গৃহবধু সুপর্ণা শীলকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার মামলায় ২৩ এপ্রিল(সোমবার)যুক্তিতর্ক শুনানী

IMG_20180421_121653.jpg

মানবাধিকার সংবাদ প্রতিবেদন ঃ-

আগামী ২৩ এপ্রিল (সোমবার) চাঞ্চল্যকর গৃহবধু সুপর্ণা শীলকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইবুনাল-০১ (বেগম রোখসানা পারভীনের আদালত) এ উক্ত মামলার বিচার কার্য চলছে । ভিক্টিম পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন – বিএইচআরএফ চট্টগ্রাম জেলা শাখা । মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন জাতিসংঘ মিশনে দেশের বাহিরে কর্মরত থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণে বিলম্ব হয় । গত ৩০/০৫/১৭ ইং তার সাক্ষ্য গ্রহণ ও পরবর্তীতে তাঁর জেরা সমাপ্ত হলে আসামী পক্ষে ১নং আসামী কৃষ্ণশীল ও অনিল ভট্টাচার্য সহ ২ জন সাফাই সাক্ষী প্রদানের পর বিজ্ঞ আদালত আগামী ২৩ এপ্রিল (সোমবার)যুক্তি তর্কের জন্য দিন ধার্য্য করেন । চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানাধীন বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের শীল পাড়ায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধু সুপর্ণাশীল(২০) কে গলাটিপে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মামলার আসামী পক্ষের আবেদনও ইতিপূর্বে খারিজ করে দিয়েছেন মহামান্য উচ্চ আদালত। ফলে গত ১৪ ই সেপ্টেস্বর’১৫ চট্টগ্রামের বিচারিক আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় । কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা দেশের বাহিরে থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত থাকে । মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ বেগম রোকসানা পারভীনের আদালতে বিচারাধীন আছে। আসামীদের ৩জন বিচার চলাকালে মহামান্য উচ্চ আদালতে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে ফৌ:কা:বি ৫৬১-এ ধারায় আবেদন করলে আদালত দরখাস্তটি শুনানী পর্যন্ত উক্ত ৩ জনের ব্যাপারে বিজ্ঞ নিম্ন আদালতের বিচারকাজ স্থগিত করেন। গত ৫/৩/২০১৪ইং তারিখে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মাননীয় বিচারপতি মোঃ রেজাউল হক এবং বিচারপতি গোবিন্দ্র চন্দ্র ঠাগুর এর আদালত শুনানী শেষে রুল নিষ্পত্তি করেন এবং ফৌ: মিস মামলা নং- ১২৯৮১/১৩ এ প্রদত্ত স্থগিতাদেশ খারিজ করেদেন। পরবর্তীতে ১নং আসামী কৃষ্ণ পদশীল ৫৬১/এ ধারায় মিচ মামলা নং ১০৭০৯/১৪ দায়ের করলে ভিকটিম পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী হাজী সাইফুদ্দিন আহমদ চৌধুরীর আবেদন তা উপরেল্লিখিত একই বেঞ্চে শুনানীর জন্য ট্রান্সফার করা হয়। উক্ত বেঞ্চ এর বিচারকদ্বয় ১৫/০৫/১৪ ইং শুনানী শেষে Stay Order বাতিল করে দেন। ইতিপূর্বে একই আদালত অপর ৩ আসামী পলাশ ধর, রেণুবালা শীল ও সুনীল কান্তি শীলের আবেদনে দায়েরকৃত ফৌজদারী মিছ ১২৯৮১/১৩ মামলাটিতে বিজ্ঞ আদালতের কাছে নিম্ন আদালতে ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের বিষয় গোপন রাখায় ‘গ্রাউন্ড অব প্রেক্টিসিং ফ্রড’ গ্রাউন্ডে রূল ডিসচার্জ এর আদেশ দেন। তারপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং ১৪৮/২০১৩, ধারা ১১(ক)/৩০ এর বিচারিক কার্য্যক্রম শুরুতে আইনগত বাধা অপসারিত হয়। বাদী পক্ষে মহামান্য উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট হাজী সাইফুদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও এডভোকেট বদরুন নাহার বেগম রোজী। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট চঞ্চল কুমার দত্ত। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ডেপুটি এটর্নী জেনারেল মিঃ নাজমুল আহসান। উল্লেখ্য গত ৪ জানুয়ারী ১২ আনোয়ারা উপজেলা বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের শীল পাড়ায় গৃহবধু সূপর্না শীলকে যৌতুকের জন্য হত্যার পর নিহতের আত্মীয় স্বজনকে জিম্মি করে পোষ্টমর্টেম ছাড়া তড়িগড়ি করে লাশ দাহ করে ফেলে। নিহতের মা রমা শীল, স্বামী- পোপন শীল, সাং- বড়লিয়া, শীলপাড়া, যোগেশ শীলের বাড়ী, পোঃ মৌলভীর হাট, থানা- পটিয়া, চট্টগ্রাম আনোয়ারা থানায় নিহত ভিকটিমের স্বামী কৃষ্ণপদ শীল, পিতা- মৃত সাধন শীল, দেবর পলাশ ধর শীল, শাশুড়ী রেনু বালা শীল এবং ভাসুর সুনীল কান্তী শীল, সর্বসাং- বোয়ালীয় শীল পাড়া, ডাঃ সুনীল শীলের বাড়ী, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রামকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে চার্জশীট দাখিল করা হয় এবং আসামীদের বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট জারী করলে আসামীগণ উচ্চ আদালত থেকে আগাম অন্তবর্তীকালীন জামিন নেন। পরবর্তীতে ৩ আসামী পক্ষে মহামান্য উচ্চ আদালতে কোয়াশমেন্ট দায়ের করে স্থগিত আদেশ আনায় মামলাটির শুনানী বাধাগ্রস্থ হয়। রাষ্ট্র পক্ষে ৮জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ভিকটিমের মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষীর সাক্ষ্য বাকী ছিল। ইতিমধ্যে ভিকটিমের পিতা পোপন শীলও কন্যার শোকে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে বিদেশে কর্মস্থলে মারা যান। হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ৬ বছর পর মামলাটি বর্তমান বিচারিক আদালতে গতি ফিরে পায় এবং যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য্য হয় ।
ভিকটিম পক্ষে বিচারিক আদালতে মামলা পরিচালন করছেন মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-বিএইচআরএফ এর আইনজীবীগণ যথাক্রমে এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, এডভোকেট এ.এইচ.এম জসীম উদ্দিন, এডভোকেট দেওয়ান ফিরোজ আহাম্মদ, এডভোকেট মোঃ ফোরকান, এডভোকেট প্রদীপ আইচ, এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ প্রমুখ এবং রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন স্পেশাল পি পি এডভোকেট জেসমিন আক্তার ও আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন এডভোকেট তুষার চন্দ প্রমুখ।

Top