জগন্নাথপুরের আশরাফুল হবিগঞ্জ জেলায় ‘আমার জেলা আমার অহংকার’ প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জন

30743944_1945259035504834_993556902002556928_n.jpg

জুয়েল আহমেদ মাহিন,জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::

হবিগঞ্জে ‘আমার জেলা আমার অহংকার’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই পরিচালিত পোর্টাল ‘কিশোর বাতায়ন’-এ জেলা ব্র্যান্ডিং ‘আমার জেলা আমার অহংকার’ বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার বেলা ১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক এবং শিক্ষা ও আইসিটি) ফজলুল জাহিদ পাভেল, সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মোঃ সেলিম মিঞা ও আইসিটিফোরই জেলা আ্যাম্বাসেডর পুটিজুরী এস.সি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পংকজ কান্তি গোপ।

ক্যাপশন: যে ছবি দিয়ে বিজয়ী হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মোট ১২ ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককেই বই এবং ৬ জনকে বিজ্ঞান বাক্স প্রদান করা হয়। ইউটিউব, উইকি এবং গুগুল এই তিনটি গ্রুপে বিজয়ী ১২ জন হলো- সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীনগর গ্রামের আব্দুল মহিমের ছেলে মোঃ আশরাফুল আলম সে ইনাতগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ও অন্যরা হবিগঞ্জ জেলার পূর্বা দাশ,আশরাফুল আলম, নুসরাত জাহান, সাদিয়া জাহান, মিনারা খাতুন, মোছাঃ হালিমা আক্তার চাঁদনী, অভিজিৎ পাল,আফসানা মিম তুলি, ফারজানা তালুকদার এমি, সাদিয়া কবির ও নুসরাত জাহান।

বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পে বিষয়গুলো সারাবিশ্বে পরিচিত করতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ্যাপ্স তৈরী, জেলা ব্র্যান্ডিং শ্লোগান ও লোগো সহ নানা ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।দেশের সকল শিক্ষার্থীদেরকে একটি মঞ্চে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে তৈরী করা হয়েছে কিশোর বাতায়ন। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী জ্ঞান ও গবেষণামূলক কার্যক্রম এবং প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে কিশোর বাতায়নে অংশ নিতে দিক-নির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছে এই প্রতিযোগিতা।বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলায় পর্যটন শিল্প বিকাশে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারা সুনামগঞ্জকে সারা বিশ্বে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জনে সংশ্লিস্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

  ক্যাপশন: যে ছবি দিয়ে বিজয়ী হয়েছে।

এদিকে প্রতিনিধির সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে আশরাফুল আলম বলেন, ফটোগ্রাফি করা আমার শখ।সেই শখের ফটোগ্রাফির যে প্রাপ্তি তা সত্যিই অনেক ভালো লাগার। এই ভাললাগাটা শুধুই অনুভবের, এটা লিখে বা বলে প্রকাশ করার মতো উপযুক্ত শব্দও খুঁজে পাচ্ছি না। শুধু এইটুকুই বলতে চাই, এই স্বীকৃতি আমাকে আরো ভালো ছবি তোলার জন্য উৎসাহ যোগাবে। ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের মত গ্রামের বসবাস করা ছেলেরা যে বড় পুরস্কার পেল। তিনি আরো জানান, কেউ যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা-গল্প-উপন্যাস পড়েন, তখন কেউ কি ভাবেন তিনি কত দামি কলম দিয়ে গল্পটি লিখেছেন! একইভাবে আমি বলতে চাই কত দামি ক্যামেরা বা লেন্স দিয়ে ছবি তুললেন সেটার চেয়ে বড় বিষয় হল আপনার ছবি কি কথা বলে, কি ম্যাসেজ দেয়।শুধু বড় লেন্স,দামি ক্যামেরা নিয়ে ঘুরলেই যে কেউ ফটোগ্রাফার হয়ে গেল,বিষয়টা এমন না।ভালো মানসম্পন্ন ছবি তুলতে হবে, ছবির বিষয়বস্তু হতে হবে অর্থপূর্ণ।

আর ভালো ছবি তোলার জন্য সবসময় এক্সপেরিমেন্ট করা জরুরি। অনেক ছবি তুলতে হবে, ছবির ব্যাকরণ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। ভালো ফটোগ্রাফারদের প্রসিদ্ধ ছবিগুলো দেখতে হবে এবং ছবির কারিগরি ও শৈল্পিক কলাকৌশল বোঝার চেষ্টা করতে হবে। আসলে খুব সহজে একজন ভালো ফটোগ্রাফার হওয়া যায় না।ভালো ফটোগ্রাফার হওয়ার শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই।ধৈর্য,আগ্রহ ও চেষ্টার সমন্বয়েই সম্ভব ভালো ছবি তোলা।ভালো ফটোগ্রাফার হতে সময় লাগে। একজন ভালো ফটোগ্রাফার হতে গেলে আগে তাকে ভাল মানুষ হতে হবে।আমি সকলের কাছে দোয়া চাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

Top