বেনাপোল বন্দরে নির্মান কাজে চলছে হরিলুট

download-11.jpg

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ

বেনাপোল স্থল বন্দরে দীর্ঘদিন যাবৎ নির্মান কাজে অনিয়ম, কারচুপি, লুটপাট ইত্যকার হীন কর্মকান্ড চলে আসছে। এই বন্দরের নির্মান কাজে যুক্ত থেকে এ যাবৎ বেশ কয়জন প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ধনী হয়েছেন। কেউ কেউ কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালান্স সহায় সম্পত্তি গাড়ী, বাড়ির পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন তত্ববধায়ক প্রকৌশলী হাসান আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী মনছুর আহম্মেদ, রুহুল আমিন সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম, আবুল খায়ের, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ( বাস্থবক)এর সাবেক সদস্য ইরতিয়াজ আহম্মেদ চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দীন আহম্মেদ, বর্তমান চেয়ারম্যান তপন চক্রবর্তী ,বাস্থবক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কিবরিয়া জলিল তুহিন, সাবেক সাধারন সম্পাদক মনির মজুমদার সহ আরো অনেক দুর্বৃত্ত এই বন্দরের নির্মান কাজের লুটপাটের তালিকায় যুক্ত।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র অভিযোগ করেছে, অতীতের মত বর্তমানেও সাউথ এশিয়ান (সাচেক) তহবিলের আওতায় ১১৭ কোটি টাকার যে নির্মান কাজ চলছে তাতে ও কারচুপির অন্ত নেই। যেমন এই তহবিলের আওতায় এক থেকে ৫ নং শেড এর নির্মান কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭ কোটি । এই তহবিলের আওতায় যে ১ নং ওপেন শেডটি তৈরী করা হয়েছে তাতে নি¤œ মানের পাথর ব্যাবহারের অভিযোগ রয়েছে। এই নির্মান কাজের দরপত্র তফশিলে যে সকল উপকরন ব্যবহারের কথা রয়েছে তাতে দেখা যায় নির্মান কাজে সম্পুর্নভাবে কালো পাথর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বন্দরের নির্মান বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নির্মাতা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কালো পাথরের বদলে সিংহভাগ নি¤œ মানের সাদা পাথর ব্যাবহার করেছেন। বিশেষ করে নবনির্মিত এই ১ নং পন্যাগারটির ভীত তৈরীতে সিংহভাগই সাদা পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে এই পন্যাগারটির ভীত যেমন দুর্বল হয়েছে তেমনি বরাদ্দের বিপুল পরিমান অর্থ লুটপাট হয়েছে। উল্লেখ্য সাদাপাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সাময়িক ভাবে নির্মান কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু পুনরায় কিছুদিনের মাথায় আবার অবস্থা তথৈইবচ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বরদ্দকৃত ১১৭ কোটি টাকার মধ্যে ”সাচেক” তহবিলের অর্থ রয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এই টাকায় ১ থেকে ৫ নং শেড তৈরী হবে। ইতিমধ্যে ২টি শেড তৈরী হয়েছে যার একটি সম্প্রতি চালু হয়েছে । অপরটি আগামী মাসে চালু হওয়ার কথা। নবনির্মীত ১ নং শেডটি চালু হতে না হতেই এখানে শুরু হয়েছে অনিয়ম। এই শেডের মাল এই শেডের সম্মুখ ভাগের খোলা জায়গায় নামানোর অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। যেমন ম্যাশিনারীজ আমদানি কারকরা এই শেডে মাল নামালে এই মাঠের সুযোগ গ্রহন করতে পারছেন না। এমনকি এই মাঠে ট্রাক টু ট্রাক মাল উঠানামানোর সুযোগও নেই।অথচ একটি কায়েমী স্বার্থাম্বেষী চক্র প্রশাসনিক সহযোগিায় অন্য শেডের মাল এই শেডের মাঠে নামাচ্ছে। সুত্র বলছে ”সাচেক” তহবিলের অর্থে শেড নির্মান ছাড়াও ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডেও উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। বন্দর এলাকার অভ্যন্তরিন ড্রেনাইজ ব্যবস্থা ও রাস্তা সমুহের কাজ চলমান রয়েছে। এসমস্ত কর্মকান্ডেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

Top