কর্ণফুলীতে ইউপি চেয়ারম্যান দিদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

received_2020909968178426.jpeg

জে,জাহেদ,চট্টগ্রাম:

কর্ণফুলী উপজেলার ২নং বড়উঠান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি,অর্থ আতœসাৎ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছে একই পরিষদের সংরক্ষিত নারী ও পুরুষ সদস্যরা।

গত ৫ই এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম জেলা শাখার পরিচালক বরাবরে সদস্যরা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যা জেলা প্রশাসক   সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রতি অনুলিপি ও প্রেরণ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অধীনস্ত জনপ্রতিনিধিদের কেন্দ্রস্থল ২নং বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম বিধি ও প্রকল্প বরাদ্দে সরকারি  নির্দেশনা মানা হচ্ছেনা।

এমনকি প্রতি মাসে ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক বিষয়ে কার্যকরী সভা আহ্বান করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান কখনো তাও পালন করছেনা বলে জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ।

উল্লেখ্য যে, বিগত অর্থবছরে ১% বরাদ্ধ হতে চেয়ারম্যান নিজের অনুকূলে ১০লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা কেটে নেয়। এবং ঐ টাকার সম্পুর্ণ অংশ নিজের জিম্মায় রেখে নিজের পছন্দমতো লোক দিয়ে নাম সর্বস্ব প্রকল্পের কাজ করে অর্থ আতœসাৎ করছে।

এমন কি অভিযোগে জানায়, পরবর্তীতে কৌশলে কোন কোন সদস্যকে প্রকল্প সমূহের সভাপতি দেখিয়ে প্রথম কিস্তি ও উত্তোলন করে নিয়েছে।

পরবর্তীতে ঐ সমস্ত সদস্যগণ জানতে পারলে ইউপি চেয়ারম্যান দিদারকে সরকারী রোল অনুযায়ী কাজ হচ্ছেনা বলে স্মরণ করিয়ে দেন। অনেক ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানকে জানিয়ে দেয়,পরবর্তীতে প্রকল্পে সঠিক নিয়মে কাজ না হলে বিল উত্তোলনে স্বাক্ষর করবেনা। কিন্তু এসবে ও কোন কাজে আসছেনা বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সদস্যরা।

অভিযোগে বলেন, গত ১ বছরের মধ্যে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের ২টি সভাও আহ্বান করেন। সর্বশেষ সভা আহ্বান করেছিলো গত ১৪ অক্টোবর ২০১৭ সালে। যদিও সর্বশেষ সভাও কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হয়। এরপর পরিষদে আর কোন সভা আহ্বান বসেনি বলে জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ।

অভিযোগকারীরা হলেন, ইউপি সদস্য ওসমান গনি, নাজিম উদ্দীন, মো. ইলিয়াছ, সাজ্জাদ খাঁন ও মহিলা ইউপি সদস্য শাহীনুর আকতার।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ওসমান গনি বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের সাথে অনেকদিন ধরে মাসিক সভা করছে না। অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থআতœসাৎ, স্বজনপ্রীতি, একনায়কতন্ত্র ভাবে সরকারী সব বরাদ্ধ এলএসপি,বার্ষিক ১%, টিআর কাবিখা, কাবিটা, বাজার ফান্ড রাজস্বসহ বিভিন্ন বরাদ্ধ থেকে বি ত করে আসছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার চেয়েছেন সদস্যরা।

এ ব্যাপারে বড়উঠান ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, এ অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে মনে করি।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) বিজেন ব্যানার্জী বলেন, শুনেছি অভিযোগ হয়েছে জেলা স্থানীয় সরকার কর্মকর্তার কাছে। অভিযোগের কোন কপি এখনো হাতে আসেনি আসলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ ২নং বড়উঠান ইউনিয়নের বিষয়ে নানা অভিযোগ শুনেছি। দুএকদিন আগে একটি অভিযোগের কপিও পেয়েছি। যেহেতু উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ করেছে আশাকরি বিষয়টির একটা সুন্দর সমাধা হবে।

Top