শহরের দক্ষিন ডিককুলে খোকনকে জবাই করে হত্যার ঘটনার মূলনায়কসহ আটক-৪

received_1632238003498355.jpeg

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার:
গতকাল শুক্রবার (৩০ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০ টা ৩০ মিনিটের সময় কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিন ডিককুল গয়ামতলী এলাকায় মাষ্টার নেজামের বসতবাড়ির দক্ষিনের রাস্তায় ওই এলাকার দিনমজুর আবদুচ্ছবিরের পুত্র খোকন (১৭) কে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ হাজিপাড়া এলাকার মৃত দানু মিয়ার পুত্র সন্ত্রাসী জাকায়ার নেতৃর্ত্ব একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কতৃর্ক জবাই করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ঘাতকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র তড়িৎ গতিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) কামরুল হাসান ও ওসি (অপারেশন) মাঈন উদ্দিনের নেতৃত্ব পুলিশের পৃথক ঠিম ঘটনাস্হল পরিদর্শন এবং ঘটনার পর থেকে অর্থাৎ শুক্রবার রাত ১১ ঘটিকা হতে শনিবার ভোর সকাল পযর্ন্ত ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিন
হাজিপাড়া ও লিংক রোড় এলাকায় স্হানীয় এমইউপি সদস্য জহির মিয়া কাজল ও কুদুরত উল্লাহ সিকদারের সহযোগীতায় পৃথক পৃথক স্হানে শাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের মূল হোতা ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিন হাজী পাড়া এলাকার বঙ্গ ফজলের ছেলে রাসেল,একই এলাকার মৃত দানু মিয়ার ছেলে জাকারিয়া,একই এলাকার মহিবুল্লার ছেলে বার্মাইয়া আরিফ ও নুরুল হাকিমকে ছোরা ও কিরিচসহ গ্রেফতার করে এবং পুলিশ ঘটনাস্হল থেকে নিহত খেকনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে শনিবার(৩১ মার্চ) বিকালে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন। এদিকে খোকনের লাশ তার বাড়িতে নিয়ে আসলে এক হ্নদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়ে।নিহতের মাতা ছছেলের লাশ দেখে বার বার অজ্ঞান হয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছে।পুরো এলাকা জুড়ে এখন শোকের মাতম বইছে। আজ শনিবার এশারের নামাজের পর দক্ষিণ ডিককুল বায়তুল লতিফ জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্টিত হবে বলে জানান নিহতের পিতা আবদুচ্ছবি। 
এদিকে এই প্রতিনিধি ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত ঘটনার বিষয়ে জানতে শনিবার সকালে সরজমিন ঘটনাস্হল পরিদশর্ন,এলাকার জনসাধারণ ও স্হানীয় এমইউপি সদস্য জহির মিয়া কাজলের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক রোহিঙ্গা যুবতির প্রেমের ঘটনায় জীবন দিতে হল নিরপরাধ যুবক খোকনকে। আসল ঘটনা হল,ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিন হাজী পাড়া এলাকার বঙ্গ ফজলের ছেলে গ্রেফতারকৃত রাসেলের সাথে একই ইউনিয়নের দক্ষিন ডিককূল গয়ামতলী এলাকার. দক্ষিন ডিককূল গয়ামতলী এলাকার জনৈক বার্মাইয়া রশিদ আহমদের মেয়ে পাতলীর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এদিকে বিষয়টি বার্মাইয়া কিশোরী পাতলীর পিতা রশিদ আহমদের পছন্দ না হওয়ায় পাতলীর সাথে একই এলাকার বার্মাইয়া এলএমভির পুত্র আবদুল্লার সাথে বিবাহ ঠিক করে এবং ঘটনার দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাত্রে তাদের কাবিন হওয়ার দিন ধার্য্য হয়। এদিকে বিষয়টি প্রেমিক রাসেল জানতে পারে পাতলী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন রকম হুমকি প্রদর্শনসহ কাবিনের আসর থেকে তার প্রেমিক বার্মাইয়া পাতলীকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিলে বিষয়টি ঠেকানোর জন্য পাতলীর পিতা রশিদ আহমদ টাকার বিনিময়ে একই এলাকার আরমান ও লোকজনকে ঠিক করে রাখে।কাবিনের দিন শুক্রবার দুপুরে বঙ্গ ফজলের পুত্র প্রেমিক রাসেল দক্ষিণ ডিককুলে আসলে আরমান ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা রাসেলকে পিঠিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেয়।
এতে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে ওইদিন রাত অর্থাৎ শুক্রবার রাত ১০ টা ৩০ মিনিটের সময় পাহাড় পথে গয়ামতলী হয়ে দক্ষিণ ডিককুলে প্রবেশ করে আরমান খুজতে তার বাড়ি গিয়ে খোকনকে আরমান ভেবে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

Top