।এদিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষার করার পর বলেন,আয়েশা বেগমের জরায়ুর মুখাবয় ও প্রসাবের নাশিকা কেটে যাওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এদিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার স্ত্রী আয়েশা বেগম ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এ ব্যাপারে পেকুয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রুবেল সাদাত চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন‘প্রতিদিনি কত রোগী যে তিনি দেখেন;তার সঠিক হিসাব তার কাছে নাই। এ বিষয়ে জানার জন্য তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগোযাগ করতে বল্ললে হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোন্তাজির কামরান জাদিদ মুকুটের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ‘ এ বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং নিহত রোগীর কোন আত্মীয় স্বজন্ বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেনি বলে তিনি জানান।
এদিকে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া আয়েশা বেগমের ৬ বছর বয়সী লাকী আক্তার ও ৪ বছর বয়সী আশেক উল্লাহ নামের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। গতকাল ২০ এপ্রিল চমেক হাসপাতাল থেকে লাশ যখন বাড়ী পৌঁছে তখন দুই অবুজ শিশু নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

Top