ফলোআপ–খুরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র বলাৎকারের ঘটনায় আটক ২ ছাত্র  কারাগারে।।

30020458_1636370936418395_1959318212_n-1.jpg

ফাইল ছবি

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার: 

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনের খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র বলৎকারের শিকারের ঘটনায় ভিকটিমের মাতা শাহীনা আক্তার বাদী হয়ে অহিদুল ইসলাম শাহীন(১৫) পিতা- আলতাজ আহম্মদ,মাতা- আমেনা খাতুন সাং ডিকপাড়া, পিএমখালী,উপজেলা সদর,কক্সবাজারকে ১ নং আসামী ও হ্নদয় শর্মা(১৪),পিতা-সোপাল শর্মা,মাতা-ছবি রাণী শর্মা,সাং-পূর্ব মেরংলোয়া, ফতেখারকুল, রামু,কক্সবাজার হাল সাং-পূর্ব ধেছুয়া পালং,হিরার দ্বীপ,খুনিয়া পালং,রামু,কক্সবাজারকে ২ নং আসামী করে মাত্র ২ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (০৫ এপ্রিল) কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৯(১)/৩০-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী -২০০৩;ধর্ষন ও সহায়তা করার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার নং-৯/২৩০/তাং-০৫/০৪/২০১৮ ইং।

এদিকে ঘটনার পর পরই বুধবার(০৪ এপ্রিল) রাত্রে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নোমান হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে একদল পুলিশ খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ২ ছাত্র অহিদুল ইসলাম শাহীন(১৫) ও হ্নদয় শর্মা(১৪) কে আটক করে বৃহস্পতিবার(০৫ এপ্রিল) বিকালে আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন না-মঞ্জুর করে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

এদিকে থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাত ১ ঘটিকার সময় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে আটককৃত ওই স্কুলের ১০ শ্রেণীর ২ ছাত্র কর্তৃক বলৎকারের শিকার হন স্কুল ছাত্রাবাসে থাকা ওই স্কুলের সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক ছাত্র ( সংগত কারনে নাম প্রকাশ করা হল না)।পরে বুধবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)তে ভর্তি হন ভিকটিম। ঘৃণিত ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হাসপাতালে দেখতে যান কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন প্রিন্স। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।এরপরই কক্সবাজার সদর মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযানে গিয়ে অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে রাত ১০ টার দিকে আটক করে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে অভিযানকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সোলতান, ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনসহ মান্যগন্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ভিকটিম ও তার মাতা অভিযোগ (অড়িও ও ভিড়িও ভয়েস ওরেকর্ড সংরক্ষিত) অভিযোগ করেন, হৃদয় শর্মা ও অহিদুল ইসলাম শাহীন বেশ কিছু দিন ধরে তার ছেলেকে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে বলৎকার করে আসছিল। তারা ঘটনাটি প্রকাশ না করতে ভিকটিমকে চাপ দেয়। ভয়ে ঘটনার কথা কাউকে বলেনি।স্কুলের শিক্ষকরাও তাকে ঘটনাটি প্রকাশ না করতে ভয় দেখায়। অবশেষে ভিকটিমের কুসুমে ব্যথা অনুভব হওয়ায় বুধবার (৪ এপ্রিল) সকালে প্রকাশ করে।বলৎকারের শিকার ছাত্রের মা (নাম প্রকাশ করা হলোনা) দুঃখ ও আবেগভরা ভাষায় বলেন, আমার ছেলেকে ভাল রেজাল্ট করার জন্য হোস্টেলে দিয়েছিলাম।হোস্টেলে ভর্তি করার পর প্রায় সময় তাকে নির্যাতন করা হতো বলে জানাতো।আমি বিশ্বাস করতাম না।মনে করতাম,লেখাপড়ার ভয়ে এসব বলছে। এরপরও আমার বাচ্চাকে চাপ সৃষ্টি করে হোস্টেলে পাঠাই।পরবর্তীতে এ সমস্যার কথা শুনতে পাই।গতকাল (৪ এপ্রিল) আমার ছোট বোন হোস্টেলে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে, আব্বু তুমি কেমন আছ? এরপর সমস্যা সে তার ঘটনাটি বিস্তারিত  খোলে বলে আমাদের।
এব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মাতা শাহীনা আক্তার বাদী লিখিত থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করিলে উক্ত এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করিয়া আসামীদেরকে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২ মাস আগে ওই স্কুলে এক অভিভাবকের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। পরে এই ঘটনায় মামলা দায়ের হলে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছে বলে জানা গেছে।

Top