চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে গেলেই,মিডিয়ায় রণি সন্ত্রাসী:

FB_IMG_1523184294706.jpg

জাহেদ, বিশেষ প্রতিবেদক:

কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় চট্টগ্রাম তথা পুরা দেশ সমালোচনায় মূখর ছিলো।

নানা বির্তকের কাঠগড়ায় ছিল চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির নাম।

আদৌ কি ভেতরে বাহিরের ঘটনা কেহ জেনেছে। না মিডিয়ায় প্রকাশিত খন্ড ভিডিও রেকর্ডেই পুরা গল্প। নাকি রণিকে বাধ্য করেছে হাত তুলতে? তা জানতে গিয়ে ওঠে আসে একের এক তথ্য।

শিক্ষা ব্যবসার নামে বিজ্ঞান কলেজ ও অধ্যক্ষ জাহেদের নানা ইতিহাস কুর্কীতি। শিক্ষা নামক মহান পেশাকে যিনি পণ্য বানিয়ে পেলেছেন।

একটু পেছনের ঘটনা বলি-সেদিনের প্রথম ভিডিওচিত্রে দেখা যায়: ‘‘পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে উন্নয়ন ফি’র নামে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা আদায় করছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ। এমনকি টাকা না দিলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ মার্চ দুপুরে চকবাজারে বিজ্ঞান কলেজ ক্যাম্পাসে যান রনি।

সেই সময় চকবাজার থানার একদল পুলিশও কলেজে অবস্থান করছিলো। এবার প্রশ্ন দাড়ায়,পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে কি রণি সন্ত্রাসীর ভূমিকায় ছিলো? যা অসম্ভব বানানো ছিলো।

এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কলেজ অধ্যক্ষ জাহেদ খান কিছুতেই টাকা ফেরত দিতে রাজি হচ্ছেনা। বাধ্য করে রণিকে শার্টের কলার চেপে ধরে। এরপর তার গালে একটা থাপ্পড় মেরে চেয়ারে বসিয়ে দেন।’’

ছাত্রলীগ নেতার এমন কান্ডের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই শিক্ষক অভিযোগ করেন, দাবিকৃত চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রনি তার ওপর চড়াও হয়। এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে।

এমন সব কর্মকান্ড ঘটতে ৩/৪ দিন সময় নিলেও আমাদের শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঐ কলেজের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিলেন? তাও প্রশ্ন থেকে যায়।

তবে রনির দাবি: জাহেদ খান মুঠোফোনে এসএমএস করে তাকে একা দেখা করতে যাওয়ার কথা বললেও তিনি যাননি, বরং সবার উপস্থিতিতে একজন ছাত্রনেতা হিসেবে শিক্ষার্থীদের বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।

নূরুল আজিম রনির এমন দাবির পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠছে, একজন ছাত্রনেতা কি কোনো শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অধিকার রাখেন?

এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে রনির দাবি, ‘‘জামায়াতপন্থী ওই শিক্ষক গত বছরও ২শ’ ৬১ শিক্ষার্থীর সাথে প্রতারণা করে পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে পালিয়ে গিয়েছিল। তারপর মোবাইলে এসএমএস করে পার্সোনাল দেখা করার কথা বলে সে। ম্যানেজ মানি দেওয়ার চেষ্টা করতো। আমি পার্সোনাল দেখা না করে কলেজে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বিশ্বাসী ছিলাম।

এমনকি আমার এই ভূমিকার কারণে সে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা বাড়তি টাকা ফেরত দিয়েছে। যাদের টাকা তখন ফেরত দিতে পারেনি, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে মুচলেকা দিয়েছে। এটাই কি চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাস?

বিজ্ঞান কলেজের এক শিক্ষার্থী আসিফ জানান, চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে গেলেই,বরাবরের মতো এবারো মিডিয়ায় ছাত্রনেতা রণি সন্ত্রাসী। এটা নতুন নয়। অপরাধীদের আতংক এখন ওনি।

তিনি আরো বলেন, গেল বছরও নগরীর নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দুর্নীতি রোধে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছিলো মহানগর ছাত্রলীগ।

অপরদিকে সেদিনের ঘটনায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ ও করেছেন ছাত্রনেতা রণি। এবং তিনি বলেন, ‘উত্তেজনার বশে জাহেদ খানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণের জন্য আমি অনুতপ্ত।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান।

প্রসংগত, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি মূলত চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।

জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এক সময়ের চট্টগ্রামে নুরুল আজিম রনি বিরোধীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক বলেই স্থানীয় সূত্র জানায়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাত্রনেতা রণির পক্ষে মামলা প্রত্যাহারে সংবাদ সংম্মেলন,মানববন্ধন সহ পাল্টাপাল্টি নানা কর্মসূচীও নগরীতে দেখা গেছে।

Top