বাংলাদেশে কায়াকিং!!!!

PicsArt_04-04-10.16.53-01.jpeg

তোফায়েল আহম্মেদ,ঢাকা কলেজ :

বাংলাদেশে কায়াকিং!
শুনে অনেকে হয়ত ভাবছেন কায়াকিং আবার কি?
কিংবা ভাবছেন বাংলাদেশে কায়াকিং চালু হইছে  আমি জানি নাহ!ভাবাটা অস্বাভাবিক কিছু না।আপনি হয়ত সিনেমায় বা ইউটিউব বা টিভিতে কায়াকিং দেখেছেন।
কায়াকিং আমাদের দেশে সম্প্রতি চালু হলেও অন্যান্য দেশে অনেক আগে থেকেই কায়াকিং চালু আছে।

কায়াকিং হচ্ছে একধরনের স্পোর্টস।অত্যন্ত এডভেঞ্চার আছে কায়াকিং এ।সোজা বাংলা কথায় কায়াকিং হচ্ছে,  ছোট নৌকা চালানো।
কায়াকিং এর জন্য “কায়াক” নামে এক ধরনের বিশেষ নৌকা ব্যবহার করা হয়।বর্তমান সময়ের অধিকাংশ কায়াকই ফাইবারগ্লাস, রোটোমোল্ডেড পলিথিন, থার্মোফর্মড প্লাস্টিক, ব্লো মোল্ডেড পলিথিন অথবা কার্বন কেভলার দিয়ে তৈরি৷ এছাড়া কার্বন ফাইবার এবং ফোম কোর ইত্যাদি বস্তুও ব্যবহার করা হয়৷ কিছু কিছু কায়াক প্লাই উড অথবা উড স্ট্রিপ ফাইবার গ্লাস দ্বারা আবৃত করার মাধ্যমে হাতে তৈরি করা হয়।
ছোট বড় দুই ধরনের কায়াক পাওয়া যায়।ছোট গুলাতে সাধারনত ১ জন এবং বড় গুলাতে ২/৩ জন উঠা যায়।কায়াক চালানোর জন্য রয়েছে PADDLE.
কায়াকের ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যায়, কানাডার আলেস্কোতে প্রথম কায়াকের ব্যবহার শুরু হয়। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ –পশ্চিম উপকূলে বসবাসরত এস্কিমোরা সিল মাছ শিকারের জন্য, হালকা কাঠের তক্তা এবং সিলের চামড়া দিয়ে তৈরি এক প্রকারের নৌকা ব্যবহার করত। এই নৌকাগুলোকে বলা হত (Ice kayak).১৯৮৪ সালে প্রথম আধুনিক কায়াকের ব্যবহার শুরু হয়।
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কায়াকিং চালু করে
“কাপ্তাই কায়াক ক্লাব “।এটি চট্টগ্রাম এ অবস্থিত।
বর্তমানে আরও দুই জায়গাতে কায়াকিং চালু রয়েছে।
একটি হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মহামায়া লেকে।এটি মাহামায়া কায়াকিং পয়েন্ট নামেই পরিচিত।অপরটি হচ্ছে খাগড়াছড়িতে অবস্থিত মায়াবিনী কায়াকিং পয়েন্ট।
অতি শীঘ্রই সিলেটে কায়াকিং চালুর কথা রয়েছে।সে ক্ষেত্রে ভ্রমন পিপাসুদের কে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটি দিন।

কায়াকিং এর খরচঃ
কাপ্তাই ও মহামায়া তে কায়াকিং করার জন্য ঘন্টা প্রতি আপনাকে গুনতে হবে ৩০০ টাকা।তবে আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ১০০ টাকা ডিসকাউন্ট এ কায়াকিং করতে পারেবেন।
মায়াবিনীতে আধা ঘন্টা কায়াকিং ৫০ টাকা।

সকাল ৯ টা থেকে সূর্যাস্ত অব্দি কায়াকিং করতে পারবেন।তবে এর আগে পরে করতে চাইলে কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে নিতে পারেন।

কায়াকিং অত্যন্ত নিরাপদ ও আনন্দময়।কায়াকিং একজনে করা যায় কিংবা দুইজনেও করা যায়।আর চালানোর পদ্ধতি সহজ তাই যে কেউ চাইলেই চালাতে পারে। কায়াকিং করার সময় আপনাকে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে দেওয়া হবে।সুতরাং যারা সাতার পারি না ভেবে পানিতে যেতে চান না তাদের কোন ভয় নেই।যদি কোন কারনে কায়াক উল্টেও যায় যাত্রীরা পানিতে ভেসে থাকবে।
কায়াকিং এর সবচেয়ে পজিটিভ ব্যাপার হলো কায়াক বোট পরিবেশবান্ধব। কারন এইটা চালানোর জন্য  তেল/ডিজেল/পেট্রোল ইত্যাদি প্রয়োজন হয় না।

কিছু  টিপসঃ
♦কায়াকিং করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পড়তে হবে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া আপনাকে বোটে উঠতে দেয়া হবে না। অনেক পর্যটক আছেন যারা তর্কাতর্কি করেন যে লাইফ জ্যাকেট পড়বেন না।
♦আর নিরাপত্তার খাতিরে বেশ কিছু বিধি নিষেধ আছে, সেগুলো মেনে চলা উচিত। যেমন একটা নির্দিষ্ট এলাকার ভিতর থাকতে হবে।কতৃপক্ষ যেদিকে যেতে নিষেধ করে সেদিকে যাওয়া উচিত নয়।
♦ কায়াকিং শুরু হওয়ার পর কোথাও নেমে ছবি তুলা বা কায়াক এর উপর দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকুন।

Top