প্রধান শিক্ষক নেই, মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে ‘পূর্ব গুমানমর্দন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’

FB_IMG_15232513168517014.jpg

মানবাধিকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রাম খ্যাত গুমানমর্দন ইউনিয়নের হালদা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘পূর্ব গুমানমর্দন সরকারী প্রাইমারী বিদ্যালয়’- এ দীর্ঘ ১ বছর যাবৎ প্রধান শিক্ষক নেই, মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠ দান ।

১৯৬৩ সালে বিশিষ্ট আইনজীবী ও তদানীন্তন বৃহত্তর গুমানমর্দন ইউনিয়ন কাউন্সিল চেয়ারম্যান মরহুম এডভোকেট আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্‌য়্যার উদ্যোগে ও প্রচেষ্টায় এবং স্থানীয় গণমাণ্য ব্যক্তিদের আন্তরিক সহায়তায় এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।
১৯৭৭ সালে স্কুলটি সরকারীকরণ হয় । হালদার তীরে উক্ত গ্রামের জন্য স্কুলটি একমাত্র আলোকবর্তিকা শত শত শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয় থেকে অধ্যায়ন করে বর্তমানে দেশে বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত আছেন । ৫/৬ বছর যাবৎ হালদার ভাঙ্গনের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে ।
সম্প্রতি নদী রক্ষা ব্লক স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আবার বাড়তে থাকে । বর্তমানে প্রায় দেড়শত শিক্ষার্থী উক্ত বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত । একই ইউনিয়নে ৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শুধু এই বিদ্যালয়ের ৪জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে । শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধূলাতেও তারা বিপুল পারদর্শিতা প্রদর্শন করে আসছে ।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মাত্র ৩ জন শিক্ষক দ্বারা এই প্রাচীন বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । মহাসড়ক থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে কোন শিক্ষক এখানে থাকতে চায় না । ১ বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ এজাহারুল হক । সেই থেকে বিদ্যালয়টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে । সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদে দায়িত্বরত সিনিয়র শিক্ষক শিমুল কান্তি বড়ুয়াও ট্র্যান্সফার হয়ে যান । ফলে বর্তমানে (৩ জনের মধ্যে) ১ জন জুনিয়র শিক্ষক জিশান সাবরিনা জিতু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন । স্কুলটির প্রতি কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ ।

একজন প্রধান শিক্ষক ও কমপক্ষে ৩ জন নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্কুলটিকে সচল রাখার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন- বিএইচআরএফ – এর ডিরেক্টর অরগানাইজিং ও চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্‌সান, বিএইচআরএফ হাটহাজারী উপজেলা শাখা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোহাম্মদ আলী এবং হাটহাজারী পৌর শাখার সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মালেক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, চ.বি সিন্ডিকেট সদস্য এডভোকেট মুহাম্মদ নুরুল আমিন ও মানবাধিকার আইনজীবী জান্নাতুল নাঈম রুমানা, একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মোহাম্মদ এমরান (প্রাক্তন শিক্ষক), বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রফিকুল আনোয়ার, স্কুল পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ লোকমান মাস্টার, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক আলম, সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান, স্থানীয় ইউ পি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক মুজিব, মোঃ শফিউল আলম মেম্বার, সাবেক মেম্বার আব্দুল হক ওহাব, সাবেক স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ শফিউল আলম মানিক, সহ সভাপতি এহ্‌সানুল হক সহ মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ নেজাম উদ্দিন প্রমুখ এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে উক্ত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সহ ৩ জন নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই অনুন্নত পল্লি গ্রামের অবহেলিত বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষা জীবন রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান । সাথে সাথে তারা জীর্ণশীর্ণ বিদ্যালয় ভবনের ব্যাপক সংস্কার ও বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ কামনা করেন ।

Top