রাজিব ; পারলে ক্ষমা করে দিও–

FB_IMG_1523946696365.jpg

অকালে না ফেরার দেশে চলে গেল তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব। এভাবে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারেনাই তার সহপাটি বন্ধু,শুভাকাংখী, ফেইসবুক বন্ধুরা।
তার অকালে চলে যাওয়াতে ব্যতিত মনে অনেকেই লিখেছেন তার মনের কথা— নিচে কয়েকটি দেওয়া হল—
জনৈক সাংবাদিকের মন্তব্য —
——এভাবে চলে যেতে নেই প্রিয় রাজিব।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব। তিতুমীর কলেজের তৃতীয় বর্ষের সেই রাজীব। সেই রাজীব হোসেন।
-তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় হারিয়েছে মা।
-অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় হারিয়েছে বাবা।
-এ মাসের ৩ এপ্রিল হারিয়েছে তার ডান হাত।
-আজ মধ্যরাতে হারালো তার একমাত্র জীবনটাই।

ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে সে ভর্তি হয়েছিলো স্নাতকে। পড়ালেখার ফাঁকে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে নিজের আর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই ভাইয়ের খরচ চালানোর সংগ্রাম করে আসছিলো সে।

তার সংগ্রামের আজ ইতি ঘটলো।

গত ৩ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষির মধ্যে পড়ে একটি হাত হারানোসহ মাথায় গুরুতর জখম হয়েছিলো এই তরুন। ঘন্টা দুয়েক তার খণ্ডিত হাতটি পড়েছিল ঘটনাস্থলেই!

মাত্র লেটনাইট করে বাসায় এসে মুখে কিছু দিয়ে এসে বসেছি কম্পিউটারের সামনে। কিছু লেখার কাজ নিয়ে। কিন্তু কি লিখব? সামনেই পড়ল সংবাদটি। মনটা এতো বিষন্ন বিবর্ণ হয়ে গেল যে, হাত এখন নিশ্চল। সাংবাদিকতা পেশায় আবেগাক্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। লাশ গোনাই যেখানে কর্তব্যের অংশ। তারপরও কিছু কিছু মৃত্যু সংবাদে পেশাদারি ভুলে হাউমাউ করে কাঁদতে ইচ্ছে করে।

রাজীব, পারলে ক্ষমা করে দিও। তোমাদের জন্য এখনো সেই দেশ আমরা তৈরি করতে পারিনি। এমন একটি দেশে তুমি বাস করতে এসেছিলে, যে দেশে কর্তৃপক্ষের অবহেলার সুযোগ নিয়ে জীবন নিয়ে খেলা করে সামাণ্য যানবাহন চালকেরা!

সরকারের কাছে আকূল আবেদন জানাই, বিচার লাগবে না। রাজীবের স্কুল পড়ুয়া ভাই দু্ইটির জন্য যেন কিছু করা হয়। এতেই রাজীবের আত্মা শান্তি পাবে।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মোতাহারুন্নিসা অদিতি ওয়ালে লিখেছেন—

***লেখাটি পড়ে জল ভেজা চোখে আমিও শেয়ার করলাম***…
——ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন—–
——–চলে গেলেন তিতুমীরের রাজীব——–
খুব কষ্ট লাগলো সদ্যপ্রাপ্ত দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব সোমবার দিবাগত রাত ১২ ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি জানিয়েছেন রাজিবের মামা জাহিদুল ইসলাম।

গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন। মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন।

বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের পাশের রাস্তায় পৌঁছালে পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস সেটিকে ওভারটেক করে। সে সময় রাজীবের ডান হাতটি বাইরের দিকে সামান্য বেরিয়েছিল। স্বজন পরিবহনের বাসটি বিআরটিসি বাসের গা ঘেঁষে পেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজীবের হাতটি কাটা পড়ে।
ঘটনার পর দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন হাতটি রাজীবের শরীরে আর জোড়া লাগাতে পারেননি।

পরে রাজিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

*** রাজীব হোসেনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সুস্থ হলে তাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।সকল সরকারি চাকরিকে উপেক্ষা করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মরহুম রাজীবের আত্বার মাগফিরাত কামনা করছি।আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।

সংগৃহীত :

Top