চলে গেলেন না ফেরার দেশে মাওলানা আব্দুস সালাম কুদসি,জানাযায় শোকাহত মানুষের ঢল

acf7327851dda192f7c30766e16458c3.jpeg

দিদারুল আলম জিসান :

বেপরোয়া যানবাহনের জগন্যতম শ্যামলীমা পরিবহনের সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিশিষ্ট দানবীর সমাজ সেবক আলহাজ্ হযরত মাওলানা আব্দুস সালাম কুদসি। জানাযায় হাজার হাজার মানুষের ঢল। গত ২৯শে মার্চ ২০১৮ইং তারিখে বিকাল ৫.০০ ঘটিকায় তার মোটর বাইক নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার সময় চট্টগ্রামগামী বেপরোয়া শ্যামলীমা পরিবহন যার নং- ১৪-৮৮৭০ গাড়িটি রামু কলেজের সামনে এসে মাওলানা কুদসি কে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা মেরে শ্যামলীমা গাড়ির চাকা তার ডান পাশের উরু ও ডান পায়ের উপর দিয়ে চরে যায়। তাৎক্ষনিক তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় থাকলেও ঘটনা স্থলে গুরুতর আহত হন মাওলানা আব্দুস সালাম কুদসি। হাইওয়ে রোডের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখলে তাৎক্ষনিক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তাররা তার অবস্থা আশংকাজনক দেখতে পেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরমর্শ দেয়। হাসপাতালে নিতে রাস্তার যানজটের কারণে দেরী হলে আস্তে আস্তে আহত মাওলানা আব্দুস সালামের অবস্থা অবণতি হতে থাকে। মৃত্যু সাথে যুদ্ধ মাওলানা আব্দুস সালাম কুদসির শেষ রক্ষা হলনা। প্রায় ৪/৫ ঘন্টা এম্বোলেন্স চালিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগে পৌছানো হয় তাকে। একদিকে তার ডান পা ভেঙ্গে ৮-১০ খন্ড হয়ে গেছে। অন্যদিকে পায়খানার রাস্তা ছিড়ে অন্ডকোষ পর্যন্ত চিড়ে গেছে। ব্লাড বন্ধ করতে পারছিলনা কোনমতে ডাক্তাররা। প্রায় ৬ দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করার পরেও ডাক্তারেরা কোন মতে তার অবস্থা উন্নত করতে পারেনি। পরে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ০৭/০৪/২০১৮ইং ভোর ৫.০০ ঘটিকার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুস সালাম কুদসি। মৃত্যুর সময় তিনি ২ স্ত্রী, ২ ছেলে, ২ মেয়ে ও ভাই-বোন সহ অসংখ্যা আত্মিয় স্বজন রেখে যান। মাওলানা আব্দুস সালাম কুদসি ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের  কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন দীর্ঘ দিন যাবৎ। রামুর রাজারকুল আসমা ছিদ্দিকা বালিকা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিচালক ছিলেন এবং রামু বাইপাস সংলগ্ন সালাম মার্কেটের মালিক ছিলেন।

আব্দুস সালামের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওমীলীগ, যুবলীগ, ওলামালীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, সৈনিকলীগ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, তাঁতীলীগ, বাস্তুহারালীগ সহ আওয়ামীলীগের সমস্ত সহযোগী অঙ্গসংগঠন সহ ইসলামি অঙ্গসংগঠন সকল শ্রেণির পেশাজীবী মানুষ এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আব্দুস সালামের মৃত্যুতে তার পরিবার ও পুরো রামু এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের এমপি আলহাজ্ব সায়মুম সরওয়ার কমল ও রামু উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সভাপতি রিয়াজুল আলম রামু উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল, সাধারন সম্পাদক শামশুল আলম মন্ডল, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনিন সরওয়ার কাবেরী প্রমূখ। তাছাড়া জানাযার মাঠে একাদিক জনতা তার মত একজন দেশ বরেন্য আলেম হারানোর বেদনা প্রকাশ করেন এবং তার রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।

Top