ফলোআপ-টেকনাফে ইয়াবাসহ ফিশিং ট্রলার জব্দ :আসামি হয়নি প্রকৃত মাঝি-মালিক

IMG_20180412_023644.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টেকনাফে ৩ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবাসহ একটি ফিশিং ট্রলার জব্দের ঘটনায় নিরীহ কয়েকজনসহ আসামি করা হয়েছে ৮ জনকে। তবে ঘটনার মূলহোতা বোট মালিক ও মাঝির বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ না থাকায় তোলপাড় চলছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খালের সৈয়দ আলমের ফিশারীর ঘাটে থাকা একটি ফিশিং বোট থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে এর সাথে জড়িত চোরাচালানীদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, সাগর থেকে তীরে ফেরা একটি ফিশিং বোটে ইয়াবার বিশাল একটি চালান আসছে- এমন খবর পেয়ে তারঁ (ওসি) নেতৃত্বে রাত ৯ টা হতে ১২ টা পর্যন্ত ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স টেকনাফ পৌর এলাকার কায়ুক খালী খালে অভিযান চালানো হয়। ঘাট এলাকায় জনৈক সৈয়দ আলমের ফিশারীর সামনে নোঙ্গর করা একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবার অস্থিত্ব পাওয়া যায়। ইয়াবা গুলো উদ্ধার করে গভীর রাত পর্যন্ত গণনার পর ৩ লাখ ৮০ হাজার পিচ ইয়াবা পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে টেকনাফ থানায় ৮ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা হচ্ছেন, আলী জোহারের ছেলে বো¹ু, মো: ইউনুছের ছেলে মো: হোসেন খোকন, ছিদ্দিক আহমদের ছেলে আব্দুস সালাম, মোঃ আলমের ছেলে মোস্তাক আহমদ, মোক্তার আহমদের ছেলে ছৈয়দ আলম, জাকির হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন , বশরের ছেলে আব্দুল্লাহ , আবুল বসরের ছেলে ইমান হোসেন ।
তবে অভিযোগ উঠেছে মামলায় মূল মালিক ও মাঝিসহ প্রকৃত ইয়াবা পাচারকারীদের বাদ দিয়ে ভিন্ন লোকদের আসামী করা হয়েছে। এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্ডে অনেক রাঘববোয়ালের নাম আসছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
টেকনাফ সদর বিওপি বিজিবি কম্পানী কমান্ডার মো: ইব্রাহিম হোসেন জানান, ৯ এপ্রিল ৬ জন জেলেসহ কবির মাঝির ফিশিং ট্রলারটি সাগরে মাছ ধরতে যায়।
টেকনাফ পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো: হোসেন খোকন জানান, ট্রলার ও ইয়াবা সিন্ডিকেটের মালিক কারা এলাকার সবাই চিনলেও পুলিশ রহস্যজনক ভাবে প্রকৃত অপরাধীকে মামলা থেকে রক্ষা করতে আমারমত বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সে অনুযায়ী টেকনাফ সদর বিওপিতে রক্ষিত ফিশিং বোট রেজিস্ট্রারে কবির আহমদের নাম পাওয়া গেলেও মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। যদিও বা পুলিশ ট্রলারের মালিক হিসেবে আব্দুস সালাম নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুস সালামের মালিকানাধীন ট্রলারটি কয়েক মাস আগে অন্যজনকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আব্দুস সালাম জানান, ইয়াবাসহ আটক ফিশিং ট্রলারটি জনৈক আব্দুর রহমান শাহপরীরদ্বীপের নুরুল ইসলামের কাছ থেকে কিনে খায়ুকখালী ঘাটে বেশ কিছু দিন যাবত সাগরে মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করছেন। দিলু নামের একজনের হাতে আমার বোটের ট্রেড লাইসেন্সের ফটো কপি ছিলো সেটি এখানে ব্যবহার করে আমাকে ফাসাঁনো হয়েছে। আমার ট্রলারের মেশিন নম্বর ও আটক ট্রলারের মেশিন নম্বরের মিল নেই যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। এদিকে বৃহস্পতিবার কায়ুকখালী খাল এলাকায় মৎস্যজীবিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে জব্দ বোটের মাঝি ছিল কবির আহমদ নামে এক ব্যক্তি। আর ওই কবির আহমদের বোটের মালিক আব্দুর রহমান। তবে আব্দুর রহমান ট্রলারের মালিক নন বলে দাবী করেছেন।
এদিকে টেকনাফ পৌর সভার কাউন্সিলার মৌ: মুজিবুর রহমান বলেন, ইয়াবাসহ আটক ট্রলারটির ইঞ্জিন নম্বরের সাথে মিল রেখে টেকনাফ পৌর সভায় কোন ট্রেড লাইসেন্স খোজেঁ পাওয়া যায়নি। তাই ধারনা করা হচ্ছে চিহ্নিত ইয়াবা পাচারকারীরা কৌশলে ভূয়াঁ কাগজপত্র প্রদর্শন করে মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Top